বাংলার ফুটবলে জোয়ার আনতে রাজ্য সরকারের অভিনব উদ্যোগ, জেলায় জেলায় বিবেকানন্দ কাপ
বাংলার ফুটবলের সাপ্লাই লাইন জোরদার করতে এবার অভিনব উদ্যোগ নিল রাজ্য সরকার। ক্রীড়া ও যুবকল্যাণ এবং আইএফএ-র যৌথ উদ্যোগে শুরু হচ্ছে বিবেকানন্দ কাপ জেলা ক্লাব ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপ। আজ নব মহাকরণ থেকে এই ঘোষণা করেন ক্রীড়া ও যুবকল্যাণমন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস। ছিলেন ক্রীড়া ও যুবকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী মনোজ তিওয়ারি, আইএফএ সভাপতি অজিত বন্দ্যোপাধ্যায়, আইএফএ সচিব অনির্বাণ দত্ত প্রমুখ।

১৮৯৩ সালের ১১ সেপ্টেম্বর স্বামী বিবেকানন্দ শিকাগোর কলম্বাস হলে ধর্ম মহাসভায় ঐতিহাসিক বক্তৃতা করেছিলেন। তার এবার ১৩৩ বছর। আবার আইএফএ প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল ১৮৯৩ সালেই। অরূপ বিশ্বাস বলেন, স্বামী বিবেকানন্দকে যুবসমাজের কাছে আরও বেশি করে পৌঁছে দিতে এবং তাঁর আদর্শকে সামনে রেখে এই ফুটবল প্রতিযোগিতা আয়োজন করা হচ্ছে। কলকাতা ময়দানের ক্লাবগুলি বলে বাংলা থেকে ভালো ফুটবলার পাওয়া যাচ্ছে না বলেই ভিনরাজ্যের ফুটবলারদের উপর নির্ভরশীল হতে হচ্ছে। আমরা চাই সমস্যার গভীরে গিয়ে সমাধান করতে। জেলাগুলি থেকে প্রতিভাবান শ'খানেক ফুটবলার তুলে এনে কলকাতা প্রিমিয়ার বা ফার্স্ট ডিভিশনে খেলানোই আমাদের মূল লক্ষ্য। যাতে তাঁরা দেশের হয়ে প্রতিনিধিত্ব করতে পারেন। বর্তমানে ভারতীয় ফুটবলে বাংলার ফুটবলার নেওয়াই হয় না। দল নির্বাচনে রাজনীতি হয়, স্বশাসিত সংস্থাগুলিকে আমরা কিছু বলি না। কিন্তু বাংলা থেকে আরও বেশি ফুটবলার যাতে দেশের হয়ে খেলতে পারেন, সেই ব্যবস্থাপনা আমরা সুনিশ্চিত করতে চাই।
ক্রীড়ামন্ত্রী বলেন, ২৩টি জেলাই এই প্রতিযোগিতায় অংশ নেবে। জেলা ক্রীড়া সংস্থাগুলির সঙ্গে কথা বলে ঠিক করে সংশ্লিষ্ট জেলার কোন ক্লাবগুলি খেলবে। এক জেলার ফুটবলার অন্য জেলার হয়ে খেলতে পারবেন না। জেলার স্থায়ী বাসিন্দাদেরই সংশ্লিষ্ট জেলার ক্লাবে প্রতিনিধিত্ব করতে হবে। প্রতি জেলায় ৮টি করে দল খেলবে। সেখানে যারা জিতবে বা রানার্স হবে তারা পরের পর্বে খেলবে। ১১ সেপ্টেম্বর স্বামী বিবেকানন্দর তৈরি বেলুড় মঠের মাঠ থেকেই এই প্রতিযোগিতার সূচনা হবে। এই প্রতিযোগিতা চলবে ২০২৬ সালের মার্চ অবধি। প্রতি বছরই এই টুর্নামেন্ট আয়োজন করে বাংলার ফুটবলের সাপ্লাই লাইন মজবুত করাই লক্ষ্য, জানান ক্রীড়ামন্ত্রী।
আইএফএ সচিব অনির্বাণ দত্ত বলেন, আন্তঃ জেলার পর রাজ্যভিত্তিক গ্রুপ স্তর, কোয়ার্টার ফাইনাল, সেমিফাইনাল, ফাইনালে প্রাইজমানি ধরলে মোট পুরস্কারমূল্য ৫০ লক্ষ টাকার। যাতে ক্লাবগুলি ভালো করে দল গঠন করতে পারে। অরূপ বিশ্বাস জানিয়েছেন, জেলা থেকে প্রতিভা অন্বেষণের লক্ষ্যে নয়া ফুটবল প্রতিযোগিতায় থাকবে ৩৯০টি ম্যাচ। স্কাউটরা চিহ্নিত করবেন ফুটবলারদের। ময়দানের ক্লাবগুলিকেও প্রতিভা চিহ্নিত করার জন্য প্রতিনিধি পাঠানোর অনুরোধ করা হবে।












Click it and Unblock the Notifications