রাজনীতি থেকে গ্ল্যামার জগতের অন্দরমহল, অমর সিংয়ের বিচরণ ছিল সর্বত্র!
চলে গেলেন রাজ্যসভার সাংসদ অমর সিং। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স ছিল ৬৪। দীর্ঘদিন ধরে কিডনিজনিত সমস্যায় ভুগছিলেন। সিঙ্গাপুরের এক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন৷ সেখানেই আজ শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন। দীর্ঘ সময় সমাজবাদী পার্টির সাধারণ সভাপতি ছিলেন অমর সিং। ২১ শতকের প্রথম দশকে দেশের প্রথম সারির নেতাদের মধ্যেই ছিলেন তিনি।

সমাজবাদী পার্টির অন্যতম শীর্ষ নেতা
দীর্ঘ দিন সমাজবাদী পার্টির অন্যতম শীর্ষ নেতা ছিলেন অমর। দলের সুপ্রিমো মুলায়ম সিংহ যাদবের সঙ্গে তাঁর সম্পর্কের কথা সর্বজনবিদিত ছিল। ১৯৯৬ সালে প্রথম বার রাজ্যসভার সাংসদ নির্বাচিত হন অমর সিংহ। সমাজবাদী পার্টির সাংসদ। তার পর ২০০২ এবং ২০০৮ সালেও রাজ্যসভার সাংসদ নির্বাচিত হন তিনি।

অমরকে বহিষ্কার করা হয়
কিন্তু ২০১০ সালে দল থেকে অমরকে বহিষ্কার করা হয়। মুলায়ম সিংহ যাদবের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত ছিলেন অমর। তবে ২০১০ সালের শুরুতেই তিনি সপা-র সাধারণ সম্পাদক পদ থেকে ইস্তফা দেন। পরে তাঁকে দল থেকে বহিষ্কার করেন মুলায়ম। পরে নিজের দল গড়েন অমর। তবে বিশেষ সুবিধা করতে পারেননি তিনি। পরে ২০১৬ সালে নির্দল প্রার্থী হিসেবে ফের রাজ্যসভায় নির্বাচিত হন অমর। তবে তাঁকে সমর্থন করেছিল সমাজবাদী পার্টি।

সব মহলে বন্ধুত্ব ছিল
এক সময় বচ্চন পরিবারেরও খুব ঘনিষ্ঠ ছিলেন অমর সিংহ। কিন্তু ২০১৬ সালে সেই সম্পর্কে চিড় ধরে। শোনা যায়, সমাজবাদী পার্টির নেত্রী জয়া বচ্চনের সঙ্গে কিছু বিষয়ে মতবিরোধ হয় তাঁর। জয়ার বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ নিয়ে সরব হন তিনি। তাতেই গোটা পরিবারের সঙ্গে তাঁর সম্পর্কে চিড় ধরে। বন্ধুত্ব ছিল বিড়লা, অনিল আম্বানি, মুকেশ আম্বানিদের সঙ্গেও।

সরকার বাঁচিয়ে হয়ে ওঠেন মসিহা
এর আগে ২০০৮ সালে মার্কিন পরমাণু চুক্তি ঘিরে কেন্দ্রীয় রাজনীতি যখন টালমাটাল, কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইউপিএ সরকার থেকে বেরিয়ে যায় বামেরা। সেই সময় সমাজবাদী পার্টির সমর্থনে সরকার টিকে যায়। অমর সিংহের তৎপরতাতেই সে বার কংগ্রেস-সমাজবাদী পার্টির যোগসূত্র গড়ে উঠিছিল।

শেষের লড়াই
বিগত কয়েক মাস ধরে সিঙ্গাপুরের ওই হাসপাতালে তাঁর চিকিৎসা চলছিল । শেষ কিছুদিন তিনি আইসিউ-তে ছিলেন। এর আগে ২০১৩ সালে তাঁর কিডনি বিকল হয়ে যায়। সেসময়ে তাঁর কিডনি প্রতিস্থাপন করা হয় । আজ সকালেও বাল গঙ্গাধর তিলকের মৃত্যুবার্ষিকীতে টুইট করেন তিনি। পাশাপাশি অনুগামীদের বখরি-ইদের শুভেচ্ছাও জানান। শারীরিক অসুস্থতার মধ্যেও সাংসদ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন অমর সিং। ২২ মার্চ তিনি হাসপাতালের বেডে শুয়েই অনুগামীদের জন্য টুইটারে একটি ভিডিয়ো শেয়ার করেন। সেই ভিডিয়োয় করোনা মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রীর পাশে দাঁড়ানোর জন্য অনুগামীদের কাছে অনুরোধ করেন৷












Click it and Unblock the Notifications