১৮ ঊর্ধ্ব নাগরিকদের জন্য ১৮৮ কোটি ভ্যাকসিন ডোজ প্রয়োজন, সংসদে জানালো মোদী সরকার
১৮ ঊর্ধ্ব নাগরিকদের জন্য ১৮৮ কোটি ভ্যাকসিন ডোজ প্রয়োজন, সংসদে জানালো মোদী সরকার
দেশে কোভিড–১৯ টিকাকরণের তৃতীয় পর্যায় চলছে। যেখানে ১৮ বছরের ঊর্ধ্বে জনসংখ্যাদের টিকা দেওয়া হচ্ছে। মঙ্গলবার নরেন্দ্র মোদী সরকার সংসদে জানিয়েছে যে দেশ চলা গণ টিকাকরণে ১৮ বছরের ঊর্ধ্বে থাকা নাগরিকদের টিকা দেওয়ার জন্য প্রায় ১৮৮ কোটি কোভিড ভ্যাকসিন ডোজের প্রয়োজন রয়েছে।

১৮৮ কোটি ডোজের প্রয়োজন
সরকার এও জানিয়েছে যে দেশে ১৮ বছরের বেশি বয়সের জনসংখ্যা রয়েছে ৯৪ কোটি এবং তাই এই সুবিধাভোগী জনগোষ্ঠীর জন্য কোভিড ভ্যাকসিন ডোজের প্রয়োজন পড়বে ১৮৮ কোটি। সংসদে সরকার এও জানিয়েছে যে একক-ডোজের ভ্যাকসিনে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে এবং তা ব্যবহারও হবে, তাই এই সংখ্যাটি পরবর্তিকালে হ্রাসও পেতে পারে। বর্তমানে কোভিড-১৯ প্রস্তুতকারকদের প্রয়োজন অনুযায়ী ভ্যাকসিন তৈরির ক্ষমতা রয়েছে কিনা, রাজ্যসভায় এ প্রশ্নের উত্তর লিখিতভাবে দেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ভারতী প্রবীণ পাওয়ার। তিনি জানিয়েছেন পরিসংখ্যান অনুযায়ী প্রায় ১৮৭ কোটি ডোজ উপলব্ধ হবে জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বরের মধ্যে। এর সঙ্গে তিনি এও জানিয়েছেন যে বেশ কিছু ভ্যাকসিন তৈরি এখনও হচ্ছে যেগুলিকে অনুমোদন দেওয়া হবে যোগ্য জনসংখ্যার ওপর প্রয়োগ করার জন্য।

ভ্যাকসিনের মূল্য
পৃথকভাবে ভ্যাকসিনের মূল্য সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তরে পাওয়ার জানিয়েছেন যে বেসরকারি হাসপাতালের জন্য দু'টি দেশীয় প্রস্তুতকারক কোভিড ভ্যাকসিনের মূল্য ঘোষণা করেছে। ৬০০ টাকায় কোভিশিল্ড ও ১২০০ টাকায় কোভ্যাকসিন, এছাড়াও স্পুটনিক ভি-এর মূল্য ৯৪৮ টাকা ঘোষণা করা হয়েছে, যা দেশে বর্তমানে আমদানি হয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে বেসরকারি ভ্যাকসিন কেন্দ্রগুলিতে ভ্যাকসিনের ওপর ১৫০ টাকা করে পরিষেবা মূল্য ধার্য করে দেওয়া হয়েছে। যদিও সরকারি কোভিড টিকাকরণ কেন্দ্রগুলিতে এখনও যোগ্য নাগরিকদের বিনামূল্যে টিকাকরণ করানো হচ্ছে। প্রতিমন্ত্রী জানিয়েছেন যে বেসরকারি হাসপাতালে ভ্যাকসিন সরবরাহের ক্ষেত্রে নির্মাতারা ভ্যাকসিনের মূল্য নিজেরা নির্ধারণ করতে পারে, তবে তা স্বচ্ছতা বজায় রেখে ঘোষণা করতে হবে, যা ফার্মগুলি করে চলেছে।

ভিভিএমএস ছাড়াই ভ্যাকসিন ব্যবহার
অন্য একটি প্রশ্নের জবাবে পাওয়ার জানিয়েছেন যে কোভিড ভ্যাকসিন বর্তমানে দেশে ভিভিএমএসে (ভ্যাকসিন ভায়াল মনিটর) উপলব্ধ নেই। ভ্যাকসিনের সংরক্ষণ ও প্রস্তুতকারকের থেকে ভ্যাকসিন কেন্দ্রে পৌঁছানোর জন্য তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রিত পরিবেশের প্রয়োজন রয়েছে, যা ২-৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। গোটা বিশ্বে ভিভিএমএস ছাড়াই ভ্যাকসিন ব্যবহার হচ্ছে বলেও জানিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী।

কোল্ড চেইন নেটওয়ার্ক
২৯ হাজার কোল্ড-চেইন পয়েন্ট সহ কোল্ড চেইন নেটওয়ার্ক, এর সঙ্গে রেফ্রিজারেটেড ভ্যাকসিন ভ্যান ভ্যাকসিন সংরক্ষ ও তা পৌঁছে দেওয়ার জন্য ব্যবহার হচ্ছে, যেখানে তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রিত পরিবেশ রয়েছে। ভ্যাকসিনগুলি যাতে প্রস্তাবিত স্টোরেজ তাপমাত্রার বাইরে না চলে যায় তা নিশ্চিত করার জন্য প্রকৃত সময়ের ভিত্তিতে স্টোরেজ তাপমাত্রাও পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে বলেও মন্ত্রী তাঁর জবাবে বলেছেন।












Click it and Unblock the Notifications