ভামোসে খামোশ ব্রাজিল! কাপ জয়ে রোনাল্ডোর সঙ্গে কাকতালীয় মিল লিওনেল মেসি-র

রিও-র মারাকানায় ব্রাজিলকে পরাস্ত করে ভামোস আর্জেন্তিনার গর্জন। কেউ বলছেন ভামোস ব্রাজিলকে করল খামোশ! দেশের হয়ে প্রথম কোনও কাপ জিতলেন লিওনেল মেসি। নিঃসন্দেহে হলেন এবারের টুর্নামেন্টের সেরা ফুটবলার।

গোট বিতর্কের অবসান!

ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো বা নেইমারের সঙ্গে GOAT বা সর্বকালের সেরা ফুটবলারের তর্ক-বিতর্কে এতদিন লিওনেল মেসিকে অস্বস্তিতে রাখত দেশের হয়ে একটিও কাপ জিততে না পারা। সেই শাপমুক্তি হল ভারতীয় সময় রবিবার ভোরে, কিন্তু রিও-তে শনিবাসরীয় রাতে। সমর্থকরা দাবি করলেন, তর্ক-বিতর্ক এখন অতীত। মেসিই সর্বকালের সেরা। এবারের ইউরোতে মেসি চারটি গোল করায় কোনও ইউরোতে সবচেয়ে বেশি চারটি গোল করা লুইস ডিয়াজের সঙ্গে রইল মেসির নাম।

রোনাল্ডোর সঙ্গে মিল

রোনাল্ডোর সঙ্গে মিল

তবে একইসঙ্গে রোনাল্ডোর সঙ্গে অদ্ভুত মিল থেকে গেল দেশের হয়ে লিওনেল মেসির প্রথম কাপ জয়ে। ২০১৬ সালের ১০ জুলাই ইউরো কাপ জিতে প্রথমবার পর্তুগালের হয়ে কোনও আন্তর্জাতিক ট্রফি জিতেছিলেন সিআর সেভেন। মেসিও আর্জেন্তিনার জার্সিতে প্রথমবার ট্রফি জয়ের স্বাদ পেলেন সেই ১০ জুলাই রিও-র মারাকানায়। শুধু তাই নয়, কোপা জয়ের নিরিখে আর্জেন্তিনা উরুগুয়ের ১৫টি কোপা জয়ের রেকর্ড জয়ের রেকর্ড স্পর্শ করলেও ফাইনাল খেলার নিরিখে কোপার ইতিহাসে সফলতম দেশের স্বীকৃতি চলে এল মারাদোনা-মেসির দেশের কাছেই।

মেসি-ম্যাজিক

মারাকানায় কোপা ফাইনালের শেষ বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গে সবার নজর ছিল মেসির দিকেই। অনেকেই বলছেন, মেসিকে এত আবেগতাড়িত, এত উচ্ছ্বাস প্রকাশ করতে দেখা যায়নি। কখনও সতীর্থরা কাঁধে তুলে শূন্যে ছুড়লেন মেসিকে, কখনও গোটা দলের সঙ্গে বাঁধনহারা উল্লাসে নাচতে দেখা গেল মেসিকে। তার মধ্যেই বন্ধু নেইমারের চোখে জল দেখে তাঁকে গিয়ে জড়িয়ে ধরে সান্ত্বনা দিলেন। মারাকানা মজে রইল মেসি-ম্যাজিকে। সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়ে, মাঠে ফুল ফুটিয়ে চ্যাম্পিয়ন করলেন আর্জেন্তিনাকে। অনেকেই সোশ্যাল মিডিয়ায় লিখেছেন, মেসির উপর আশীর্বাদ রয়েছে ফুটবলের রাজপুত্রের। বেঁচে থাকলে আজ সবচেয়ে খুশি যে মানুষটি হতেন তিনি দিয়েগো আর্মান্দো মারাদোনা। যাঁর ১০ নম্বর জার্সির মানরক্ষার ভার এখন মেসির উপর।

শাপমুক্তি মারাকানায়

এবারের টুর্নামেন্টে সোনার বুট পেলেন লিওনেল মেসি-ই। চারটি গোলের পাশাপাশি ৫টি অ্যাসিস্ট করার জন্য। গোটা টুর্নামেন্টে সব কটি ম্যাচেই খেলেছেন। এমনকী নিয়মরক্ষার ম্যাচে বিশ্রামের সুযোগ থাকলেও মেসি মাঠে নেমেছিলেন। গোটা টুর্নামেন্টে আর্জেন্তিনার জয়ের পিছনে, ১২টি গোলের মধ্যে ৯টিতেই অবদান রাখলেন মেসি। ২০০৭ সালে ব্রাজিলের বিরুদ্ধে কোপা আমেরিকার ফাইনালে হেরেছিল আর্জেন্তিনা। সেই ম্যাচে খেলা দুই দলের মধ্যে একমাত্র মেসিই এদিন মাঠে ছিলেন। সেই ফাইনালে পরাজয়ের যন্ত্রণার সঙ্গে সঙ্গেই দেশের হয়ে প্রথম কাপ জেতার সুযোগ মেসির সামনে ছিল ২০১৪-র বিশ্বকাপ এবং তার পর দু-দুটি কোপা আমেরিকার ফাইনালে। শেষবার কোপাতেও ব্রাজিলের কাছে হেরেই টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে যেতে হয়েছিল। বিশ্বকাপের আগে মেসির শাপমুক্তি আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে দিল আর্জেন্তিনার। সেরা গোলকিপারের পুরস্কার পেয়েছেন আর্জেন্তিনারই এমিলিয়ানো মার্তিনেজ, এদিন ফাইনালেও তিনি রিচার্লিসনের শট অনবদ্য দক্ষতায় রুখে দেন। চ্যাম্পিয়ন হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই উৎসবে মেতেছে মেসির দেশ। এবারের টুর্নামেন্টে মেসির সঙ্গেই চারটি গোল করেছেন কলম্বিয়ার লুইস ডিয়াজ, তৃতীয় স্থান নির্ণায়ক ম্যাচে জোড়া গোলের সুবাদে।

Notifications
Settings
Clear Notifications
Notifications
Use the toggle to switch on notifications
  • Block for 8 hours
  • Block for 12 hours
  • Block for 24 hours
  • Don't block
Gender
Select your Gender
  • Male
  • Female
  • Others
Age
Select your Age Range
  • Under 18
  • 18 to 25
  • 26 to 35
  • 36 to 45
  • 45 to 55
  • 55+