তুতিকোরিণের আরও একটি ভিডিও আরও একবার চরম অমানবিক পুলিশ, দেখুন
ফাঁস হওয়া এক বিস্ময়কর ভিডিওতে, দেখা গিয়েছে তুতিকোরিনের পুলিশ রাস্তায় পড়ে থাকা এক মরণাপন্ন প্রতিবাদীকে বলছে, অ্যাক্টিং বন্ধ করে পালা।
আরও একবার তুতিকোরিনে পুলিশের অমানবিক আচরণের ভিডিয়ো সামনে এল। ২২ মে আন্দোলনকারীদের ওপর পুলিশের গুলি চালনা নিয়ে সারা দেশে নিন্দা হলেও তাতে হেলদোল নেই স্থানীয় পুলিশের। ভয়াবহ ওই ঘটনার পরদিনই অর্থাত ২৩ মে আবারও চলে পুলিশের রাইফেল। নিহত হন ২২ বছরের যুবক কালিয়াপ্পান। সংবাদমাধ্যমের হাতে আসা এক ভিডিও ফুটেজে দেখা গিয়েছে পুলিশের গুলি খেয়ে কালিয়াপ্পান যখন মৃত্যুর সঙ্গে শেষ লড়াই করছেন, পুলিশ সেসময় তাকে বলছে, 'অ্যাক্টিং করিস না'।

২২ তারিখ তুতিকোরিণের কালেক্টরেট চত্ত্বরে বেধেছিল সংঘর্ষটা। যেখানে পুলিশের গুলিতে নিহত হন স্টারলাইট করখানা বিরোধী আন্দোলনে যোগ দেওয়া ১১ জন। তার রেশ কাটতে না কাটতেই ভিক পড়দিনই আবার বিক্ষোভককারীদের ওপর গুলি চালায় পুলিশ। এবার ঘটনাস্থল আন্না নগর এলাকা। আগের দিনের পুলিশের গুলি চালানোর ঘটনার প্রতিবাদ জানাতে এসে প্রাণ যায় কালিয়াপ্পানের।
যে ভিডিয়ো ফুটেজটি এসেছে তাতে দেখা যাচ্ছে, গুলি খেয়ে রাস্তায় পড়ে আছেন কালিয়াপ্পান। তাঁকে ঘিরে গিজগিজ করছে পুলিশ। সবার পরণে পুরোদস্তুর 'রায়ট গিয়ার'। একজন পুলিশ পা দিয়ে তাঁর হাতটা বুকের ওপর তুলে দিলেন। হাতটা মাটিতে পরে গেল। এরপর কালিয়াপ্পানের মাথাটা সামান্য নড়ে উঠতেই পাশে দাঁড়ানো এক পুলিশ কর্মী বলেন, 'অ্যাক্টিং করিস না। ভাগ এখান থেকে'!
One cop prods the man lying on the ground and says, “stop acting, leave”. #SteriliteProtest pic.twitter.com/rcp6vWcsu7
— Anna Isaac (@anna_isaac) May 23, 2018
অভিযোগও এরপরও পুলিশ কালিয়াপ্পানকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার উদ্যোগ নেয়নি। দীর্ঘক্ষণ তাঁকে রাস্তায় ফেলে রাখা হয়। তাকে ঘিরে ধরে কার্যত দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে সময় নষ্ট করে পুলিশ। এমনকী কালিয়াপ্পানের পরিজনদেরও তাঁর কাছে ঘেসতে দেওয়া হয়নি। অবশেষে পুলিশ তাঁকে তুতিকোরিণ সরকারি হাসপাতালে নিয়ে যায়। কিন্তু ডাক্তাররা জানিয়ে দেন হাসপাতালে পৌঁছনোর আগেই তাঁর মৃত্যু হয়েছে।

গুলি চালানো তো ছিলই এখন এই ভিডিও প্রকাশ্যে আসার পর প্রশ্ন উঠছে তুতিকোরিনের পুলিশের এই কদর্য ব্যবহার নিয়েও। অনেকেই বলছেন কালিয়াপ্পাকে ইচ্ছে করে চিকিৎসাহীনভাবে রাস্তায় ফেলে রেখে মরতে দিয়েছে পুলিশ। নইলে আরও আগেই তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে হয়তো একটা তরতাজা ২২ বছরের প্রাণ হারাতে হত না।
তবে এর আগে ২২ তারিখের ঘটনার আরেকটি ভয়াবহ ভিডিও এসেছিল সংবাদ মাধ্যমের হাতে। যা থেকে স্পষ্ট বোঝা গিয়েছিল সেদিন প্রাণহানি যে হবে, সে কথা পুলিশের একটা অংশ আগেই জানত। এবং তুতুকোরিনে স্টারলাইট বিরোধী আন্দোলনকারীদের ওপর তারা জেনে বুঝে হত্যা করার জন্যই গুলি চালিয়েছিল। সেটা কোনও হঠাত ঘটে যাওয়া দুর্ঘটনা ছিল না। নতুন ভিডিওটি প্রকাশ্যে আসার পর, পুলিশ ও প্রশাসনের ভূিকা নিয়ে প্রশ্ন জোরালো হয়েছে।












Click it and Unblock the Notifications