যুদ্ধবিমান ও ক্ষেপণাস্ত্রে গতি ও ক্ষমতার নতুন দিগন্ত, বায়ুসেনার সঙ্গে বেঙ্গালুরুর সংস্থার গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি
ভারতীয় প্রতিরক্ষা প্রযুক্তিতে এক বড়সড় অগ্রগতির পথে পা বাড়াল ভারতীয় বায়ুসেনা। যুদ্ধবিমান ও দূরপাল্লার হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্রের গতি ও কার্যক্ষমতা বহুগুণ বাড়াতে এ বার বেঙ্গালুরুর ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ সায়েন্স (আইআইএসসি) এর অধীনস্থ 'ফাউন্ডেশন ফর সায়েন্স ইনোভেশন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট' (এফএসআইডি)এর সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষর করল বায়ুসেনা।
এই চুক্তির মূল লক্ষ্য সামরিক পরিভাষায় পরিচিত 'এয়ার ব্রেথিং প্রোপালশন সিস্টেম' নামের এক অত্যাধুনিক প্রযুক্তিকে আত্মস্থ করা। এই প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে যুদ্ধবিমান ও হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র আরও দ্রুতগতিসম্পন্ন ও দূরপাল্লার করা সম্ভব হবে বলে জানাচ্ছেন প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা।

এয়ার ব্রেথিং প্রোপালশন সিস্টেম এমন এক ধরনের ইঞ্জিন প্রযুক্তি, যেখানে জ্বালানি পোড়ানোর জন্য আলাদা করে অক্সিজেন বহনের প্রয়োজন হয় না। বরং সরাসরি বায়ুমণ্ডল থেকে অক্সিজেন গ্রহণ করেই দহন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। এর ফলে প্রচলিত রকেট ইঞ্জিনের তুলনায় যান অনেকটাই হালকা হয়, বাড়ে অস্ত্র বা বিস্ফোরক বহনের ক্ষমতা ও একই সঙ্গে বেড়ে যায় পাল্লা।
বিশেষ করে শব্দের চেয়ে পাঁচ গুণ বা তার বেশি গতিসম্পন্ন হাইপারসনিক যুদ্ধবিমান ও ক্ষেপণাস্ত্রে এই প্রযুক্তির ব্যবহার ভবিষ্যতের সামরিক কৌশলে বড় পরিবর্তন আনতে পারে। আধুনিক র্যামজেট ও স্ক্র্যামজেট ইঞ্জিনেও এই এয়ার ব্রেথিং প্রযুক্তির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।
বর্তমানে এই হাইপারসনিক প্রোপালশন প্রযুক্তির দখল রয়েছে কেবলমাত্র আমেরিকা, রাশিয়া ও চিনের হাতে। আইআইএসসির সহযোগিতায় এই প্রযুক্তি দেশেই উন্নয়ন করতে পারলে ভারতের প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে আত্মনির্ভরতার নতুন অধ্যায় শুরু হবে বলে মনে করা হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই চুক্তি শুধু বায়ুসেনার শক্তি বাড়াবে না, বরং ভারতের সামগ্রিক প্রতিরক্ষা গবেষণা ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতাকেও এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে।












Click it and Unblock the Notifications