Get Updates
Get notified of breaking news, exclusive insights, and must-see stories!

ভারতের ৪০ শতাংশ পুরুষই ঘোর নারীবিদ্বেষী, দাবি সমীক্ষায়

নারীবিদ্বেষ
মুম্বই, ৪ ডিসেম্বর: ভারতের ৪০.৭ শতাংশ পুরুষই মনে করে, মেয়েরা 'থাকবে নীচে'। জীবনের সব ক্ষেত্রে। এরা লিঙ্গসাম্যে বিশ্বাস করে না। এ ধরনের পুরুষরা বাড়িতে স্ত্রীয়ের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করে। স্ত্রীকে নিয়মিত মারধর করে। কন্যাসন্তান এদের কাছে 'বোঝা'। ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর রিসার্চ অন উইমেন (আইসিআরডব্লু)-এর একটি সমীক্ষায় উঠে এল এমন করুণ ছবি।

ওই সংস্থাটি দেশের সাতটি রাজ্যে মেয়েদের অবস্থা নিয়ে সম্প্রতি একটি বিস্তারিত সমীক্ষা চালায়। রাজ্যগুলি হল উত্তরপ্রদেশ, হরিয়ানা, মধ্যপ্রদেশ, পাঞ্জাব, ওড়িশা, রাজস্থান ও মহারাষ্ট্র। তাতে দেখা যাচ্ছে, পাঁচজনে দু'জন পুরুষই এমন গোঁড়া। এই গোঁড়া পুরুষদের সংখ্যায় দেশে প্রথম স্থানে উত্তরপ্রদেশ। ওই রাজ্যের ৬৩.৯ শতাংশ পুরুষ মেয়েদের সমানাধিকার দিতে রাজি নয়। দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থানে রয়েছে যথাক্রমে মধ্যপ্রদেশ এবং ওড়িশা। সেখানে যথাক্রমে ৪৫.৫ শতাংশ ও ৩০.৮ শতাংশ পুরুষ প্রেমিকা বা স্ত্রী সম্পর্কে নমনীয় ভাবনা ভাবতে রাজি নয়। এরা ঠিক করে দেয়, স্ত্রী কবে কোন আত্মীয়ের বাড়ি যাবে, পাড়ার অনুষ্ঠানে অন্য কোনও পুরুষের সঙ্গে বাক্যালাপ করবে কি না, স্ত্রী কী রঙের শাড়ি পড়বে, কতগুলি সন্তান ধারণ করবে ইত্যাদি। এর অন্যথা হলে স্ত্রীকে প্রহার করে অমানুষিকভাবে।

গোঁড়া পুরুষদের সংখ্যায় প্রথম স্থানে উত্তরপ্রদেশ

আশ্চর্যজনক ব্যাপার হল, 'বউ পেটানো' নিয়ে এরা বন্ধুমহলে গর্ব করে এবং তা নিজেদের পৌরুষ বলে দাবি করে। উত্তরপ্রদেশের ৪৪.৬ শতাংশ বিবাহিত মেয়ে জানিয়েছে, তারা নিত্যদিন স্বামীর হাতে মার খায়, অর্ধভুক্ত-অভুক্ত থাকে। ইচ্ছা না থাকলেও স্বামী বাধ্য করে একের পর এক পুত্রসন্তানের জন্ম দিতে। কন্যাসন্তান হলে শ্বশুরবাড়ির লোকজন বর্বরোচিত ব্যবহার শুরু করে। তুলনায় মহারাষ্ট্রের অবস্থা ভালো। এখানে ২৪.৫ শতাংশ পুরুষ উক্ত দৃষ্টিভঙ্গি পোষণ করে। সবচেয়ে নীচে রয়েছে রাজস্থান। সেখানে সংখ্যাটা হল ২২.৬ শতাংশ।

তবে, এর বাইরে যে পুরুষরা রয়েছে অর্থাৎ বাকি ৬০ শতাংশ, তাদের তিনভাগে ভাগ করা হয়েছে। সাম্যবাদী পুরুষ, নমনীয় ব্যবহারসম্পন্ন পুরুষ এবং নমনীয় দৃষ্টিভঙ্গিসম্পন্ন পুরুষ। ২৫.৬ শতাংশ সাম্যবাদী পুরুষ। এরা মনে করে, চাকরি, লেখাপড়া, গৃহস্থালি সব ক্ষেত্রে মেয়েদের সঙ্গে সমান ব্যবহার করা উচিত। এরা বাড়িতে স্ত্রীয়ের সঙ্গে কাজ ভাগ করে নেয়, এমনকী স্ত্রীকে সাহায্য করতে রান্নাবান্নাও করে। মূলত শহুরে শিক্ষিত পুরুষরা এই দলে পড়ে। বাকি দু'দল পুরুষ অমন দৃষ্টিভঙ্গিতে বিশ্বাস না করলেও পরিস্থিতি অনুযায়ী মহিলা সহকর্মী, প্রেমিকা বা স্ত্রীয়ের সঙ্গে নমনীয় আচরণ করে।

আইসিআরডব্লু ১৮-৪৯ বছর বয়সী নারী-পুরুষদের নিয়ে সমীক্ষা চালিয়েছে। ৯২০৫জন পুরুষ ও ৩১৫৮জন নারীকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে।

More From
Prev
Next
Notifications
Settings
Clear Notifications
Notifications
Use the toggle to switch on notifications
  • Block for 8 hours
  • Block for 12 hours
  • Block for 24 hours
  • Don't block
Gender
Select your Gender
  • Male
  • Female
  • Others
Age
Select your Age Range
  • Under 18
  • 18 to 25
  • 26 to 35
  • 36 to 45
  • 45 to 55
  • 55+