২০২০ দিল্লি বিধানসভা নির্বাচন: কোন ইস্যুগুলিতে নির্ধারিত হবে মসনদ দখলের লড়াই !
দিল্লি নির্বাচন ঘিরে রীতিমতো বেজে গিয়ছে দামামা। আর মাত্র কয়েক দিনের অপেক্ষা। আর তারপরই রাজধানী দিল্লিতে আয়োজিত হতে চলেছে নির্বাচন। দেশের ৩৩ টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের মধ্যে দিল্লির মাথাপিছু আয় ও উৎপাদন অনেক বেশি। সেক্ষেত্রে দিল্লির স্থান গোয়ার পরেই। ফলে রাজধানীর তখত দখল ভারতীয় রাজনীতিতে অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক। একনজরে দেখে নেওয়া যাক , দিল্লির মসনদ দখলে কোন কোন ইস্যুগুলি অত্যন্ত কার্যকর হয়ে উঠবে।

কেজরিওয়ায়ের 'স্বচ্ছ্ব' সরকারের ভাবমূর্তি!
'দিল্লির মানুষ সবচেয়ে বেশি কর দেন, কারণ তাঁরা জানেন একটি স্বচ্ছ্ব সরকারকে তাঁরা ভালো কাজের জন্য কর দিচ্ছেন', এমন দাবি দিল্লি প্রচারের শুরু থেকেই করছেন মুখ্যমন্ত্রী কেজরিয়াল। 'আপ'নেতা কেজরিওয়াল বারবার বলেছেন তাঁর সরকার ভালো কাজ করেছে বলেই 'পজিটিভ ভোট' দাবি করেছে। প্রসঙ্গত, গত কয়েক বছরে বিদ্যুতের কম দাম, স্কুলের ফি বৃদ্ধিতে স্থগিতাদেশ,বিনামূল্যে জল সরবরাহের মতো পরিষেবা দিয়েছে দিল্লি সরকার। আর তাকেই মূলধন করে এবার লড়তে চলেছেন কেজরিওয়াল।

মোদী সুনামি
লোকসভা ভোট ২০১৯ সালে মোদী সুনামি একটি বড় ফ্যাক্টর ছিল বিজেপির কাছে। দিল্লি নির্বাচনেও সেই হাওয়া তুলে রামলীলা ময়দান থেকে মাইলেজ বাড়াতে চেয়েছিল বিজেপি। তবে তা সম্ভবপর হয়েছে কি না, সেটা জানা যাবে ১১ ফেব্রুয়ারি। তার আগে, ২০১৪ ও ২০১৯ সালে মোদী ঝড়ের কবলে ছিল দিল্লি। দু'বারই সেখানে ৭ টি আসন দখল করেছে বিজেপি। কিন্তু ২০১৪ লোকসভার পর ২০১৫ সালে দিল্লি নির্বাচনে বিধানসভার মাত্র ৩ টি আসনেই জয়ী হয় বিজেপি। আর তার নেপথ্যে তাদের মুখ্যমন্ত্রী পদপ্রার্থী নির্বাচনের ভুল রয়েছে বলে অনেকের দাবি। তবে এবারও যে মোদী বনাম কেজরিওয়াল লড়াই হবে, তা অমিত শাহ স্পষ্ট করেছেন দিল্লি নির্বাচন ঘিরে। ফলে মুখ্যমন্ত্রী পদপ্রার্থী ঘোষণা না করে , তুরুপের তাস এখন গোপনে রেখে মোদী ব্রিগেড।

কংগ্রেসের অন্তরকলহ
কংগ্রেস দিল্লির বিভিন্ন জায়গায় আসন বন্টন ও টিকিট নিয়ে এখনও কলহে জড়িত। বহু জায়গাতেই দিল্লিতে কংগ্রেসের অন্তর্দন্দ্ব দেখা দিতে শুরু করেছে। লোকসভা থেকেই সেখানে 'আপ' এরসঙ্গে জোট বাঁধতে ব্যর্থ হয়েছে কংগ্রেস। ফলে নির্বাচনের মুখে এখন পরিস্থিতি আরও গম্ভীর হয়ে উঠছে রাহুল শিবিরের জন্য। যদিও এককালে কংগ্রেসের মুখ্যমন্ত্রী শীল দীক্ষিতের দখলে থাকা দিল্লি এবারে পেতে মরিয়া কংগ্রেস।

জাতি ও সম্প্রদায়ের ভিত্তির ভোট ভাগ
মনে করা হচ্ছে , দিল্লি নির্বাচনে বড় ফ্যাক্টর হয়ে উঠতে পারে জাতি ও সম্প্রদায়ের ভিত্তিতে গড়ে ওঠা ভোট ব্যাঙ্ক। বিশেষত, নাগরিকত্ব ইস্যুতে নতুন আইন ও দিল্লিতে বসবাসকারী বহু পূর্বাঞ্চলী, পাঞ্জাবী, মুসলিম ও বণিক সমাজ এই নির্বাচনে ভোট ব্যাঙ্কে প্রভাব ফেলতে পারে জাতির ভিত্তিতে। আর তা আঁচ করেই নির্বাচনী রণকৌশল ঠিক করছে দলগুলি।

সাধারণ মানুষের ইস্যু
দিল্লিতে বেশির ভাগ বাসিন্দাই শহরের বাইরে থেকে আসে থাকেন। তাঁদের কাছে সুষ্ঠ জীবন পাওয়া ই একটি বড় লক্ষ্য। সেক্ষেত্রে উন্নয়ন একটি বড় ফ্যাক্টর দিল্লিতে। সেখানে জল, বিদ্যুৎ, রাস্তা নির্মাণ বড় ইস্যু হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।












Click it and Unblock the Notifications