কোভিড আক্রান্ত সুরজিৎ সেনগুপ্ত, ভর্তি হাসপাতালে
কোভিড আক্রান্ত সুরজিৎ সেনগুপ্ত, ভর্তি হাসপাতালে
হাসপাতালে ভর্তি ভারতীয় ফুটবলের অন্যতম দিকপাল সুরজিৎ সেনগুপ্ত। করোনার মৃদু উপসর্গ থাকায় রবিবার (২৩ জানুয়ারি) শহরের এক বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয় তাঁকে। বর্তমানে চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে রয়েছেন তিনি।

সোমবার প্রতিবেদকের পক্ষ থেকে কিংবদন্তি এই ফুটবলারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, "প্রাথমিক ভাবে কোনও সমস্যা ছিল না। শুধু কাশি হচ্ছিল প্রচণ্ড। কোনও ঝুঁকি না নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হই। এখন পিয়ারলেসে রয়েছি। ডাক্তারদের পর্যবেক্ষণেই রয়েছি। আগের থেকে কিছুটা ভাল বোধ করছি।" স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছিল দু-চার কথা বলতেও কষ্ট হচ্ছে তাঁর।
সুরজিৎ সেনগুপ্তের ছেলে জানিয়েছেন, গত দু'দিন ধরে প্রবাদপ্রতীম ফুটবলারের কাশির মাত্র মারাত্মক বেড়ে গিয়েছিল। দেখা যায় অক্সিজেনের মাত্রা প্রায় ৮০-তে নেমে গিয়েছিল, এর পরেই তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। হাসপাতালে তাঁর কোভিড টেস্ট করা হয় এবং সেই রিপোর্ট পজিটিভ আসে। বর্তমানে অক্সিজেন সাপোর্টে রয়েছেন সুরজিৎ সেনগুপ্ত। তাঁর অক্সিজেনের বর্তমান মাত্রা ৯২-এর আশেপাশে। কোভিড জেনারেল ওয়ার্ডেই রাখা হয়েছে তাঁকে।
ইস্টবেঙ্গল, মোহনবাগান এবং মহমেডানে দাপিয়ে খেলা ৭১ বছর বয়সী সুরজিৎ সেনগুপ্ত ছিলেন দেশের অন্যতম সেরা উইঙ্গার। মোহনবাগানের জার্সিতে বড় ক্লাবে হাতে খরি হলেও তিনি ছিলেন আদ্যপ্রান্ত ইস্টবেঙ্গলের ঘরের ছেলে। মোহনবাগান থেকে কার্যত হাইজ্যাক করা হয়েছিল সুরজিৎকে। লাল-হলুদে এসে ঘরের ছেলে হয়ে উঠতে বেশি সময় লাগেনি। ১৯৭৭-৭৯ পর্যন্ত ইস্টবেঙ্গলের অধিনায়কও ছিলেন তিনি। দলের বহু জয়ের নেপথ্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছেন অসংখ্যবার। ১৯৮০ সালে মহমেডান স্পোর্টিং-এ সই করেন তিনি।
পেশাদার ফুটবলকে বিদায় জানানোর পর তাঁর অন্যান্য সতীর্থদের মতো কোচিং-কে বেছে নেননি। বরং সময় কাটাতেন নিজের মতো। কেউ না ডাকলে বা খোঁজ করলে খুব বেশি ময়দানমুখী হননি।
কিছু দিন আগে প্রয়াত হয়েছেন সুভাষ ভৌমিক। ময়দানের ভোম্বল দা'র প্রয়াণে শোকাহত গোটা ভারতের ফুটবল মহল। ফুটবলার হিসেবে যেমন উজ্জ্বল নক্ষত্র ছিলেন, তেমনই কোচিং-এও পেয়েছেন ভুরিভুরি সাফল্য। সুভাষ ভৌমিকের প্রয়াণে কয়েক দিনের মধ্যে সুরজিৎ সেনগুপ্ত অসুস্থ হয়ে পড়ায় উদ্বেগ বাড়ল দেশের ফুটবল মহলের।












Click it and Unblock the Notifications