উত্তর ভারত জুড়ে চলছে তীব্র শৈত্যপ্রবাহ, তবে এবারের বড়দিনে তুষারপাত দেখল না সিমলা-শ্রীনগর
বুধবার তীব্র শৈত্যপ্রবাহের সাক্ষী থাকল পাঞ্জাব, হরিয়ানা, রাজস্থান এবং উত্তর প্রদেশের কিছু অংশ সহ উত্তর ভারতীয় রাজ্যগুলি। প্রবল ঠান্ডা আঁকড়ে ধরল উত্তর ভারতের বাসিন্দাদের। অনেক বেলাতেও দেখা গেল কনকনে ঠান্ডার স্পেল। তবে শ্রীনগর এবং সিমলার মতো জনপ্রিয় স্নো স্পটগুলিতে এবছর "হোয়াইট ক্রিসমাস" এর আকর্ষণ মিস করল পর্যটকেরা। জাঁকিয়ে ঠান্ডা পড়লেও, কোথাও এবার বড়দিনে হল না তুষারপাত।
যেখানে শ্রীনগরে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা মাইনাস ৭.৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে, সেখানে লাহৌল এবং স্পিতি জেলার তাবো হিমাচল প্রদেশের সবচেয়ে শীতলতম স্থান ছিল। সেখানে রাতের তাপমাত্রা মাইনাস ১০.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে।

বুধবার আবহবিদরা জানিয়েছেন, হিমাচল প্রদেশে কয়েকটি জেলায় তুষারপাতের কারণে তিনটি ন্যাশনাল হাইওয়ে সহ ১৩৪ টি রাস্তা বন্ধ হয়ে গেছে। রাস্তা পরিষ্কার করার কাজ তৎপরতার সাথে করছে বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী।
এবার এক নজরে দেখে নেওয়া যাক উত্তর ভারতের রাজ্য গুলির আবহাওয়ার হালহকিকত।
দিল্লি: ২৫ ডিসেম্বর বড়দিনের দিনে রাজধানীর সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ২২.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে, যা স্বাভাবিকের থেকে ২ ডিগ্রি বেশি ছিল। আর সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৮.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা স্বাভাবিকের থেকে ১.৫ ডিগ্রি কম।
কাশ্মীর: কাশ্মীরের বেশিরভাগ জায়গায় ন্যূনতম তাপমাত্রা হ্রাস পেয়েছে। কারণ উপত্যকায় আবহাওয়া প্রতি বছর এরকমই থাকে। আগামী দুই দিনে কাশ্মীরে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ২ থেকে ৩ ডিগ্রি কমার পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া দফতর। গুলমার্গ বাদে, কাশ্মীর উপত্যকার অন্য সব আবহাওয়া কেন্দ্রে রাতের তাপমাত্রা কমেছে। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল, 'চিল্লাই-কালান'। এছাড়াও 'গুলমার্গ' তো রয়েইছে। গুলমার্গে রাতে মাইনাস ৭.৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস থাকছে এবং দিনে থাকছে মাইনাস ৬.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস৷
তবে, পর্যটকরা ক্রিসমাসে শ্রীনগরে তুষারপাত না দেখে দুঃখ প্রকাশ করেছেন। যারা শুধুমাত্র তুষারপাতের আনন্দ উপভোগ করতে বড়দিনে ভিড় জমিয়েছিলেন সেখানে, তারা কার্যত হাহুতাস করছেন।
হিমাচল প্রদেশ: হিমাচল প্রদেশে অতিরিক্ত তুষারপাতের ফলে ন্যাশনাল হাইওয়ে সহ ১৩৪টি রাস্তা বন্ধ হয়ে গেছে। জোত এলাকায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা কয়েক ডিগ্রি কমে যাওয়ায় প্রবল শীতে কাঁপছে সেখানকার মানুষ। গত ২৪ ঘন্টায় ১০ সেন্টিমিটার তুষারপাতও হয়েছে এখানে। সিমলা জেলায় সর্বাধিক ১২৩টি রাস্তা, লাহৌল এবং স্পিতিতে ৩৬টি এবং কুল্লুতে ২৫টি রাস্তা বন্ধ রয়েছে তুষারপাতের জন্যে। অতিরিক্তভাবে, ১৭৩টি ট্রান্সফরমার কাজ করা বন্ধ করেছে, যা রাজ্য জুড়ে বিদ্যুৎ সরবরাহকে প্রভাবিত করছে।
তবে এতো তুষারপাতের পরও বড়দিনে একফোঁটাও তুষারপাত হয়নি সিমলা-মানালি কোনও এলাকাতেই। কার্যত পর্যটকদের মুখভার গতকাল থেকে।
রাজস্থান: বুধবার রাজ্যে ঠান্ডা পরিস্থিতি অব্যাহত থাকায় রাজস্থানের অনেক এলাকা ঘন কুয়াশায় আচ্ছন্ন ছিল। পশ্চিম রাজস্থানের কিছু জায়গায় একটি 'শীতলতম দিন' রেকর্ড করা হয়েছে।
পাঞ্জাব: আবহাওয়া বিভাগ অনুসারে ফরিদকোটে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে, যা ৪.২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। অমৃতসরে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৫.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং গুরুদাসপুরে ৫.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
হরিয়ানা: সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৫.২ ডিগ্রি সেলসিয়াস সহ নারনউল ছিল সবচেয়ে শীতলতম স্থান।
চণ্ডীগড়: পাঞ্জাব এবং হরিয়ানার সাধারণ রাজধানীতে গতকাল সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৭.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে।
উত্তরপ্রদেশ: দুই দিনের বৃষ্টির পর বুধবার বিকেলে উত্তরপ্রদেশ জুড়ে আবহাওয়া পরিষ্কার হয়ে গেছে। সোমবার এবং মঙ্গলবার হালকা গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টির ফলে কুয়াশা দেখা যায়। আর আজও সেই ঘন কুয়াশার স্পেল বজায় রয়েছে।












Click it and Unblock the Notifications