বার্সেলোনায় কান্নায় ভেঙে পড়ে লিওনেল মেসি কেরিয়ার নিয়ে দিলেন বড় ইঙ্গিত
যুব ও সিনিয়র দল নিয়ে ২১ বছরের সম্পর্ক ছিন্ন হওয়ার মুহূর্তে বিদায়-যন্ত্রণায় কান্নায় ভেঙে পড়লেন আর্জেন্তিনা তথা বার্সেলোনার অধিনায়ক লিওনেল মেসি। বার্সা ও মেসি দুই তরফই চুক্তি স্বাক্ষরে সম্মত হয়েও শেষ মুহূর্তে তা হয়নি লা লিগার কিছু নিয়মের কারণেই। বার্সা মেসিকে ধরে রাখতে না পারায় সমর্থকরা যেমন হতাশ, তেমনই আগুয়েরো বার্সায় যোগ দিয়েও এবার তা ভেঙে বেরিয়ে যেতে ইচ্ছুক। এই আবহেই বার্সেলোনায় শেষ সাংবাদিক সম্মেলনে আজ হাজির হন মেসি। সেখানেই তিনি জানালেন, পিএসজি (প্যারিস সাঁ জারমাঁ বা পারি সাঁ জারমাঁ)-তে তাঁর যোগদানের সম্ভাবনা রয়েছে।
|
মেসি-র বিদায়
জুনেই মেসির সঙ্গে বার্সার চুক্তি শেষ হয়ে গিয়েছিল। কোপা আমেরিকার পর নতুন চুক্তি স্বাক্ষর হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু করোনা পরিস্থিতিতে তৈরি আর্থিক সঙ্কট এবং লা লিগায় আর্থিক ও কাঠামোগত প্রতিবন্ধকতাতেই মেসিকে ধরে রাখতে পারল না বার্সা। জানা গিয়েছিল, বেতনের ৫০ শতাংশ কমিয়েও বছর পাঁচেক মেসি চুক্তিবদ্ধ হতে রাজি। যদিও শুক্রবারই বার্সা প্রেসিডেন্ট লাপোর্তার সঙ্গে মেসির বৈঠকের পর বার্সা লা লিগার ঘাড়ে যাবতীয় দায় চাপিয়ে জানিয়ে দেয়, দুই পক্ষ আগ্রহী থাকলেও শেষ অবধি মেসিকে রাখা সম্ভব হল না।
|
কেঁদে ফেললেন লিও
এটা যে তাঁর কাছেও বিশাল ধাক্কা তা স্পষ্ট করে দিয়ে মেসি এদিন বলেন, খুবই কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হলাম। আমি এর জন্য প্রস্তুতও ছিলাম না। গত বছর বার্সা ছাড়ার ভাবনা আমার মাথায় এসেছিল। কিন্তু এই বছর আমি, আমার পরিবার সকলেই চেয়েছিলাম যে আমি এই ক্লাবেই থাকি। বার্সেলোনা আমার নিজের ঘর, সেখানেই থাকতে চেয়েছিলাম। আমার তিন সন্তানেরও এখানেই জন্ম। ২১ বছর পর তাদের নিয়ে নিজের ঘর ছাড়তে হচ্ছে। আমি আমার সতীর্থ-সহ সকলে যাঁরা পাশে থেকেছেন তাঁদের কাছে কৃতজ্ঞ।
|
বার্সা ঘর
মেসি আরও বলেন, প্রথম দিন থেকে শেষ দিন অবধি ক্লাবের জন্য নিজের সবটা উজাড় করে দিয়েছি। কিন্তু ভাবিইনি এভাবে গুডবাই জানাতে হবে। এটা আমার কল্পনারই বাইরে ছিল। আমি যাতে বার্সেলোনাতেই থাকতে পারি তার জন্য সবকিছু করেছিলাম। বার্সেলোনাও চেয়েছিল আমাকে ধরে রাখতে, কিন্তু লা লিগার কারণেই তা পারল না। আমাকে নিয়ে অনেক কিছু বলা হয়েছে। কিন্তু আমি এটা বলতে পারি, আমার তরফে যা করণীয় ছিল তার সব করেছি। আমি এখানেই থাকতে চেয়েছিলাম। গত বছর ছাড়ার ভাবনা মাথায় এসেছিল, সেটাও প্রকাশ্যে জানিয়েছিলাম। কিন্তু এ বছর থাকার ইচ্ছা থাকলেও তা আর হল না।
|
বিদায় বেদনা
করোনা পরিস্থিতিতে দর্শকশূন্য স্টেডিয়ামে খেলার প্রসঙ্গ টেনে মেসি বলেন, আমি আমার ক্লাবকে ভালোবাসি। বছর দেড়েক ধরে ফুটবল সমর্থকদের সামনে খেলতে না পারাটাও খুব কঠিন ছিল। আজ শেষবার বার্সেলোনার সাংবাদিক সম্মেলনে বিদায় জানাতে হচ্ছে। খুব ভালো লাগত যদি দর্শকঠাসা ক্যাম্প ন্যু-তে সকলের উপস্থিতিতে এই বিদায়ী ভাষণ দিতে পারতাম। সেটাই বিদায়ের সেরা মুহূর্তও হতে পারত।
|
এবার কোথায়?
লিওনেল মেসি কোন ক্লাবে যোগ দেবেন তা নিয়ে চলছে জোর চর্চা। মেসি বলেন, পিএসজিতে যোগদান এই মুহূর্তে একটা সম্ভাবনা। বার্সার বিবৃতির পর অনেক ফোন বা প্রস্তাব আসছে। কথাবার্তাও চলছে। কিন্তু এখনও কিছু চূড়ান্ত হয়নি। তবে মেসি পিএসজি-তে যোগ দিলে মেসি-নেইমার-এমবাপের ত্রিফলায় পিএসজি যে বিধ্বংসী জায়গায় পৌঁছে যাবে সে নিয়ে সংশয় নেই ফুটবল মহলের। পিএসজি-র বিরুদ্ধে সব দলের ডিফেন্সই যে প্রবল চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে সে কথা নিঃসন্দেহে বলা যায়।

জল্পনা চরমে
এরই মধ্যে ফরাসি সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা যাচ্ছে, পিএসজি-তে মেডিক্যাল টেস্ট দিতে যে কোনও মুহূর্তে পৌঁছাতে পারেন লিওনেল মেসি। বার্সেলোনা মেসিকে ছেড়ে দিতেই বেশ কয়েকটি ক্লাব এই তারকাকে সই করানোর জন্য ঝাঁপায়। যদিও শুরু থেকেই এগিয়ে রয়েছে পিএসজি। পিএসজি-র ম্যানেজার মৌরিসিও পচেত্তিনো সরাসরি মেসিকে ফোনও করেন। এমনকী পিএসজি জয় দিয়ে লিগ ওয়ান অভিযান শুরু করার পরই তিনি বলেছেন, সব কোচেরই স্বপ্ন থাকে সেরা ফুটবলারকে কোচিং করানোর। তাঁর এই কথাতেই মেসির পিএসজি-তে যোগদানের জল্পনা চরমে পৌঁছেছে। জানা যাচ্ছে, মেসি দুই বছরের জন্য চুক্তিবদ্ধ হতে পারেন। তা অতিরিক্ত এক বছরের জন্য বাড়ানোও হতে পারে।












Click it and Unblock the Notifications