ক্যারিবিয়ান ম্যাজিকে আইজলকে হেলার হারাল মহমেডান, শতাব্দী প্রাচীন ক্লাবের পারফরম্যান্সে উচ্ছ্বসিত সমর্থকেরা

ক্যারিবিয়ান ম্যাজিকে আইজলকে হেলার হারাল মহমেডান, শতাব্দী প্রাচীন ক্লাবের পারফরম্যান্সে উচ্ছ্বসিত সমর্থকেরা

লাগামছাড়া ভাবে করোনা সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ার ফলে শুরু হওয়ার কয়েক দিনের মধ্যেই আই লিগ স্থগিত করে দিতে বাধ্য হয়েছিল সর্ব ভারতীয় ফুটবল ফেডারেশন। প্রায় দুই মাস আই লিগ বন্ধ থাকার পর বৃহস্পতিবার তা ফের শুরু হয়েছে। মাঠে ফিরেই দেশের অন্যতম সেরা লিগে নিজেদের ধারাবাহিকতার প্রমাণ রাখল মহমেডান স্পোর্টিং। লক্ষ্ণীবারে কল্যাণি স্টেডিয়ামে সাদা-কালো ব্রিগেড ২-০ গোলে হারালো আইজল এফসি'কে।

ক্যারিবিয়ান ম্যাজিকে আইজলকে হেলার হারাল মহমেডান, শতাব্দী প্রাচীন ক্লাবের পারফরম্যান্সে উচ্ছ্বসিত সমর্থকেরা

এ দিনের ম্যাচের দু'টি গোলই এসেছে প্রথমার্ধে। ম্যাচের ২৬ মিনিটে রুডোভিচের ব্যাক হিল থেকে বাম পায়ের বুলেট শটে আইজলের জালে কাঁপুনি ধরিয়ে দেন ত্রিনিদাদ অ্যান্ড টোবাগোর জাতীয় দলের ফুটবলার মার্কাস জোসেফ। এই ম্যাচের দ্বিতীয় গোলটিও এসেছে মার্কাসের পা থেকে। ৩৪ মিনিটে অধিনায়ক নিকোলা স্টোজানোভিচের একক দক্ষতায় তৈরি করা বল থেকে মহমেডানকে দ্বিতীয় গোলটি এনে দিতে ভুল করেননি মার্কাস। প্রথমার্ধে দু'টি গোল পেলেও গোলের সংখ্যা আরও বাড়িয়ে নিতে পারত লাল সরণির ক্লাব। ম্যাচের শুরুতেই সহজ সুযোগ নষ্ট করেন রুডোভিচ। ম্যাচের দশ মিনিটের মাথায় আইজলের গোলরক্ষক কে একা পেয়েও গোল করতে ব্যর্থ হয়েছেন রুডোভিচ।

দুই গোলের লিড নিয়ে সাজঘরে ফেরা মহমেডান দ্বিতীয়ার্ধে ব্যবধান বাড়ানোর জন্য ঝাঁপাবে এটা প্রত্যাশিত ছিল। প্রথমার্ধের খেলা থেকে প্রিয় দলের বড় ব্যবধানে জয়ের বিষয়ে আশায় ছিলেন সাদা-কালো সমর্থকেরাও। তবে, বাস্তবে তেমনটা কিছুই ঘটেনি। দ্বিতীয়ার্ধে মুহূর্মুহু আক্রমণ শানালেও সাদা-কালো ব্রিগেড গোল ব্যবধান আর বাড়াতে পারেনি। দ্বিতীয়ার্ধে তিনটি সহজ সুযোগ নষ্ট করেছে মহমেডানের আক্রমণ ভাগের খেলোয়াড়েরা। তা ছাড়া দ্বিতীয়ার্ধে আইজল ডিফেন্সও নিজেদের অনেকটাই গুছিয়ে নিয়েছিল। ফলে মহমেডান আক্রমণ তৈরি করলেও ফাইনাল থার্ডে গিয়ে বল জমা পড়ে যাচ্ছিল আইজল এফসি'র ডিফেন্ডারদের পায়ে।

অন্য দিকে, প্রথমার্ধে কিছুটা গুটিয়ে থাকলেও দ্বিতীয়ার্ধে পিছিয়ে পড়া আইজল ম্যাচে সমতা ফিরিয়ে আনতে খোলস ছেড়ে বের হয়। বেশ কয়েকবার প্রতি আক্রমণে এসে মহমেডানের ডি বক্সের বাইরে একাধিক গোলের ঠিকানা লেখা পাস আইজলের মাঝমাঠের ফুটবলাররা বাড়িয়েছিলেন ফরওয়ার্ডদের। কিন্তু একটি থেকেও গোলের দেখা পায়নি পাহাড়ি দলটি। ২০১৬-১৭ মরসুমে আই লিগ জয়ী দলটির কোচের দায়িত্বে এই মরসুমে রয়েছে ইয়ান ল। যিনি আবার মহমেডানের প্রাক্তন প্রধান প্রশিক্ষক। তাঁর বিরুদ্ধে দলের খবর বাইরে পাচার করার অভিযোগ তুলে ছিলেন মহমেডানের কর্তারা। সাদা-কালোর সাবেক কর্তাদের দাবি ছিল মিনার্ভা অ্যাকাডেমির রঞ্জিত বাজাজের সঙ্গে কথা বলে দল মাঠে নামন ইয়ান এবং সেই কারণে অসম্মানিত করে তাঁকে প্রধান কোচের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল। ফলে এই ম্যাচটি অনেক হিসেব বুঝে নেওয়ার ম্যাচ ছিল ইয়ান ল-এর কাছেও। কিন্তু তাঁর দলের ফুটবলাররা পরিকল্পনা মাফিক পারফর্ম না করতে পারায় ব্যক্তিগত হিসেব বোঝাপড়ার ম্যাচে খালি হাতেই ফিরতে হল ইয়ানকেও।

আইজলের বিরুদ্ধে জয়ের ফলে দুই ম্যাচে ছয় পয়েন্ট নিয়ে লিগ তালিকার শীর্ষে থাকল শতাব্দী প্রাচীন মহমেডান স্পোর্টিং ক্লাব। দলের পারফরম্যান্সে খুশি মহমেডানের ফুটবল সচিব দীপেন্দু বিশ্বাস ম্যাচ শেষে বলেছেন, "মার্কোস দু'টো গোল করলেও পুরো দলটাই ভাল খেলেছে। দু'মাস পর খেলতে নেমে এই জয় আগামী ম্যাচের আগে দলের আত্মবিশ্বাস বাড়াবে।" এই ম্যাচে জোড়া গোল করার ফলে দু'ম্যাচে তিন গোল করার মার্কোসের প্রশংসায় ভারতীয় ফুটবলে দাপিয়ে খেলা শেষ বাঙালি স্ট্রাইকারের বলেন, "কলকাতা লিগেও সর্বোচ্চ গোলদাতা ছিল মার্কোস। ডুরান্ড কাপেও ভাল খেলেছে। আশা করি আই লিগেও ও সর্বোচ্চ গোলদাতা হবে।"

Notifications
Settings
Clear Notifications
Notifications
Use the toggle to switch on notifications
  • Block for 8 hours
  • Block for 12 hours
  • Block for 24 hours
  • Don't block
Gender
Select your Gender
  • Male
  • Female
  • Others
Age
Select your Age Range
  • Under 18
  • 18 to 25
  • 26 to 35
  • 36 to 45
  • 45 to 55
  • 55+