ভয়ঙ্কর তথ্য! প্রায় ৩০% ভারতীয় মহিলা যৌন হিংসার শিকার, WHO-এর রিপোর্টে উদ্বেগ, নেপথ্যের কারণ কী?
বিশ্বের অন্যতম একটি মানবাধিকার সঙ্কট হল মহিলাদের বিরুদ্ধে সহিংসতা। তা যে আজও রয়েছে তা আন্তর্জাতিক স্তরের এক বিস্তারিত সমীক্ষার দ্বারাই ফের প্রমাণিত হল। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) একটি নতুন প্রতিবেদনে ভারত এবং বিশ্বজুড়ে নারীদের বিরুদ্ধে সহিংসতার উদ্বেগজনক মাত্রা প্রকাশিত হয়েছে। সেই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে, প্রায় ৩০ শতাংশ ভারতীয় নারীরা তাঁদের জীবনে একবার হলেও তাঁর অন্তরঙ্গ সঙ্গীর দ্বারা হিংসার সম্মুখীন হয়েছেন। ফলে দেখা যাচ্ছে যে, এই সমস্যাটি এখনও ঘর, সম্পর্ক এবং সমাজে ব্যাপক ও গভীরভাবে প্রভাব ফেলছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) জানিয়েছে যে, বিশ্বজুড়ে প্রায় ৮৪ কোটি নারীই এরকম হিংসার শিকার হয়েছেন। WHO, এরকম হিংসাকে মানবতার পুরোনো অবিচার বলে উল্লেখ করে বুধবার অর্থাৎ ১৯ নভেম্বর নতুন একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। WHO-এর রিপোর্টে বলা হয়েছে যে, গত এক বছরের মধ্যে ১৫ বছর বা তার বেশি বয়সি প্রায় ৩১ কোটি ৬০ লাখ নারী ও কিশোরীকে ঘনিষ্ঠ সঙ্গীর দ্বারা শারীরিক কিংবা যৌন হিংসার মুখোমুখি হতে হয়েছে। তাদের পুরো জীবদ্দশায়, প্রায় ৩০ শতাংশ ভারতীয় নারী তাদের সঙ্গীর দ্বারা শারীরিকও যৌন বা মানসিক সহিংসতার শিকার হয়েছেন। এই গবেষণার ফলাফল ভারতকে এমন একটি উদ্বেগজনক স্থান দিয়েছে যেখানে নারীর বিরুদ্ধে হিংসা একটি প্রধান এবং অব্যাহত জনস্বাস্থ্য সমস্যা হিসেবে রয়ে গেছে।
নারীদের প্রতি হিংসা নির্মূল করার জন্য আন্তর্জাতিক দিবসকে সামনে রেখে জাতিসংঘের একটি প্রতিবেদনে প্রকাশিত হয়। যেখানে ২০০০ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত ১৬৮টি দেশ থেকে সমস্ত তথ্য সংগ্রহ করে তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়েছে।
WHO-এর ডিরেক্টর জেনারেল ড. টেড্রোস অ্যাডানম ঘেব্রেয়েসাস বলেন যে, " মহিলাদের বিরুদ্ধে সহিংসতা হল মানবতার একটি অন্যতম পুরনো ও বড় অন্যায়। তবুও এটি রুখতে এর বিরুদ্ধে সবথেকে কম পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। যদি অর্ধেক নাগরিক ভয় নিয়ে প্রতিদিন বাঁচতে বাধ্য হন তাহলে কোনও সমাজকে কখনওই নিরপেক্ষ, নিরাপদ বা সুস্থ বলা যায় না।" তাঁর কথা অনুসারে, ' সম্মান, সমান অধিকার ও মানবাধিকার প্রতিষ্ঠা করার জন্য নারীদের নিরাপত্তা বাধ্যতামূলক।'
প্রতিবেদনে দেখা গিয়েছে যে, ১৫ বছর থেকে ৪৯ বছর বয়সী বিবাহিত নারীদের ২৫.৮ শতাংশ জীবনে অন্তত একবার হলেও তাদের স্বামী বা পুরুষ সঙ্গীর দ্বারা শারীরিক ও যৌন হিংসার শিকার হয়েছেন। প্রতিবেদনে শারীরিক ও যৌন সহিংসতার শিকারের সংখ্যাটি ১৫ বছর বা তার বেশি বয়সের ক্ষেত্রে প্রায় ২৪.৭ শতাংশ উঠে এসেছে অর্থাৎ ৬৮২ মিলিয়ন মহিলাই এই যন্ত্রণার শিকার।
এই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে, দীর্ঘস্থায়ী সমস্যা, যুদ্ধ, বাস্তুচ্যুতি, প্রাকৃতিক দুর্যোগ এবং পরিবেশগত অবনতি এই সবকিছু মিলিয়ে বিশ্বজুড়ে বিশেষ করে ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলগুলিতে নারী ও শিশুদের নিরাপত্তাহীনতা খুব তাড়াতাড়িই বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) জানিয়েছে যে, বৈশ্বিক অগ্রগতি হওয়ার সত্ত্বেও নারীর বিরুদ্ধে সহিংসতা এখনও একটি অবহেলিত হওয়া সমস্যা।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO)-এর প্রতিবেদনে একটি স্পষ্ট চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। যেখানে বলা হয়েছে, নারীর বিরুদ্ধে হিংসা বিশ্বের সবচেয়ে বড় এবং সবচেয়ে স্থায়ী সমস্যাগুলির মধ্যে একটি। ভারত এবং বিশ্বজুড়ে নারীদের জন্য শক্তিশালী নেতৃত্ব, উন্নত সুরক্ষা, নারীদের সাথে মর্যাদা, নিরাপত্তা এবং সমতার সাথে আচরণ করার জন্য সমাজের ইচ্ছাই অর্থপূর্ণ পরিবর্তন আন্তে পারে।












Click it and Unblock the Notifications