ভারতের ৩৬% স্কুলে ৫০ জনেরও কম পড়ুয়া রয়েছে, কোনও স্কুলে রয়েছে ১ বা ২ জন শিক্ষক, বলছে রিপোর্ট
ভারতের স্কুল শিক্ষাব্যবস্থার এক উদ্বেগজনক চিত্র উঠে এসেছে থিঙ্ক-ট্যাঙ্ক পিআরএস লেজিসলেটিভ রিসার্চের এক বিশ্লেষণে। এই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশের ৩৫% স্কুলে মাত্র ৫০ জন বা তার কম শিক্ষার্থী ভর্তি রয়েছে এবং এসব স্কুলে শিক্ষকসংখ্যা অত্যন্ত সীমিত, অনেক ক্ষেত্রে মাত্র একজন বা দুজন শিক্ষকই রয়েছেন।
নীতি আয়োগের তথ্য অনুযায়ী, ভারতের ৩৬% সরকারি স্কুলে ৫০ জনের কম শিক্ষার্থী রয়েছে। ১০% স্কুলে শিক্ষার্থীর সংখ্যা মাত্র ২০ জন বা তারও কম। এইসব স্কুলে অল্পসংখ্যক শিক্ষক থাকার ফলে একই শিক্ষককে একাধিক শ্রেণি ও বিষয় পড়াতে হয়।

জাতীয় শিক্ষা নীতি (NEP) ২০২০ অনুসারে, শিক্ষকের এই বহুমুখী দায়িত্ব তাদের মানসম্মত পাঠদানে বাধা সৃষ্টি করছে। কারণ অনেক সময় তাদের এমন বিষয়ও পড়াতে হয়, যেগুলোর জন্য তারা যথাযথ প্রশিক্ষিত নন। এরফলে সমস্যায় যেরকম পড়ছেন শিক্ষকরা, ঠিক সেরকমই সমস্যায় পড়ছে পড়ুয়ারাও।
এই রিপোর্টে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, শিক্ষকেরা পাঠদানের পরিবর্তে প্রশাসনিক কাজে বেশি সময় ব্যয় করেন, যা শিক্ষার গুণগত মান হ্রাস করছে। ছোট ও বিচ্ছিন্ন স্কুলগুলিতে পর্যাপ্ত ল্যাব ও লাইব্রেরির মতো অবকাঠামোর অভাব রয়েছে, যা শিক্ষার্থীদের শেখার সুযোগকে সীমিত করছে।
২০২২-২৩ সালের তথ্য অনুযায়ী, দেশব্যাপী ১ম-৮ম শ্রেণিতে শিক্ষক পদের ১৬% ফাঁকা ছিল। কিছু রাজ্যে এই ঘাটতি আরও ভয়ঙ্কর।
ঝাড়খণ্ড: ৪০ শতাংশ
বিহার: ৩২ শতাংশ
মিজোরাম: ৩০ শতাংশ
ত্রিপুরা: ২৬ শতাংশ
২০২৩ সালে শিক্ষা বিষয়ক স্থায়ী কমিটি রাজ্য গুলিকে শিক্ষক নিয়োগের গতি বাড়ানোর আহ্বান জানিয়ে একটি স্বায়ত্তশাসিত শিক্ষক নিয়োগ বোর্ড গঠনের সুপারিশ করেছিল। সেখানের রিপোর্ট অনুসারে, ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষে প্রায় ১২% শিক্ষকের প্রয়োজনীয় পেশাদার যোগ্যতা নেই। প্রাক-প্রাথমিক স্তরে ৪৮% শিক্ষক প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ ছাড়াই কাজ করছেন।
এই বিশ্লেষণে স্পষ্ট যে ভারতে শিক্ষাক্ষেত্রে ব্যাপক সংস্কার প্রয়োজন, বিশেষ করে শিক্ষক নিয়োগ এবং প্রশিক্ষণের ক্ষেত্রে। ছোট স্কুলগুলোর সংযুক্তিকরণ, শিক্ষকের দক্ষতা উন্নয়ন এবং পরিকাঠামো গত উন্নয়নের মাধ্যমে শিক্ষার মান উন্নয়ন করা সম্ভব হবে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।












Click it and Unblock the Notifications