মোহনবাগানীর কাঁধে চেপে ইস্টবেঙ্গল সমর্থকের প্রতিবাদ, ফুটবলের জন্য যৌথ কর্মসূচি দেখে মুগ্ধ ফিলিপ ডি রাইডার

Football Fans' Protest: আরজি কর কাণ্ডের প্রতিবাদ মিছিলের আবহে ডুরান্ড কাপের ডার্বিতে অনুমতি দেয়নি পুলিশ। যদিও সেই যুক্তি অন্তঃসারশূন্য করে দিল রবি-বিকেলে প্রতিবাদের ঢেউ।

প্রথমে যুবভারতী লাগোয়া এলাকায় ১৬৩ ধারা জারি করে বিধাননগর পুলিশ কমিশনারেট। এরপর মশা মারতে রীতিমতো কামান দাগা পরিস্থিতি। যা বিক্ষোভের আগুনে ঘৃতাহুতি দিল।

Football Fans Protest

আজ ডার্বি হলে একদলের সমর্থকরা হাসতেন, কেউ বিফল মনোরথে ফিরতেন। কিন্তু ডার্বি বাতিল একজোট করে দিল ইস্টবেঙ্গল, মোহনবাগান ও মহমেডান স্পোর্টিং সমর্থকদের। তাঁরা একজোট হয়ে শান্তিপূর্ণ আন্দোলন করলেন, পুলিশের ধাওয়া, মার খেলেন।

কিন্কু পুলিশের নির্বিচারে লাঠিচার্জ করেও কেউ পিছু হঠলেন না। পুলিশ পিছু হঠল। তিন প্রধানের সমর্থকদের সম্মিলিত প্রতিবাদের ঢেউ অবরুদ্ধ করল প্রিজন ভ্যান। তারপর অজ্ঞাত কারণেই পুলিশ আটক সমর্থকদের মুক্ত করে চলে গেল রক্ষণাত্মক মেজাজে।

আরজি কর কাণ্ডে ন্যায়বিচারের দাবি উঠল সকলের মুখেই। মুখ্যমন্ত্রী তথা পুলিশমন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিও উঠল পুলিশের ন্যক্কারজনক ভূমিকা দেখে। এলাকার মানুষের উপরও পুলিশ নির্যাতন চালায় বলে অভিযোগ। মহিলা পুলিশ ছাড়া পুরুষ পুলিশকর্মী হাত ধরে টানলেন মহিলাদের, এমন অভিযোগও উঠল।

তিন প্রধানের পতাকার পাশাপাশি জাতীয় পতাকা হাতে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ কর্মসূচি বল প্রয়োগ করে দমন করতে গেল পুলিশ। আর তাতেই তাদের ভূমিকা, প্ল্যানিং নিয়ে প্রশ্ন উঠে গেল। যত সংখ্যক পুলিশ আজ ফুটবলপ্রেমীদের জমায়েত আটকাতে রাস্তায় ছিল, তার এক-চতুর্থাংশ দিয়েই তো করা যেত ডার্বি, সেনাবাহিনীর টুর্নামেন্টের।

কলকাতাকে বলা হয় ফুটবলের মক্কা। সেখানেই ফুটবলের জন্য ফুটবলপ্রেমীদের এই প্রতিবাদ মনে রাখার মতো হয়ে দাঁড়াল। কোথাও লাঠি উঁচিয়ে আসা পুলিশের মার থেকে ইস্টবেঙ্গল সমর্থককে বাঁচালেন মোহনবাগানীরা, কোথাও মোহনবাগানের পতাকা রক্ষায় এগিয়ে এলেন লাল হলুদ সমর্থকরা। পাশে রইলেন মহমেডানের ভক্তরাও।

ম্যাচ হলে আরজি কর নিয়ে প্রতিবাদের ঝড়় দেশ তথা বিদেশে ছড়িয়ে পড়বে। সেই মুখ বাঁচানোর কৌশল এদিন ব্যুমেরাং হলো। ইস্টবেঙ্গলের প্রাক্তন কোচ তথা এ দেশে অনেক দলকে কোচিং করানো ফিলিপ ডি রাইডার বেলজিয়ামের ব্রাসেলসের মানুষ।

সম্প্রতি, তিনি আরজি কর কাণ্ডের প্রতিবাদে ছবি এঁকে প্রতিবাদ জানিয়েছিলেন। ফিলিপ ডি রাইডার আজ প্রতিবাদ কর্মসূচির ছবি পোস্ট করেছেন, যাতে দেখা যাচ্ছে একসঙ্গে পথে নেমেছেন তিন প্রধানের ভক্তরা। রাইডার লিখেছেন, অনেক দিন পর সেরা কিছু দেখলাম। পতাকা আলাদা হলেও সকলে ভালো কিছুর জন্য ঐক্যবদ্ধ হয়েছেন। এই দৃশ্য মনে রাখার মতো বলে শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা পাঠিয়েছেন রাইডার।

এদিন ফুটবলপ্রেমীদের উপর পুলিশি নির্যাতন নিয়ে সরব হয়েছে রাজ্য বিজেপি। কটাক্ষ করে বলা হয়েছে, এই সরকার একটি ফুটবল ম্যাচও আয়োজন করাতে পারছে না। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জনগণের রাগে ভীত। সে কারণে পুলিশ সাধারণ মানুষের উপর অত্যাচার চালাচ্ছে। এটাই শেষের শুরু। মমতাকে পদত্যাগ করার দাবি জানিয়ে বিজেপি লিখেছে, নির্লজ্জ একনায়কতন্ত্র আর চলতে পারে না।

Notifications
Settings
Clear Notifications
Notifications
Use the toggle to switch on notifications
  • Block for 8 hours
  • Block for 12 hours
  • Block for 24 hours
  • Don't block
Gender
Select your Gender
  • Male
  • Female
  • Others
Age
Select your Age Range
  • Under 18
  • 18 to 25
  • 26 to 35
  • 36 to 45
  • 45 to 55
  • 55+