ফুটবল বিশ্বকাপ নিয়ে এই অজানা তথ্যগুলি জেনে নিন অবশ্যই
বিশ্বকাপ সম্পর্কে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জেনে নিন একনজরে।
সারা বিশ্বে খেলাধুলোর নিরিখে অলিম্পিক বাদে আর কোনও টুর্নামেন্ট নিয়ে এত আগ্রহ, ব্যাপ্তি ও জনপ্রিয়তা রয়েছে কিনা সন্দেহ। ১৯৩০ সালে শুরু হওয়ার পর যত দিন গিয়েছে, ততই ধারে-ভারে ও আয়তনে বেড়েছে বিশ্বকাপ। বিশ্বকাপ ফুটবলের জনপ্রিয়তা নিয়ে সন্দেহের অবকাশ নেই। এবারের বিশ্বকাপের আসর বসছে রাশিয়ায়। ৩২টি দেশ ফুটবলের সম্মুখ-সমরে নামবে। এশিয়া, আফ্রিকা, ইউরোপ, আমেরিকা মহাদেশের তাবড় দলগুলি একে অপরের বিরুদ্ধে সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করবে। বিশ্বকাপ সম্পর্কে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জেনে নিন একনজরে।

উরুগুয়ের প্রাপ্তি
১৯২৯ সালের অলিম্পিকে সবচেয়ে বেশি সোনা জেতে উরুগুয়ে। তার পুরস্কার হিসাবে ১৯৩০ সালে প্রথম ফুটবল বিশ্বকাপ আয়োজনের দায়িত্ব পায় উরুগুয়ে।

জুলে রিমে কাপ
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ চলাকালীন ইতালির ফুটবল প্রশাসক ওত্তোরিনো বারাসি রোমের একটি ব্যাঙ্কে রাখা 'জুলে রিমে' ট্রফি (ফিফা বিশ্বকাপের আগের নাম) বের করে এনে নিজের ঘরের খাটের নিচে জুতোর বাক্সে লুকিয়ে রাখেন। অ্যাডলফ হিটলার ও নাৎসী বাহিনীর ভয়ে তিনি এরকম করতে বাধ্য হয়েছিলেন। ১৯৫০ সালে ফের বিশ্বকাপ শুরু হওয়ার আগে পর্যন্ত ট্রফিটি তাঁর হেফাজতেই ছিল।

ভারত নাম তুলে নেয়
১৯৫০ সালের বিশ্বকাপে ভারত যোগ্যতা অর্জন করলেও পরে নাম তুলে নিতে বাধ্য হয়। কারণ ফিফার নিয়মানুযায়ী বুট পরে ম্যাচ খেলতে হতো। অথচ ভারতীয়রা সেইসময়ে খালি পায়ে ফুটবল খেলতেই অভ্যস্ত ছিলেন।

সবচেয়ে বেশি দর্শক
১৯৫০ সালে বিশ্বকাপ ফুটবল ফাইনাল অনুষ্ঠিত হয় ব্রাজিলে। সেই ম্যাচে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে ব্রাজিল ও উরুগুয়ে। সেদিন ব্রাজিলের মারকানা স্টেডিয়ামে সবচেয়ে বেশি (১৯৯, ৯৫৪) দর্শকের সমাগম হয়েছিল। সেই রেকর্ড আজও অটুট। সেবার ব্রাজিলকে ২-১ গোলে হারিয়ে বিশ্বকাপ জেতে উরুগুয়ে।

অলিভার কানকে পুরস্কার
গোলকিপার হিসাবে বিশ্বকাপে শ্রেষ্ঠ খেলোয়াড়ের পুরস্কার জিতেছেন একমাত্র অলিভার কান। তিনি ছাড়া এই রেকর্ড আর কারও নেই।

রজার মিল্লার রেকর্ড
১৯৯৪ সালের বিশ্বকাপে ক্যামেরনের রজার মিল্লা সবচেয়ে বেশি (৪২ বছর) বয়সী খেলোয়াড় হিসাবে অংশগ্রহণ করেন ও গোল করেন। এটা বিশ্বকাপে রেকর্ড।

ভিভ রিচার্ডসের রেকর্ড
ওয়েস্ট ইন্ডিজের কিংবদন্তি ক্রিকেটার ভিভ রিচার্ডস একমাত্র খেলোয়াড় হিসাবে ফিফা বিশ্বকাপ ও আইসিসি ক্রিকেট বিশ্বকাপে খেলেছেন।

ফতেঁ-র রেকর্ড
১৯৫৮ সালের বিশ্বকাপে মাত্র ৬টি ম্যাচে সর্বাধিক ১৩টি গোল করে রেকর্ড গড়েন ও সোনার বুট পান ফরাসি স্ট্রাইকার জুস্ত ফতেঁ যা আজও অক্ষত রয়েছে।

সালেঙ্কোর রেকর্ড
বিশ্বকাপের একটি ম্যাচে সর্বাধিক ৫টি গোলের রেকর্ড রয়েছে রাশিয়ার ওলেগ সালেঙ্কোর। ১৯৯৪ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপে ক্যামেরনের সঙ্গে তিনি এই রেকর্ড গড়েন।

সবচেয়ে বেশি গোলে জেতার রেকর্ড
১৯৮২ স্পেন বিশ্বকাপে এল সালভাদরকে ১০-১ গোলে হারায় হাঙ্গেরি। বিশ্বকাপের কোনও ম্যাচে এটাই সবচেয়ে বেশি ব্যবধানে গোলের ও জেতার রেকর্ড।

পেলের রেকর্ড
ফুটবল কিংবদন্তি পেলে একমাত্র খেলোয়াড় যিনি তিনবার কোনও বিশ্বকাপজয়ী দলের সদস্য ছিলেন। ১৯৫৮, ১৯৬২ ও ১৯৭০ সালে পেলে খেলাকালীন ব্রাজিল বিশ্বকাপ ঘরে তোলে।

সুকুরের রেকর্ড
বিশ্বকাপের সবচেয়ে দ্রুততম গোলটি করেন তুরস্কের হাকান সুকুর। ২০০২ সালে জাপান-কোরিয়া বিশ্বকাপে দক্ষিণ কোরিয়ার বিরুদ্ধে মাত্র ১১ সেকেন্ডে তিনি গোল করে রেকর্ড গড়েন।

সবচেয়ে বেশি গোল ক্লোসের
বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি গোলের রেকর্ড রয়েছে জার্মানির মিরোস্লাভ ক্লোসে-র। ২৪টি ম্যাচে ১৬টি গোল করেছেন তিনি। তাঁর পরে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছেন ব্রাজিলের রোনাল্ডো। ১৯ ম্যাচে ১৫ গোল করেছেন তিনি।

দুই দেশের হয়ে বিশ্বকাপ খেলা
লুইস মন্তি একমাত্র খেলোয়াড় যিনি আর্জেন্তিনার হয়ে ১৯৩০ সালে ও ১৯৩৪ সালে ইতালির হয়ে বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ করেন।

হার্স্টের হ্যাটট্রিক
১৯৬৬ সালের বিশ্বকাপ ফাইনালে হ্যাটট্রিক রয়েছে একমাত্র ইংল্যান্ডের জিওফ হার্স্টের। সেবারই ইংল্যান্ড এখনও পর্যন্ত একবারই ফাইনালে ওঠে ও বিশ্বকাপ জেতে। তার আগে-পরে ইংল্যান্ড কোনওদিন ফাইনাল খেলেনি।

দুই দেশে বিশ্বকাপের আসর
২০০২ সালে প্রথমবার দুটি দেশ একসঙ্গে বিশ্বকাপের আয়োজন করে। বিশ্বকাপের আসর বসে জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ায়।

আফ্রিকায় বিশ্বকাপ
২০১০ সালে প্রথম আফ্রিকান দেশ হিসাবে দক্ষিণ আফ্রিকায় বিশ্বকাপ ফুটবলের আসর বসে। সেবছর বিশ্বকাপ জেতে স্পেন। জোহানেসবার্গের ফাইনালে ১-০ গোলে হারায় নেদারল্যান্ডসকে।












Click it and Unblock the Notifications