রেফারিংয়ের কলঙ্কের ছিটে গায়ে লাগিয়ে খেতাবি লড়াইতে টিকে মোহনবাগান, জিতে টপকালো ইস্টবেঙ্গলকে
চার্চিল ব্রাদার্সের বিরুদ্ধে জিতে লিগের খেতাবি লড়াইতে টিকে রইল মোহনবাগান। রেফারিং এখনও একটা ইস্যু।
রেফারিংয়ে কলঙ্কের ছিটে নিয়ে আই লিগ জয়ের স্বপ্ন দেখছে মোহনবাগান। শুক্রবার চেন্নাই সিটি এফসি -র বিরুদ্ধে মিনার্ভা পাঞ্জাব হারার পর লিগ ফের ওপেন হয়ে গিয়েছিল। ইস্টবেঙ্গলের খেতাব জয়ের স্বপ্নে-র মশালে গনগনে আঁচ লাগলেও অঙ্কের হিসেবে মোহনবাগানও লিগের দাবিদার হয়ে উঠেছে। আর শনিবারের ম্যাচে ২-১ গোলে জিতে সেই সম্ভবনাটাই ফের একবার চাঙ্গা করে নিল তারা।

এদিনের ম্যাচে শঙ্করলাল চক্রবর্তী ছেলেদের মধ্যে আই লিগের স্বপ্ন উসকে দিয়েছিলেন। কিন্তু মান্ডভী নদীর তিরে মোহন নৌকা ডুবিয়ে অবনমনের আশঙ্কা থেকে বাঁচার মরিয়া চেষ্টা ছিল চার্চিল ব্রাদার্সেরও। এরই সূত্র ধরে ৩৫ মিনিটে গোল করে চার্চিল। কিন্তু রেফারি ওমপ্রকাশ ঠাকুর গোলটি বাতিল করে দেন। যার কোনও কারণ অবশ্য ফুটবলের জ্ঞানে ধরা পড়েনি। গোলের ভিডিও ক্লিপে না অফসাইডের ভুল ছিল না ছিল হ্যান্ডবল বা ফাউলের সম্ভবনা। তবুও রেফারি চার্চিলের হেডে হওয়া গোল বাতিল করে দেন। চার্চিল ফুটবলাররা প্রতিবাদ করলেও লাভ হয়নি। প্রথমার্ধ শেষ হয় গোলশূন্যভাবে।
দ্বিতীয়ার্ধে খেলতে নেমে তিন পয়েন্টের লক্ষ্যে মরিয়া মোহনবাগান আরও ঝাঁঝ বাড়ায়। ৫৪ মিনিটে মোহনবাগান স্কোরলাইনে গোল জুড়ে দেন নিখিল কদম। বক্সের বাঁ দিকে নিখিল কদমকে ফাঁকা দেখে তার দিকে বল বাড়িয়ে দেন দিপান্ডা ডিকা। তিনি কোনও ভুল করেননি। বাগানকে ১-০ গোলে এগিয়ে দেন। এক গোলে পিছিয়ে পড়া চার্চিল ম্যাচে সমতা ফেরানোর মরিয়া চেষ্টা করছিল। সে সময় নিকোলাস ফার্নান্ডেজের ক্রস মোহন জালে জড়িয়ে দেন ওসাগি। ৭৪ মিনিটে স্কোরলাইন হয়ে যায় ১-১।
এর পরের মিনিটেই চার্চিল গোলের সামনে ওপেন নেট মিস করেন আক্রম মোগারভি। কিন্তু ফের শেখ ফৈয়াজের দুরন্ত চেষ্টায় বক্সের মধ্যে ৭৬ মিনিটে ফের বল পান বাগানের লেবানিজ তারকা। এবার আর কোনও ভুল করেননি তিনি। গোল করে যান। ২-১ এগিয়ে যায় মোহনবাগান। এটা মাঝ মরশুমে যোগ দেওয়া আক্রমের ৪র্থ গোল।
এরপর অনেক চেষ্টা করেও আর গোলের ব্যবধান কমাতে পারেনি চার্চিল। এদিনের ম্যাচে জিতে ১৭ ম্যাচে ৩০ পয়েন্ট হল মোহনবাগানের। ইস্টবেঙ্গলের চেয়ে এক ম্যাচ বেশি খেলে তাদের টপকে গিয়ে তিন নম্বরে পৌঁছে গেল বাগান। তবুও রেফারিংয়ের কলঙ্কের ছিটেটা না থাকলে বোধহয় মোহন জনতাও খুশি হত। তবে এভাবে দেখছেন বাগান সমর্থকরা আগে মোহনবাগান রেফারিংয়ের ভুলের শিকার হয়েছে। এদিনের চার্চিলের গোল বাতিলটা যেন তারই সান্ত্বনা পুরস্কার।












Click it and Unblock the Notifications