Panchayat Election 2023: হাওড়ার তিন জা তিন যুযুধান দলের প্রার্থী, ভোট নিয়ে ধন্দে পরিবার
একই পরিবারের তিন বৌমা অর্থাৎ তিন জা এবার তিন যুযুধান রাজনৈতিক দলের প্রার্থী হয়েছেন। তাঁদের নিয়ে ধন্দে পড়েছে গোটা পরিবার। আসন্ন পঞ্চায়েত ভোটে অভিনব এই চিত্র দেখা গিয়েছে হাওড়ায়। পঞ্চায়েত ভোটে তিন জায়ের এই লড়াইকে ঘিরে উত্তেজনা রয়েছে গ্রামে।
হাওড়ার সাঁকরাইল ব্লকের থানামাকুয়া গ্রাম পঞ্চায়েতের পোদরার সরকার পাড়ায় বোস পরিবারে একেবারে সাজো সাজো রব। তিন দলের প্রার্থীই রয়েছে একই পরিবারে। তিন জা এবার সম্মুখ সমরে অবতীর্ণ। পোদরা সরকার পাড়ার পঞ্চায়েত ভোট এবার এক অন্য মাত্রা পেতে চলেছে।

রাজ্য রাজনীতির যুযুধান তিন প্রতিপক্ষ তৃণমূল, বিজেপি ও কংগ্রেস। এই তিন দল এবার তাঁদের প্রার্থী ঠিক করেছে একই পরিবার থেকে। তাঁরা যে শুধু একই পরিবারের তাই নয়, সাঁকরাইল ব্লকের এই গ্রাম পঞ্চায়েতের তিন প্রার্থীরই বসবাস একই বাড়িতে।
এক ছাদের তলায় বাস করলেও নিজেদের রাজনৈতিক পরিচয় ভিন্ন। তাঁরা প্রত্যেকে ভিন্ন রাজনৈতিক মতাদর্শে বিশ্বাস করে। যদিও কোনো রাজনৈতিক বিদ্বেষ, হিংসা নেই বোস পরিবারের সদস্যদের মধ্যে। তাঁরা একই সঙ্গে থাকেন, সংসারের কাজ করেন, কিন্তু তিনজনেই ভিন্ন ভিন্ন রাজনৈতির দলের ভাবধারায় বিশ্বাস করেন।

তিন প্রার্থীরই এক বক্তব্য, এলাকার সাধারণ মানুষ যাঁকে নির্বাচিত করবে সে-ই জয়ী হবে। যদিও জয়ের বিষয়ে যথেষ্টই আত্মবিশ্বাসী পোদরার সরকার পাড়ার বোস বাড়ির তিন বৌ। তৃণমূলের প্রার্থী হয়েছেন কাকলি বোস, বিজেপির প্রার্থী হয়েছেন পিঙ্কি বোস আর কংগ্রেসের প্রার্থী নীলিমা বোস।
একান্নবর্তী পরিবারের এই তিন সদস্য তিন ভিন্ন দলের হয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার ঘটনা যথেষ্টই নজর কেড়েছে এলাকার ভোটেরদের মধ্যেও। পরিবারের তিন গৃহবধূই ১১৩ নম্বর বুথে গ্রামসভাতে জয়ী হতে জোরদার প্রচারে নেমে পড়েছেন। তিনজনের কেউই সক্রিয় রাজনীতির সঙ্গে কোনোদিন যুক্ত ছিলেন না।

যদিও গত নির্বাচনে সরকার বাড়ির বড় বৌয়ের নির্দল হিসাবে প্রার্থী হওয়ার অভিজ্ঞতা রয়েছে। তবে নিত্যদিনের রাজনীতি সেভাবে কখনো করেননি। বরং বলা যেতে পারে, আসন্ন পঞ্চায়েত ভোটেই তাঁদের রাজনীতিতে হাতেখড়ি হচ্ছে। দেওয়াল লিখন, ফেস্টুন, ব্যানার থেকে শুরু করে তিন প্রার্থীই বাড়ি বাড়ি প্রচার শুরু করেছেন বাড়ির গৃহস্থালীর কাজ সামলে।

তিনজনেই জানান, রাজনীতির ময়দানে যেই জিতুক না কেন, কোনোভাবেই হিংসার রেশ তাঁদের পরিবার বা গ্রামের মানুষের মধ্যে পড়বে না। এখন ভোটের ফলাফলের দিকেই তাকিয়ে রয়েছে এলাকার মানুষ। সরকার বাড়ির তিন জায়ের মধ্যে শেষ হাসি কে হাসবে, তা জানতে অপেক্ষা করতে হবে আর কয়েকটা দিন।












Click it and Unblock the Notifications