Sunil Chhetri: শৃঙ্খলা এবং অনুশাসনই সাফল্যের চাবিকাঠি, ক্যাপ্টেনের বিদায়ে আবেগতাড়িত সতীর্থ থেকে প্রাক্তনীরা
ভারতীয় ফুটবলের একটা যুগের অবসান হতে চলেছে। আগামী ৬ জুন কলকাতায় কুয়েতের বিরুদ্ধে ফিফা বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের ম্যাচের পরে আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসরের সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেছেন সুনীল ছেত্রী, যা তাঁর দুই দশকের বর্ণাঢ্য কেরিয়ারে পর্দা নামিয়ে আনবে। যে কলকাতা থেকে ভারতীয় ফুটবলে যাত্রা শুরু করেছিলেন সুনীল ছেত্রী সেখানেই অবসর নিচ্ছেন ক্যাপ্টেন।
বাইচুং ভুটিয়া পরবর্তী সময়ে ভারতীয় ফুটবলের আইকন সুনীল। ভারতীয় দলের জার্সিতে সর্বোচ্চ গোলদাতা, আন্তর্জাতিক গোলের নিরিখে বিশ্বের তৃতীয় কিন্তু এসবই নিছক রেকর্ড এবং পরিসংখ্যান কিন্তু এর বাইরেও ভারতীয় ফুটবলে সুনীলের অবদান অপরিসীম এবং অনন্ত।

ওয়ান ইন্ডিয়াকে মেহেতাব হোসেন বলেন, !সুনীল জীবনে যা অর্জন করেছে তার জন্য আমি অত্যন্ত খুশি আগামী দিনের জন্য ওকে অনেক শুভেচ্ছা জানাতে চাই। আমরা একইসঙ্গে মোহনবাগানে খেলতে শুরু করেছিলাম। আজ সেই দিনগুলোর কথা খুব মনে পড়ছে। শৃঙ্খলা এবং পরিশ্রম সুনীলকে বাকিদের থেকে আলাদা করে দিয়েছে। আমার মনে হয় কলকাতা ছাড়ার পর ও নিজেকে যেভাবে পরিবর্তন এবং পরিমার্জিত করেছে তা এক কথায় অসাধারণ আমার মনে হয় ব্যাঙ্গালুরু এফসিতে যোগদান যোগ দেওয়াটাই ওর জীবনের টার্নিং পয়েন্ট। '
সুনীলের সঙ্গে স্মৃতি প্রসঙ্গে মেহেতাব হোসেন বলেছেন, 'আমার সঙ্গে সুনীলের অনেক স্মৃতি জড়িয়ে আছে। বিশেষ করে পার্ক স্ট্রিটের মোহনবাগানের মেসে আমরা একসঙ্গে থাকতাম সেই সময় অনেক স্মৃতি রয়েছে।'
প্রাক্তন ফুটবলার মানস ভট্টাচার্য মোহনবাগানের যোগ দেওয়ার সময় থেকেই সুনীল ছেত্রী খুব কাছ থেকে দেখেছেন। এমন দিনে মানস ভট্টাচার্যও ফিরে গেলেন অতীতের স্মৃতিতে। সুনীলের সেই প্রথম দিনগুলো সম্পর্কে প্রাক্তন ফুটবলার বলছেন, 'সুনীল যেদিন প্রথম মোহনবাগান অনুশীলনের যোগ দিলো সুব্রত ভট্টাচার্যের কোচিংয়ে সেদিন আমি মাঠে ছিলাম। বাবলু দা আমায় বলেছিল মানস এই ছেলেটাকে দেখো নতুন এসেছে আমি প্রথম দিন অনুশীলনের পরই বাবলুদাকে বলেছিলাম এই ছেলেটা যদি সুযোগ পায় মোহনবাগানের জন্য রত্ন হতে পারে।'
একইসঙ্গে মানস ভট্টাচার্য বলেছেন, 'অবশেষে দেখা গেল অনুশীলন অনুশাসনের মধ্যে দিয়েই সুনীল ছেত্রী নিজেকে তৈরি করেছেন। সুনীলের পর এখনও পর্যন্ত সেভাবে স্ট্রাইকার উঠে এলো না এই বিষয়টা কিন্তু আমাদের ভাবতে হবে। সুনীলের পর কে দায়িত্ব নেবেন সেটাও কিন্তু একটা চিন্তার বিষয়।'
অপর প্রাক্তন ফুটবলার দীপেন্দু বিশ্বাস আবার জানিয়েছেন সঠিক সময়েই অবসরের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন সুনীল। দীপেন্দুর কথায়, যদি গোলের দিক থেকে দেখা যায় তাহলে আন্তর্জাতিক ফুটবলে তিন নম্বরে রয়েছে সুনীল। যে যাই বলুক ভারতীয় ফুটবলের সেরা স্ট্রাইকারের নাম সুনীল ছেত্রী। ও যা গোল করেছে তা অন্য কেউ করতে পারেনি এমনকি আন্তর্জাতিক ফুটবলেও তিন নম্বরে রয়েছে। এটাতেই ওর সাফল্য প্রমাণিত হয়।'
একইসঙ্গে দীপেন্দু বলেন, 'আমার মনে হয় সঠিক সময় সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। কারণ একটা সময় পর্যন্ত ওকে পুরো ম্যাচ খেলানো হচ্ছিল কিন্তু বর্তমানে ব্যাঙ্গালুরু হোক বা জাতীয় দল ওকে বসিয়ে রাখা হচ্ছিল অনেকটা সময়। যেটা ওর পক্ষে একেবারেই সম্মানজনক নয়।' তবে দীপেন্দু মানতে নারাজ সুনীল চলে গেলে ভারতীয় ফুটবলের স্ট্রাইকিং লাইন আরও দুর্বল হয়ে পড়বে। তাঁর কথায় আরও অনেক নতুন ফুটবলার রয়েছে যারা সুযোগ পাবেন সুযোগ দিলেই নতুন ফুটবলাররা উঠে আসবে।












Click it and Unblock the Notifications