দশম শ্রেণির বোর্ড পরীক্ষায় উত্তীর্ণ ৪৩ বছরের বাবা, পাশ করতে পারল না ছেলে
দশম শ্রেণির বোর্ড পরীক্ষায় উত্তীর্ণ ৪৩ বছরের বাবা, পাশ করতে পারল না ছেলে
পড়ার কোনও বয়স হয় না। পরিবারের দায়িত্ব কাঁধে এসে পড়ায় ছোটবেলাতেই পড়াশোনা ছেড়েছিলেন তিনি। তবে তীব্র আগ্রহ থেকে তিনি ছেলের সঙ্গে দশম শ্রেণির পরীক্ষা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। সেই পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ হতেই দুই পরীক্ষার্থীর বাড়িতে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখতে পাওয়া গিয়েছে। ৪৩ বছরের যুবক পরীক্ষায় পাশ করলেও ব্যর্থ হয়েছেন তাঁর ছেলে।

শুক্রবার মহারাষ্ট্রে স্টেট বোর্ড অফ সেকেন্ডারি ও হায়ার সেকেন্ডারি এডুকেশনের দশম শ্রেণির পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ পেয়েছে। সেখানেই দেখা গিয়েছে, ৪৩ বছরের যুবক প্রতিটি বিষয়ে ভালোভাবে পাশ করেছেন। তবে তাঁর ছেলে দুটো বিষয়ে পাশ করতে পারেনি। এই প্রসঙ্গে ভাস্কর ওয়াঘমারে বলেন, পরিবারের দায়িত্ব কাঁধে আসার কারণে সপ্তম শ্রেণির পর তিনি আর পড়াশোনা করতে পারেননি। পরিবারকে টিকিয়ে রাখতে ছোট বয়সে অর্থ উপার্জনের দিকে নজর দিতে হয়েছিল। তিনি বরাবর পড়াশোনায় আগ্রহী ছিলেন। ৩০ বছর ফের তিনি পড়াশোনায় ফেরেন।
ভাস্কর ওয়াঘমারে সাংবাদিকদের বলেন, 'আমি আরও পড়াশোনা করতে চেয়েছিলাম। কিন্তু ছোট বয়সেই আমাকে অর্থ উপার্জনের চেষ্টা করতে হয়েছিল। সেই কারণে আমি পড়াশোনা ছাড়তে বাধ্য হয়েছিলাম। কিছুদিন আগে আমি নতুন করে পড়াশোনা শুরু করার সিদ্ধান্ত নিই। আমি কিছু কোর্সের বিষয়ে আগ্রহী হই। যেগুলো আমাকে উপার্জন বাড়াতে সাহায্য করবে।
কিন্তু সেই কোর্সের জন্য আমাকে দশম শ্রেণি পাশ করা প্রয়োজন। এরপরেই আমি দশম শ্রেণির পরীক্ষা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিই।'
পুনের আম্বেদকর ডায়াস প্লটের বাসিন্দা ওয়াঘমারে বর্তমানে একটি বেসরকারি সংস্থায় কর্মরত। তিনি বলেন, 'চলতি বছর আমি দশম শ্রেণির পরীক্ষায় বসার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম। আমার ছেলেও এই বছর দশম শ্রেণির পরীক্ষা দিয়েছিল।
আমার ছেলে আমাকে অনেক সাহায্য করেছে।' প্রতিদিন কাজের শেষে তিনি পড়তে বসতেন। পরীক্ষার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। সেই পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে খুশি। তবে ছেলে সেই পরীক্ষায় পাশ করতে পারেনি। ছেলের জন্য তাঁর খারাপ লাগছে। ছেলে দুটি বিষয়ে পাশ করতে পারেনি। এই প্রসঙ্গে তিনি বলেন, 'আমি ছেলেকে সাহায্য করব। আশা করছি, আমার ছেলেও দশম শ্রেণির পরীক্ষায় পাশ করতে পারবে।'
দশম শ্রেণির পরীক্ষায় ফলাফল প্রকাশ পাওয়ার পরে ছেলে সাহিলের মধ্যে মিশ্র অনুভূতি ছিল। সাহিল সাংবাদিকদের বলেন, 'আমার বাবা এই পরীক্ষায় পাশ করেছে। আমি খুব খুশি। বাবা এই পরীক্ষার পাশ করার জন্য খুব পরিশ্রম করেছিলেন। সফল হয়েছেন। তবে আমিও হাল ছাড়ার পাত্র নয়। আমি আগের থেকে অনেক বেশি পড়াশোনা করব। যে দুটো বিষয়ে পাশ করতে পারিনি, সেগুলোতে ভালো নম্বর পাবো।'
শুক্রবার দশম শ্রেণির মাধ্যমিকের ফলাফল প্রকাশিত হয়। চলতি বছর পাশের হার ছিল ৯৬.৯৪ শতাংশ। চলতি বছর উত্তর লেখার জন্য পরীক্ষার্থীদের জন্য অতিরিক্ত ৩০ মিনিট সময় দেওয়া হয়েছিল। চলতি বছর হোমসেন্টারে পরীক্ষা হয়েছিল। গত বছর করোনা সংক্রমণের জেরে পরীক্ষা হয়নি। নবম শ্রেণির বার্ষিক পরীক্ষার ফলাফল ও দশম শ্রেণির আভ্যন্তরীণ ফলাফলের ওপর ভিত্তি করে ফলাফল প্রকাশ করা হয়েছিল।












Click it and Unblock the Notifications