লকডাউনে বাড়ি ফেরার সময় পথ দুর্ঘটনায় মৃত্যু ৪২ জন পরিযায়ী শ্রমিকের, বলছে রিপোর্ট
লকডাউনে বাড়ি ফেরার সময় পথ দুর্ঘটনায় মৃত্যু ৪২ জন পরিযায়ী শ্রমিকের, বলছে রিপোর্ট
করোনা ভাইরাস সংক্রমণের পর থেকে গোটা দেশে জারি হয়েছে লকডাউন। যার জন্য বহু পরিযায়ী শ্রমিক বাড়ি ফেরার জন্য পায়ে হাঁটাকেই তাঁদের শ্রেষ্ঠ উপায় বলে মনে করেছেন। কারণ লকডাউনের জন্য সমস্ত ধরনের যান পরিষেবা বন্ধ রাখা হয়েছিল। সেভ লাইফ ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে এক রিপোর্টে বলা হয়েছে, করোনা ভাইরাস লকডাউনের সময় পায়ে হেঁটে বাড়ি ফিরতে গিয়ে পথ দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয়েছে প্রায় ৪২ জন পরিযায়ী শ্রমিকের।

লকডাউনের সময়ে পথ দুর্ঘটনায় মৃত্যু ১৪০ জনের
২৪ মার্চ লকডাউন ঘোষণার পর থেকে ৩ মে পর্যন্ত পথ দুর্ঘটনার তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে এই রিপোর্টে। এই সময়ের মধ্যে গোটা দেশজুড়ে পথ দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয়েছে মোট ১৪০ জনের এবং এরমধ্যে ৩০% মৃত্যু হয়েছে পরিযায়ী শ্রমিকদের, যাঁরা পায়ে হেঁটে বা বাড়ি পৌঁছানোর জন্য বাস বা ট্রাকে লুকিয়ে ফিরছিলেন। রিপোর্টে এও বলা হয়েছে যে ট্রাক ও তীব্র গতিতে আসা গাড়ির ধাক্কায় মত্যু হয়েছে ৮ জন পরিযায়ী শ্রমিকের।

গোটা দেশে পথ দুর্ঘটনার সংখ্যা ৬০০
দু'টি মেয়াদের এই লকডাউনে ৬০০-রও বেশি পথ দুর্ঘটনা হয়েছে সারা দেশে। ৪২ জন পরিযায়ী শ্রমিকের পাশাপাশি পথ দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয়েছে ১৭ জন প্রয়োজনীয় পরিষেবার সঙ্গে যুক্ত কর্মীর। সেভ লাইভ ফাউন্ডেশনের সিইও পীযূশ তিওয়ারি বলেন, ‘এটা নুন্যতম নম্বর হিসাবে গণ্য করা হচ্ছে কারণ আমরা এখনও পর্যন্ত বেশ কিছু রাজ্যের থেকে পথ দুর্ঘটনা সংক্রান্ত তথ্য পাইনি এবং মনে করা হচ্ছে যে কিছু একক মৃত্যুর ঘটনা এই রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়নি।'

৯টি রাজ্য থেকে মৃত্যু একশোরও বেশি
১৪০টি মৃত্যুর মধ্যে, ১০০-রও বেশি মৃত্যু হয়েছে দিল্লি, মহারাষ্ট্র, গুজরাত, অসম, কেরল, কর্নাটক, রাজস্থান, পাঞ্জাব ও তামিলনাড়ু এই ন'টি শহরে। লকডাউনের সময় পাঞ্জাবে সবচেয়ে বেশি পথ দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয়েছে, এরপরই রয়েছে কেরল, দিল্লি ও কর্নাটক।

রাস্তার ত্রুটি সারাই করা দরকার লকডাউনকে কাজে লাগিয়ে
তিওয়ারি বলেন, ‘প্রত্যেক বছর ভারতে সবচেয়ে বেশি সংখ্যক পথ দুর্ঘটনার খবর পাওয়া যায়। তবে এখন লকডাউনের কারণে পথ দুর্ঘটনায় মৃত্যুর সংখ্যা অবশ্যই হ্রাস পেয়েছে বলে মনে করী হলেও, ৬০০ পথ দুর্ঘটনার মধ্যে ১৪০টি মৃত্যুর অনুপাত একই রকম রয়েছে প্রত্যেক বছরের মতোই। তবে সরকারের উচিত লকডাউনের সময়কে কাজে লাগিয়ে রাস্তার ত্রুটিগুলিকে সারাই করে নেওয়া দরকার যাতে লকডাউন ওঠার পর পথ দুর্ঘটনার পাশাপাশি মৃত্যুর হারও কমে।'












Click it and Unblock the Notifications