সুনীল ছেত্রীদের সাফল্যের জন্য ১৬ লক্ষ টাকা খরচ করে জ্যোতিষী ভাড়া এআইএফএফ'র! প্রবল সম্ভাবনা আর্থিক তছরুপের
সুনীল ছেত্রীদের সাফল্যের জন্য ১৬ লক্ষ টাকা খরচ করে জ্যোতিষী ভাড়া এআইএফএফ'র! প্রবল সম্ভাবনা আর্থিক তছরুপের
এআইএফএফ-এর পুরনো কমিটিকে ক্ষমতাহীন করে দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। দেশের সর্বোচ্চ কোর্টের নিযুক্ত কমিটি অব অ্যামিনিস্ট্রেটার্স (সিওএ) এখন ভারতীয় ফুটবল চালাচ্ছে। এই কমিটিই নতুন সংবিধান তৈরি করবে এবং তারাই নির্বাচনের প্রক্রিয়া দেখবেন এবং নতুন কমিটি তৈরি হওয়ার পর সেই কমিটির হাতে সর্ব ভারতীয় ফুটবল ফেডারেশনের হাতে দায়িত্ব তুলে দেবেন। জগদ্দল পাথরের মতো এআইএফএফ-এ চেয়ার দখল করে বসে থাকা প্রফুল্ল প্যাটেল, কুশল দাস এবং তাঁদের সময়ে ভারতীয় নিয়মক সংস্থার অতীতে চোখ রেখে মাথা ঘুরে যাওয়ার জোগাড় কমিটি অব অ্যাডমিনিস্ট্রেটার্সের।

ভারতীয় দল যাতে এএফসি এশিয়ান কাপের যোগ্যতা অর্জনকারী পর্বে ভাল ফল করে মূল পর্বে যেতে পারে তার জন্য দিল্লির দ্বারকা হাউসে বসে এআইএফএফ-এর কর্মকর্তারা নিয়োগ করেছেন জ্যোতিষী'কে! শুনতে অবাক লাগলেও এটাই বাস্তব। অবিশ্বাস্য লাগলেও, এআইএফএফ-এ এই ভাবেই কাজ কর্ম চলছিল। মাসিক আট লক্ষ টাকা বেতনে এই জ্যোতিষীকে ভাড়া করেছিল এআইএফএফ। এএফসি এশিয়ান কাপের বাছাই পর্বে সুনীলের গ্রহ-নক্ষত্রের অবস্থান ঠিক রাখতেই এই পদক্ষেপ। জ্যোতিষী নিয়োগের মধ্যে কত বড় দুর্নীতি লুকিয়ে রয়েছে, তা অনন্ত ভারতীয় ফুটবলের সঙ্গে যাঁরা যুক্ত তাঁদের বলে দিতে হয় না। এই জ্যোতিষী ভাড়া করতে মোট খরচ হয়েছে ১৬ লক্ষ টাকা।
সিওএ-এর আধিকারিকদের চোখে এই বিষয়টা পড়তেই তাঁদের চোখ কপালে ওঠার জোগাড়। এই কমিটিতে রয়েছে ভাস্কর গঙ্গোপাধ্যায়ের মতো কিংবদন্তি। এই দিকপাল ফুটবলারও বুঝতে পারছেন না, একটা ফুটবল সংস্থায় জ্যোতিষীর প্রয়োজনীয়তা ঠিক কোথায়।
আধুনিক ফুটবলে অত্যাধুনিক সব প্রক্রিয়া আর নানা রকম পেশাদার, বিশেষজ্ঞদের যেখানে যোগ করা হচ্ছে, সেখানে ভারতের ফুটবলের নিয়ামক সংস্থা বিশেষজ্ঞ বলতে বুঝল জ্যোতিষীকে! ফুটবল দলের সঙ্গে ডাক্তার, মনোবিদ, ফিজিও, স্ট্রেন্থ অ্যান্ড কন্ডিশনিং কোচ, ভিডিও অ্যানালিস্টকে দেখা গেলেও, নতুন এই জ্যোতিষী রাখার মধ্যে দিয়ে গোটা বিশ্বের ফুটবল খেলিয়ে দেশগুলির ফেডারেশনকে নতুন করে ভাবতে শেখালেন কুশল দাস-প্রফুল্ল প্যাটেলরা। এই জ্যোতিষী রাখার আড়ালে আর্থিক তছরুপ রয়েছে কি না, সেটাও ভাবেচ্ছে সিওএকে। সিওএ কর্তারা খোঁজ নিতে গিয়ে এমন কোনও জ্যোতিষীর সন্ধানই পাচ্ছেন না! সংস্থার রেকর্ডে যে নাম, ঠিকানা রয়েছে সেখানে সরেজমিনে গিয়ে এমন কোনও জ্যোতিষী বা জ্যোতিষ সংস্থার সন্ধান নাকি তাঁরা পাননি। ফেডারেশনের সচিবের পদে দীর্ঘদিন চেয়ার দখল করে বসে থাকা কুশল দাসকে এই বিষয়ে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি কোনও সদুত্তর দিতে পারেননি। এর পরই তাঁকে ছুটিতে পাঠানো হয় অনির্দিষ্ট কালের জন্য।
অপর দিকে, এএফসি এবং ফিফার যে প্রতিনিধি দল ভারতে পুরো বিষয়টা খতিয়ে দেখতে এসেছে তারা নির্দেশ দিয়েছে এই সিওএ ভেঙে দেওয়ার জন্য। কারণ সিওএ থাকার মানে তৃতীয় ব্যক্তির হস্তক্ষেপ। কোনও দেশের ফুটবল ফেজারেশনে তৃতীয় পক্ষের হস্তক্ষেপ এএফসি বা ফিফার নিয়মবিরুদ্ধ। এই কারণে ব্যান হতে হয়েছে পাকিস্তান ফুটবল ফেডারেশনকে। যদিও ভারতের উপর ব্যান চাপানো হবে না বলেই খবর।












Click it and Unblock the Notifications