১৩,৫০০ কোটি টাকার জালিয়াতি হয়েছিল পিএনবি মামলায়, নাম জুড়েছিল মেহুল চোকসির, কী ছিল সম্পূর্ণ ঘটনা?
ভারতের ইতিহাসে অন্যতম বৃহৎ আর্থিক কেলেঙ্কারি - পাঞ্জাব ন্যাশনাল ব্যাঙ্ক (PNB) জালিয়াতি মামলায় বড় সাফল্য পেল ভারতীয় তদন্তকারী সংস্থা। ২০১৮ সালের সেই বহুচর্চিত ১৩,৫০০ কোটি টাকার জালিয়াতির মূল অভিযুক্ত মেহুল চোকসিকে বেলজিয়ামে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ভারতের পক্ষ থেকে তাঁর প্রত্যর্পণের অনুরোধে এই গ্রেপ্তারি ঘটেছে বলে জানা গেছে।
স্বাভাবিক ভাবেই তাঁর এই গ্রেপ্তারির পর পিএনবি মামলাটি আরও একবার স্মৃতির পাতায় উজ্জ্বল হয়ে উঠেছে। ২০১৮ সালে পিএনবি প্রথম জানায় যে, মুম্বইয়ের ব্র্যাডি হাউস শাখা থেকে একটি গোপন জালিয়াতি চক্র বহু বছর ধরে চলছিল। এতে জড়িয়ে পড়েন কোটিপতি জুয়েলার নীরব মোদী এবং তাঁর কাকা মেহুল চোকসি, যিনি গীতাঞ্জলি জেমস-এর ডিরেক্টর ছিলেন।

তদন্তে উঠে আসে, তারা ব্যাঙ্কের কিছু দুর্নীতিগ্রস্ত কর্মচারীর সঙ্গে হাত মিলিয়ে ভুয়ো 'লেটার অব আন্ডারটেকিং' (LoU) তৈরি করতেন, যার মাধ্যমে বিদেশি ব্যাঙ্ক শাখা থেকে বিপুল পরিমাণ ঋণ তুলতেন। এই ঋণের টাকা মূল ব্যবসার কাজে না লাগিয়ে অন্যান্য পথে পাচার করা হত।
নীরব মোদী ২০১১ সাল থেকে ২০১৭ পর্যন্ত পিএনবির মাধ্যমে ১,২১২টি LoU সংগ্রহ করেছিলেন, যা তার ব্যবসার স্বাভাবিক প্রয়োজনের অনেক বাইরে। অথচ ব্যাঙ্কের সিস্টেমকে ফাঁকি দিয়ে এই গ্যারান্টিগুলি জারি করা হত, যার পেছনে ছিলেন ব্যাঙ্কের তৎকালীন ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার গোকুলনাথ শেঠি-র মত কর্মকর্তারা।
২০১৮ সালের জানুয়ারিতে প্রথম RBI ও CBI-কে বিষয়টি জানানো হয়। পরবর্তীতে সিবিআই ও এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি) একাধিক এফআইআর ও চার্জশিট দাখিল করে। চোকসির বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাৎ, অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র, ও অর্থ পাচারের অভিযোগ রয়েছে।
ইডি জানিয়েছে, চোকসি ব্যাঙ্কিং প্রক্রিয়া উপেক্ষা করে FLC (Foreign Letter of Credit)-র সীমা বাড়িয়েছিলেন এবং দুর্নীতিপরায়ণ কর্মকর্তাদের সাহায্যে পিএনবিকে প্রতারণা করেন। আর সম্পূর্ণ বিষয় সামনে আসতেই দেশ থেকে পালিয়ে যান মেহুল চোকসি ও তাঁর ভাইপো নীরব মোদী।
চোকসি কেলেঙ্কারি ফাঁস হওয়ার আগেই দেশ ছেড়ে পালিয়ে অ্যান্টিগুয়া ও বারবুডা-তে গিয়ে নাগরিকত্ব নেন। ভারতের অনুরোধে তাঁর প্রত্যর্পণের জন্য দীর্ঘ আইনি লড়াই চলে। ২০২১ সালে তিনি অ্যান্টিগুয়া থেকে নিখোঁজ হন এবং পরে ডোমিনিকায় ধরা পড়েন, যেখানে তিনি দাবি করেন যে তাঁকে অপহরণ করা হয়েছে। এই ঘটনা তাঁর প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়াকে জটিল করে তোলে।
চোকসির সাম্প্রতিক গ্রেপ্তারের পরে ভারত তাঁর প্রত্যর্পণ দ্রুত সম্পন্ন করার লক্ষ্যে বেলজিয়াম সরকারের সঙ্গে আলোচনায় নেমেছে। সূত্রের দাবি, কেন্দ্র ও তদন্ত সংস্থাগুলি এই মামলায় আর কোনো দেরি না করে তাঁকে দেশে ফেরাতে মরিয়া। কেননা মেহুল চোকসির প্রত্যর্পণ সফল হলে বহু বছরের অপেক্ষার পরে বিচার ও ক্ষতিপূরণের পথ সুগম হবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।












Click it and Unblock the Notifications