ভারতীয় ফুটবল কি নির্বাসন এড়াতে পারবে? সুপ্রিম কোর্টের শুনানির পর পরিস্থিতি কেমন?
সুপ্রিম কোর্টে এখনও অস্বস্তি কাটল না এআইএফএফের। ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে নতুন সংবিধান তৈরির জন্য এআইএফএফকে সময়সীমা বেঁধে দিয়েছ ফিফা। তা সুনিশ্চিত করতে যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে কাজ করতে হবে। আশা করা গিয়েছিল, আজকের শুনানিতেই এআইএফএফের খসড়া সংবিধানকে সবুজ সঙ্কেত দেওয়া হবে। কিন্তু আগামী সপ্তাহের আগে তা সম্ভব হচ্ছে না।

আগামী সপ্তাহে সবুজ সঙ্কেত
সুপ্রিম কোর্ট নিযুক্ত তিন সদস্যের প্রশাসকমণ্ডলী এআইএফএফের নতুন সংবিধান তৈরি ও নির্বাচন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার দায়িত্বে। আজ শুনানিতে শীর্ষ আদালত জানিয়েছে, প্রশাসকমণ্ডলী ২৫০টির মতো পরামর্শ বা সুপারিশের ভিত্তিতে রিপোর্ট জমা দিয়েছে। উল্লেখ্য, গত ১৮ মে এই প্রশাসকমণ্ডলীকে নিয়োগ করেছিল শীর্ষ আদালত। ১৫ জুলাই শীর্ষ আদালতে খসড়া সংবিধান জমা দেওয়া হয় এআইএফএফের প্রশাসকমণ্ডলীর তরফে। জানা যাচ্ছে, আগামী সপ্তাহের কোনও দিন এই খসড়া সংবিধানকে সবুজ সঙ্কেত দেবে শীর্ষ আদালত।

সময়সীমা মানার চ্যালেঞ্জ
গত ১৬ জুলাই ভারতীয় ফুটবলের নিয়ামক সংস্থার তরফে জানানো হয়েছিল, সুপ্রিম কোর্ট এই ব্যাপারে নির্দেশ দিলেই তার এক সপ্তাহের মধ্যে ফেডারেশনের অ্যাপেক্স কাউন্সিলের বৈঠকেই নতুন সংবিধান চূড়ান্ত করে ফেলা হবে। মনে করা হচ্ছে, ৩১ জুলাইয়ের সময়সীমার মধ্যে নতুন সংবিধান চূড়ান্ত করতে বিশেষ বেগ পেতে হবে না। তবে সমস্যাও যে থাকবে না তা নয়। খসড়া সংবিধানের একটি শর্ত নিয়েই ফের আইনি জটিলতায় জড়াতে পারে এআইএফএফ। তাতে সংবিধান অনুমোদন করালেও বিড়ম্বনা থাকবেই।

আই লিগ বনাম আইএসএল
সংবাদসংস্থা পিটিআইয়ের দাবি, খসড়া সংবিধান অনুযায়ী যেহেতু আই লিগ সরাসরি ফেডারেশনের তত্ত্বাবধানে হয় তাই সেটাই দেশের এক নম্বর লিগের মর্যাদা পেতে চলেছে। এখানেই ফেডারেশনের অস্বস্তিতে। আইএসএল যখন শুরু হয় তখন সেটিকেই দেশের এক নম্বর হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছিল। শুধু তাই নয়, খসড়া সংবিধানের অন্তত ২০টি ক্ষেত্রে বিভিন্ন রাজ্য ফুটবল সংস্থা ও আইএসএলের আয়োজক ফুটবল স্পোর্টস ডেভেলপমেন্ট লিমিটেডের আপত্তি রয়েছে। আর সেটি যদি সত্যি হয় এবং ফেডারেশনকে মামলার মুখোমুখি হতে হয় তাহলে ফিফার দেওয়া সময়সীমা লঙ্ঘনের দায়ে ভারতীয় ফুটবলের উপর নির্বাসনের খাঁড়া থাকবে। সেক্ষেত্রে ভারতে বিদেশিরা যেমন খেলতে আসবেন না, তেমনই মহিলা অনূর্ধ্ব ১৯ বিশ্বকাপের আয়োজকের দায়িত্বও হারাবে ভারত।

থাকছে আশঙ্কার মেঘ
জানা যাচ্ছে, খসড়া সংবিধানের ২০.২ নং ধারায় বলা হয়েছে, প্রতিটি রাজ্য ফুটবল সংস্থার এআইএফএফের জেনারেল বডিতে যে দুজনের ভোটাধিকার রয়েছে তাঁদের মধ্যে একজন হতে হবে প্রাক্তন ফুটবলার। তবে জেনারেল বডিতে এক টার্মের বেশি কোনও ফুটবলার থাকতে পারবেন না। এআইএফএফের কর্মসমিতির কেউ রাজ্য সংস্থার কোনও পদে থাকতে পারবেন না, এতেও অনেকের আপত্তি রয়েছে। সবমিলিয়ে জল কোন দিকে গড়ায় সেদিকে তাকিয়ে ফুটবলপ্রেমীরা।












Click it and Unblock the Notifications