জরুরি অবস্থার ৪৪ বছর: ভুল করেও মোদী ওই পথ মাড়িয়ে নিজেদের রাজনৈতিক সুবিধা জলাঞ্জলি দেবেন না
ভারত উন্নয়নশীল দুনিয়ার সেই গণতন্ত্রগুলির মধ্যে পড়ে যেখানে সামরিক অভ্যুত্থান জাতীয় ঘটনা কোনওদিন ঘটেনি।
ভারত উন্নয়নশীল দুনিয়ার সেই গণতন্ত্রগুলির মধ্যে পড়ে যেখানে সামরিক অভ্যুত্থান জাতীয় ঘটনা কোনওদিন ঘটেনি। কিন্তু সত্তর বছরের গণতন্ত্রের গর্বের ইতিহাসের মধ্যে একটি একুশ মাসের কালো সময়ে রয়েছে আর সেটি হল ১৯৭৫-৭৭-এর জরুরি অবস্থা। আজ থেকে ঠিক ৪৪ বছর আগে, এমনই এক ২৫ জুন মধ্যরাত্রে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী দেশজুড়ে 'এমার্জেন্সি' বা জরুরি অবস্থা জারি করেন। সেই মাসেরই ২ তারিখে এলাহাবাদ হাইকোর্টের বিচারপতি জগমোহনলাল সিনহা ইন্দিরাকে ১৯৭১ সালের নির্বাচনে অসাধু উপায়ে জেতার অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করেন এবং উচ্চ পদ থাকে তাঁকে খারিজ করে তাঁর উপরে ছয় বছরের নিষেধাজ্ঞাও লাগু করেন। ইন্দিরা সঙ্গে সঙ্গে রাজনৈতিক উপায়ে সেই আইনি সিদ্ধান্তকে আক্রমণ করেন এবং জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেন। তাঁর সেই রাজনৈতিক অপকর্মটির জবাব মানুষই দেন ১৯৭৭ সালের নির্বাচনে, ক্ষমতা থেকে তাঁকে উৎখাত করে। কেন্দ্রে প্রথমবার ক্ষমতা হারায় কংগ্রেস।

৪৪ বছর অতিক্রান্ত জরুরি অবস্থার
সেই কালো দিনের আজ চুয়াল্লিশতম বার্ষিকী। এখনও ভারতীয় গণতন্ত্রের সেই কালো দিনটিকে লজ্জার সঙ্গে স্মরণ করা হয়। কিন্তু একটু গভীরে দেখলে, আজকে কিন্তু জরুরি অবস্থার সেই স্মৃতি বর্তমান শাসকদল বিজেপিকেই সাহায্য করে।
বিজেপির বিরুদ্ধে আজকে অনেক বিরোধী কণ্ঠস্বরেই শোনা যায় এমার্জেন্সির পুনরাবৃত্তির অভিযোগ। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তো বার বার বলে থাকেন 'সুপার এমার্জেন্সি'র কথা। মঙ্গলবারও টুইট করে বলেন সে কথা।

মোদী কোনও অবস্থাতেই ওই পদক্ষেপ নিয়ে নীতিগত সুবিধাটি হারাবেন না
কিন্তু বিরোধীদের এই অভিযোগের মধ্যে দিয়ে যে বিজেপির বিশেষ কিছু যায় আসে, তা নয়। প্রধামন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সবচেয়ে বড় সমালোচকও জানেন যে সত্তরের দশকের সেই ঘটনার পুনরাবৃত্তি আজকের শাসকদল কখনই করবে না। কারণটি গণতন্ত্রের প্রতি বিশেষ অনুগত হওয়া নয়; কারণটি হচ্ছে রাজনৈতিকভাবে 'লিড' বজায় রাখার। মোদী এবং অমিত শাহ ভালোই জানেন যে জরুরি অবস্থার সেই কালো স্মৃতি কংগ্রেসের বিরুদ্ধে জনমানসে অসন্তোষকে খোঁচানোর একটি বার্ষিক সুযোগ যা প্রতি বছর আসে। কেন তাঁরা নিজেরা ঐরকম পদক্ষেপ নিয়ে সেই সুবিধাটির জলাঞ্জলি দেবেন?

ইন্দিরার কর্মের খেসারত কংগ্রেস দিচ্ছে আজও
অন্যদিকে, ইন্দিরা গান্ধী সেই সময়ে যে গর্হিত কাজটি করেছিলেন, তার খেসারত আজকেও কংগ্রেসকে দিতে হচ্ছে, অন্তত নৈতিকভাবে তো বটেই। একাত্তরের নির্বাচন দাপটের সঙ্গে জিতে ইন্দিরা বেশ কিছু কারণে জনসমর্থন হারান এবং নির্বাচন হওয়ার আগে নিজের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে সন্দিহান হয়ে পড়ে হঠকারী সিদ্ধান্ত নেন অগণতান্ত্রিক উপায়ে ক্ষমতা দখল করে রাখার। আজকের দিনে এমন পদক্ষেপ নেওয়ার আগে হয়তো দু'বার ভাবতে হতো সেই সময়কার দোর্দণ্ডপ্রতাপ নেত্রীকে কিন্তু আজকেও সেই সময়ের স্মৃতি তাঁর দলের বিরোধীদের একইরকমভাবে চাঙ্গা করে তোলে প্রতি বছর এই জুন মাসে। কংগ্রেসের মোদীর বিরুদ্ধে জোরালো একটি রাজনৈতিক বিকল্প তুলে ধরার পথেও বড় বাধা সৃষ্টি করেছে সেই জরুরি অবস্থার ঐতিহাসিক বোঝা। এর থেকে নিষ্কৃতি পাওয়া বোধহয় এ জন্মে কংগ্রেসের আর হবে না।












Click it and Unblock the Notifications