অসম ও মণিপুরের ৮০ জন যাত্রীকে গুজরাত থেকে শ্রমিক স্পেশাল ট্রেনে উঠতে দেওয়া হল না
অসম ও মণিপুরের ৮০ জন যাত্রীকে গুজরাত থেকে শ্রমিক স্পেশাল ট্রেনে উঠতে দেওয়া হল না
দেশের বিভিন্ন প্রান্তে আটকে পড়া পরিযায়ী শ্রমিকদের বাড়ি ফেরানোর জন্য সরকারের পক্ষ থেকে শ্রমিক স্পেশাল ট্রেনের বন্দোবস্ত করা হয়েছে। কিন্তু সরকারের এই উদ্যোগ নিয়েও খোদ শ্রমিকদের মধ্যেই ক্ষোভের সৃষ্টি হচ্ছে। জানা গিয়েছে, শনিবার রাতে ভারুচ থেকে অসম ও মণিপুরের প্রায় ৮০ জন পরিযায়ী শ্রমিক–পড়ুয়ারা স্পেশাল ট্রেনে উঠতে পারলেন না, ফলে তাঁরা গুজরাতেই আটকে পড়লেন। রেল আধিকারিকরা জানিয়েছেন যে ১২০০ যাত্রী ধারণকারী ট্রেনের জন্য ৯০০টি জনকে টিকিট দেওয়া হলেও ৭৫০ জন যাত্রী নিয়েই তা সফর করে। এর ফলে ওই ৮০ জন শ্রমিক অসহায় হয়ে পড়েন।

দেরি করে পৌঁছেছিলেন যাত্রীরা
যদিও ভারুচের জেলা প্রশাসন দাবি করেছে যে ওই যাত্রীরা দেরি করে স্টেশনে পৌঁছান এবং তাঁরা ট্রেন ধরতে পারেননি। ভারুচের উপ-জেলা শাসক এনআর প্রজাপতি বলেন, ‘ট্রেনটির ছাড়ার কথা ছিল শনিবার রাত ১১টার সময়। যদিও তা প্রায় এক ঘণ্টা দেরিতে ছাড়ে। কিন্তু ভদোদরার যাত্রীরা অনেক দেরিতে স্টেশনে পৌঁছান এবং সঠিক সময়ে তাঁরা নথি যাচাই করাননি। আমরা ট্রেনটিকে এই বিষয়ের ওপর ভিত্তি করে দাঁড় করিয়ে রাখতে পারি না।' যদিও ভদোদরার প্রশাসনের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে যে তাঁরা যাত্রীদের সঠিক সময়েই স্টেশনে পাঠিয়ে দিয়েছিল, কিন্তু তাও কেন তাঁদের ট্রেনে উঠতে দেওয়া হয়নি সে বিষয়টি স্পষ্ট করেনি ভারুচের প্রশাসন।

ভারুচ প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনও সদুত্তর আসেনি
ভদোদরার ডেপুটি কালেক্টর আরপি যোশি এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘আমরা শ্রমিকদের সব ধরনের যাচাই করে তবেই ভারুচ থেকে বাসে বসিয়ে স্টেশনের উদ্দেশ্যে পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু জানিনা কেন তাঁদের ট্রেনে উঠতে দেওয়া হল না। যদিও এ বিষয়ে ভারুচ প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনও আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি। ওই শ্রমিকরা এখানে আসলে তাঁদের থাকার জন্য ব্যবস্থা করা হবে।'

সঠিক সময়ে পৌঁছেও ট্রেনে উঠতে দেওয়া হয়নি
ওই যাত্রীদের মধ্যে এক যাত্রী ময়ূরী দুয়ারা (২২), যিনি ফতেগঞ্জ এলাকার এক রেস্তোরঁতে কাজ করেন এবং অসমের শিবসাগর এলাকার বাসিন্দা, তিনি বলেন, ‘আমরা প্রয়োজনীয় সব ফর্ম পূরণ করেছি এবং আমাদের শনিবার তিনটের মধ্যে নর্মদা ভবনে জমায়েত হতে বলা হয়েছিল। ওইদিন সন্ধ্যা সাতটা নাগাদ আমাদের ভারুচ থেকে বাসে তুলে দেওয়া হয় যাতে আমরা ট্রেন ধরতে পারি। বাস যাত্রার জন্য আমাদের কাছ থেকে ২০০ টাকা করে নেওয়া হয় উপরন্তু ট্রেনের টিকিটের জন্য টাকা নেওয়া হয়। আমরা ভারুচে পৌঁছাই রাত দশটা নাগাদ। ভারুচে আমাদের অপেক্ষা করিয়ে রাখা হয় কিন্তু ট্রেনে ওঠার কোনও ইঙ্গিত দেওয়া হয় না। এরপর রাত দেড়টা নাগাদ আমাদের বলা হয় যে আমরা ট্রেনে উঠতে পারব না এবং আমাদের ভদোদরা ফিরে যেতে হবে। তারা আমাদের বাসে উঠিয়ে ভদোদরার আশ্রয় স্থানে নিয়ে আসে।' ভদোদরার ভায়েলির এক প্রাথমিক স্কুলের ভেতরে এই পরিযায়ী শ্রমিকদের রাখা হয়েছে।

আশ্রয় স্থান ছেড়ে কোনও যাত্রীকে বাইরে যেতে দেওয়া হচ্ছে না
১৮ বছরের মহম্মদ আকমল, যিনি মণিপুরের বাসিন্দা এবং গুজরাতের তান্দালজা এলাকার দারুল উলুম মাদ্রাসাতে পড়াশোনা করছেন। তিনি বলেন, ‘আমরা এখানে ভোর সাড়ে পাঁচটায় পৌঁছাই এবং এরপর আমাদের আর কিছুই জানানো হয়নি। আমরা এখনও জানিনা যে কবে আমাদের বাড়ি ফেরত পাঠানো হবে।' যাত্রীরা দাবি করেছেন যে শহরের যে সব জায়গায় তাঁরা থাকতেন এখন আর সেখানে ফিরে যাওয়ারও কোনও রাস্তা নেই। যদিও প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে যদি কোনও ব্যক্তি এই যাত্রীদের দায়িত্ব নিতে চায় তবেই একমাত্র তাঁরা এই স্কুল চত্ত্বর ছেড়ে যেতে পারবেন। আশ্রয় স্থানের দায়িত্বে থাকা পারুল ভারিয়া বলেন, ‘আমরা কাউকে এই চত্ত্বর ছেড়ে যাওয়ার অনুমতি দেব না। একমাত্র তাঁদের যদি কোনও অভিভাবক এখানে থাকে এবং তাঁরা এসে দায়িত্ব নেন একমাত্র তবেই ছাড়া হবে। আমরা অনুমতি দেব না এই যাত্রীদের। এই চত্ত্বরের বাইরে যদি কিছু হয় তবে কে দায়িত্ব নেবে? যতদিন না তাঁরা বাড়ি ফেরার ট্রেন পাচ্ছে ততদিন এখানেই রাখা হবে তাঁদের।'
প্রতীকী ছবি












Click it and Unblock the Notifications