বাড়তে পারে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা, আশঙ্কাকে উড়িয়ে দীপাবলিতে সামাজিক মেলবন্ধনে আগ্রহী ৬৭ শতাংশ
করোনা আতঙ্কের মধ্যেও ৬৭ শতাংশ মানুষ সামাজিক মেলবন্ধনে আগ্রহী, দাবি সমীক্ষার
চলতি বছরে যদিও বচ্চন পরিবার, অক্ষয় কুমারের পরিবার বা শাহরুখ খান দীপাবলির অনুষ্ঠান করছে না। করোনা মহামারীকে মাথায় রেখে তারকারা দীপাবলির অনুষ্ঠান থেকে নিজেদের বিরত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। বর্তমানে ভারতে করোনা পরিস্থিতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে। কিন্তু সামাজিক অনুষ্ঠানের জেরে, জমসমাগমের জেরে করোনা পরিস্থিতি ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে বলে বিশেজ্ঞরা মনে করছেন। বিশেষজ্ঞদের আতঙ্ক উড়িয়ে দীপাবলিতে মেতে উঠতে বেশীরভাগ ভারতীয় আগ্রহী। একটি সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে, করোনা বৃদ্ধির সম্ভাবনা বেড়ে যাবে জেনেও ৬৭ শতাংশ ভারতীয় দীপাবলির উৎসবে মেতে উঠতে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।

বুধবার ভারতে নতুন করে ১৯৪৬ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। ১০ জনের করোনায় মৃত্যু হয়েছে। একটি সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে ৬৭ শতাংশ ভারতীয় দীপাবলির অনুষ্ঠানে মেতে ওঠার পরিকল্পনা করছেন। তাঁরা একত্রিত হওয়ার পরিকল্পনা করছেন। লোকাল সার্কেল নামের একটি সংস্থা এই সমীক্ষা করে। তাঁরা জানিয়েছেন, দেশের বেশিরভাগ মানুষ করোনা নিয়ে বিশেষ চিন্তিত নয়। তবে বিজ্ঞানীরা মনে করছেন, দীপাবলিকে কেন্দ্র করে দেশের করোনা পরিস্থিতি ভয়ঙ্কর আকার ধারণ করতে পারে।
সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে, আগামী ১৫ দিনের মধ্যে প্রতি তিনটি পরিবারের মধ্যে দুটো পরিবার কোনও অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করতে চলেছে।সমীক্ষায় প্রথম প্রশ্ন করা হয়েছিল, আগামী ১৫ দিনের মধ্যে আপনি কোনও অনুষ্ঠানে অনেক মানুষের সঙ্গে যোগ দিতে চলেছেন? ১৬ শতাংশ মানুষ দীপাবলিত উপলক্ষে একত্রিত হওয়ার পরিকল্পনা করেছেন। ১১ শতাংশ মানুষ জন্মদিন ও অন্যান্য সামজিক অনুষ্ঠানে একত্রিত হওয়ার পরিকল্পনা করেছেন। তিন শতাংশ মানুষ কর্মক্ষেত্রে বা অন্যান্য বিভিন্ন অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার পরিকল্পনা করেছেন। সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে, ১১ শতাংশ মানুষ তিন ধরনের অনুষ্ঠানেই যোগ দানের ইঙ্গিত দিয়েছেন।
জয়পুর-ভিত্তিক ছাত্র পুলকিত শর্মা বলেছেন, তিনি একটি অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন। সেখানে যথেষ্ঠ জনসমাগম হবে। পাশাপাশি তিনি বলেছেন, দুই বছর পর কোনও অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন। সেই কারণে তিনি অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন। মহারাষ্ট্রের ঔরঙ্গাবাদের এর গৃহবধূ বলেছেন, তাঁর বন্ধুদের বাড়িতে ডেকেছেন। দীপাবলির দিন তাঁরা একত্রিত হওয়ার পরিকল্পনা করছেন। যদিও রায়পুরের নীতীশ রাজ বলেছেন, দীপাবলির দিন তিনি বাড়িতেই থাকবেন। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সময় কাটাবেন। বাইরে যাওয়া, অনেকের সঙ্গে একত্রিত হওয়ার কোনও পরিকল্পনা তাঁর নেই।
গত বছরের তুলনায় চলতি বছরে দীপাবলির সময় একাধিক মানুষের সঙ্গে একত্রিত হওয়ার পরিকল্পনা খুব কম মানুষের ছিল। ২০২১ সালের শুরুর দিকে করোনা মহামারী ভয়াবহ আকার ধারণ করেছিল। পরিস্থিতির জেরে মানুষ কিছুটা আতঙ্কিত হয়ে পড়েছিলেন। ৪৮ শতাংশ মানুষ দীপাবলির সময় বাইরে অনুষ্ঠান বা গেট টুগেদারের পরিকল্পনা করেছিল। চলতি বছর যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬৭ শতাংশ।












Click it and Unblock the Notifications