চোখে স্বপ্ন একরাশ নিয়ে হাসপাতালে কোভিড রোগীর দেহ পরিচালনা করছে দ্বাদশ শ্রেণীর ছাত্র
চোখে স্বপ্ন একরাশ নিয়ে হাসপাতালে কোভিড রোগীর দেহ পরিচালনা করছে দ্বাদশ শ্রেণীর ছাত্র
দ্বাদশ শ্রেণীর এক ছাত্র, যে মেডিসিন নিয়ে পড়াশোনা করতে উচ্চাকাঙ্খী, ভাই–বোনের পড়াশোনার খরচ ও তাঁর মায়ের চিকিৎসার জন্য প্রাণের ঝুঁকি নিয়ে কোভিড–১৯ রোগীর দেহ পরিচালনার কাজ করছেন হাসপাতালে।

অর্থ ছাড়াই বেঁচে রয়েছে চাঁদ মহম্মদের পরিবার
চাঁদ মহম্মদের মা থাইরয়েডের রোগী এবং জরুরি ভিত্তিতে ওষুধের প্রয়োজন রয়েছে। কিন্তু পরিবারের কাছে চিকিৎসা করানোর উপায় নেই। উত্তর-পূর্ব দিল্লির সিলামপুর এলাকার বাসিন্দা ২০ বছরের চাঁদ বলেন, ‘লকডাউনের সময় আমার বড় ভাইয়য়ের চাকরি চলে যায়। তিনি কৃষ্ণনগর মার্কেটে মার্চেন্ডাইস দোকানে কাজ করতেন। তারপর থেকেই পরিবারের অবস্থা খারাপ হয়ে যায়।' তাঁর পরিবার বেঁচে রয়েছে প্রতিবেশীদের কাছ থেকে রেশন পেয়ে ও চাঁদের দাদা ছোটখাটো কাজ করে পরিবার কোনওভাবে চালাচ্ছে।

হাসপাতালে সাফাই কর্মীর কাজ
একসপ্তাহ আগে চাঁদ একটি সংস্থায় যোগ দেন, যেখানে তাঁকে সাফাই কর্মী হিসাবে নিয়োগ করা হয়। লোক নায়ক জয় প্রকাশ নারায়ণ হাসপাতালে চাঁদ কাজ শুরু করে। এই চাকরির জন্য তাঁকে করোনা ভাইরাস রোগীদের পরিচালনা করতে হবে। তাঁর কাজের শিফট দুপুর ১২টা থেকে রাত আটটা পর্যন্ত। চাঁদ বলেন, ‘সব জায়গায় চাকরি খুঁজে খুঁজে হয়রান হয়ে শেষে এই কাজে যোগ দিই। এটা খুবই সাংঘাতিক কাজ, আমি সংক্রমণের ঝুঁকি নিয়ে রীতিমতো কাজ করি, কিন্তু আমার এই চাকরির প্রয়োজন রয়েছে।' চাঁদ বলেন, ‘তিন বোন, দুই ভাই ও অভিভাবক সহ আমার পরিবার অর্থ ছাড়াই সংগ্রাম চালিয়ে চলেছি। বর্তমানে আমাদের খাবার ও মায়ের জন্য ওষুধের দরকার রয়েছে।' চাঁদ বলেন, ‘অনেক সময়ই বাড়িতে খাবার একবেলাই রান্না হয়েছে। আমরা ভাইরাসের সঙ্গে লড়ে বেঁচে যাব, কিন্তু ক্ষিধের কাছ থেকে কিভাবে লোকাবো।'

প্রথম মাসের বেতনে সুরাহা হবে পরিবারের
চাঁদ মহম্মদ জানান, তাঁর তিন বোন স্কুলে পড়ে। তিনি নিজে দ্বাদশ শ্রেণীর পড়ুয়া, এখনও স্কুলের বেতন দেয়নি। তিনি বলেন, ‘পড়াশোনা করার জন্য অর্থের প্রয়োজন।' চাঁদ আশা করে রয়েছে যে তাঁর প্রথম মাসের বেতন কিছুটা হলেও পরিবারের সুরাহা হবে। তিনি বলেন, ‘বাড়ি থেকে কাজে বেড়নোর আগে আমি নমাজ পড়ি। আমার ঈশ্বরের ওপর ভরসা রয়েছে। তিনি আমায় এবং আমার পরিবারকে ঠিক রাস্তা দেখাবেন।' প্রসঙ্গত, চাঁদ মেডিসিন নিয়ে উচ্চ শিক্ষা করতে চান। কিন্তু এত ছোট বয়সে এরকম ঝুঁকিপূর্ণ কাজ, তার ওপর কোনও বেসরকারি সংস্থার জীবন বিমাও করা নেই।

ঝুঁকিপূর্ণ কাজ করছে চাঁদ
চাঁদ বলেন, ‘বিশ্বের সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ কাজ করছি এখন, প্রত্যেক মাসে ১৭ হাজার টাকার বিনিময়ে।' প্রত্যেক দিন চাঁদ ২-৩টে কোভিড রোগীর দেহ অন্য সাফাই কর্মীদের সঙ্গে পরিচালনা করেন। তিনি বলেন, ‘আমরা দেহগুলিকে অ্যাম্বুলেন্সে তুলি, শ্মশান বা কবরস্থানে নিয়ে যাই এবং সেখানে পৌঁছে দেহগুলিকে স্ট্রেচারে তুলে দিই। পিপিই কিট পরেই করতে হয়, যা খুবই ভারি। এটা পরার পর খুব বেশি চলাচল করা যায় না এবং শ্বাস নিতে কষ্ট হয়। এই গরমে নিজের ঘামেই স্নান করে নিতে হয়।'
-
ভবানীপুর ও নন্দীগ্রামে উত্তাপ চরমে, শুভেন্দুর বিরুদ্ধে ভয়ের রাজনীতির অভিযোগে মনোনয়ন বাতিলের দাবি তৃণমূলের -
ইডেনে প্রথম জয়ের সন্ধানে কেকেআর-সানরাইজার্স, দুই দলের একাদশ কেমন হতে পারে? -
যুদ্ধ নয়, আলোচনায় সমাধান! হরমুজ ইস্যুতে বৈঠক ডাকল ব্রিটেন, যোগ দিচ্ছে ভারত -
কালিয়াচক কাণ্ডে কড়া বার্তা সুপ্রিম কোর্টের! 'রাজনীতি নয়, বিচারকদের নিরাপত্তাই...', কী কী বলল শীর্ষ আদালত? -
ভোটার তালিকা ইস্যুতে ফের অগ্নিগর্ভ মালদহ, সকালে ফের অবরোধ -
মালদহের ঘটনার তদন্তভার নিল সিবিআই, মমতার তোপে কমিশন -
ভোটের আবহে জলপাইগুড়িতে চাঞ্চল্য, এক্সপ্রেস ট্রেনে জাল নথি সহ ১৪ বাংলাদেশি গ্রেপ্তার, তুঙ্গে রাজনৈতিক তরজা -
'১৫ দিন বাংলায় থাকব', ভবানীপুরে মমতাকে হারানোর ডাক, শাহের চ্যালেঞ্জে তপ্ত রাজনীতি -
কয়লা কেলেঙ্কারির তদন্ত! দেশের বিভিন্ন শহরে আই-প্যাকের দফতর ও ডিরেক্টরের বাসভবনে ইডি তল্লাশি -
কালিয়াচকে প্রশাসনিক গাফিলতি? জেলাশাসক, পুলিশ সুপারকে শোকজ, CBI অথবা NIA তদন্তের নির্দেশ দিল সুপ্রিম কোর্ট -
৫৪ বছর পর চাঁদের পথে মানুষ, ৪ মহাকাশচারী নিয়ে নাসার 'আর্টেমিস ২'-এ ইতিহাসের নতুন অধ্যায় -
'মালদহ কাণ্ডের মাস্টারমাইন্ড' মোফাক্কেরুল ইসলাম গ্রেফতার, পালানোর সময় বাগডোগরা থেকে ধৃত












Click it and Unblock the Notifications