কোপা জিতে মেসি ছুঁয়ে ফেললেন সচিনকে, সাফল্যের খতিয়ানে মিলে গেলেন দুই ‘ঈশ্বর’
কোপা জিতে মেসি ছুঁয়ে ফেললেন সচিনকে, সাফল্যের খতিয়ানে মিলে গেলেন দুই ‘ঈশ্বর’
ফুটবলের রাজপুত্রের মতোই দশা হয়েছিল ক্রিকেটের ঈশ্বরের। সব থেকেও কিছুই ছিল না যেন। সচিনের দীর্ঘ ক্রিকেট কেরিয়ারে সব ছিল, ছিল না শুধু একটা বিশ্বকাপ। তেমনই নেই ফুটবল জাদুকর মেসিরও। বিশ্বকাপের খুব কাছে এসেও তা স্পর্শ করা হয়নি। তারপর দেশের হয়ে কোনও খেতাবই তাঁর ঝুলিতে ছিল না। অবশেষে সেই খরা ঘুচল। মিশে গেলেন ভারত-আর্জেন্তিনার দুই নক্ষত্র।

শেষপর্যন্ত চ্যাম্পিয়নদের নিরাশ করল না ফুটবল ঈশ্বর
ব্রাজিলের মারাকানায় বসেছিল কোপা আমেরিকার ফাইনালের আসর। মুখোমুখি হয়েছিল ব্রাজিল ও আর্জেন্তিনা। সেই ম্যাচ জিতে ভারতের ক্রিকেট ঈশ্বরের সঙ্গে একই আসনে বসলেন লিওনেল মেসি। কেরিয়ারের শেষপ্রান্তে এসে তিনি দেশের হয়ে কাপ হাতে তুলে নেওয়ার গৌরব অর্জন করলেন। চ্যাম্পিয়নদের নিরাশ করল না ফুটবল ঈশ্বর।

২৮ বছর পর চ্যাম্পিয়ন, সচিন আর মেসি একই গল্পগাথা
সচিনকে নিয়েও প্রশ্ন ছিল, তাঁর মতো ক্রিকেটার কোনও বিশ্বকাপ পাবে না! সেই স্বপ্ন পূরণ হয়েছে ক্রিকেট কেরিয়ারের সায়াহ্নে এসে। ওয়াংখেড়েতে ২০১১-র বিশ্বকাপে স্বপ্ন ধরা দিয়েছে সচিনের হাতে। ২৮ বছর পর চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল ভারত। সচিন পেয়েছিলেন বিশ্ব-জয়ের স্বাদ। কাকতালীয় হলেও সেটাই ঘটল মেসির কেরিয়ার।

বিধাতা বোধহয় চ্যাম্পিয়নদের কপালে এমনটাই লিখে রাখেন
মেসিও ২৮ বছর পর দেশকে কোপা আমেরিকা জয়ের স্বাদ দিলেন। নিজের প্রথম খেতাব জিতলেন দেশরে জার্সিতে। ফুটবলের রাজপুত্র দেশের জার্সিতে ট্রফি জিততে না পারার লজ্জা থেকে মুক্তি পেলেন। এই কাকতালীয় ঘটনা দেখে ক্রীড়া বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিধাতা বোধহয় চ্যাম্পিয়নদের কপালে সযত্নে লিখে দেন বেটার লেট দ্যান নেভার।

সচিন ও মেসির খেতাব জয়ের অদ্ভুত মিল
এখানেই শেষ নয়, আর মিল রয়েছে সচিন ও মেসির এই খেতাব জয়ের। ২০১৪ সালে ফুটবল বিশ্বকাপে রানার্স হতে হয়েছিল মেসির আর্জেন্তিনাকে। তার ২০২৫ ও ২০১৬ সালে কোপা আমেরিকায় ট্রাইব্রেকারে হার মানতে হয়েছিল আর্জেন্তিনাকে। চোখের জল বাধ মানেনি মেসির। তেমনই সচিনকেও ২০০৩-এর বিশ্বকাপে ফাইনালে হার মানতে হয়েছিল অস্ট্রেলিয়ার কাছে।

ব্রাজিল বধে কোপা জয় সব গ্লানি ধুয়ে দিল মেসির
উভয়েই একাধিকবার ধাক্কা খেয়ে শেষপর্যন্ত জয় হাসিল করলেন, ইতিহাসের পাতায় লিখে রাখলেন নিজেদের নাম। ২০০৩ ও ২০০৭-এর পরাজয় থেকে শিক্ষা নিয়ে ২০১১-য় বিশ্বকাপ জিতেছিলেন সচিন। আর ২০১৪, ২০১৫ ও ২০১৬-য় খুব কাছে এসে ব্যর্থ হয়েছিলেন মেসি। সেই ব্যর্থতা কাটিয়ে ২০২১-এ ব্রাজিল বধ করে কোপা জয় সব গ্লানি ধুয়ে দিল মেসির।
|
মেসিকে অভিনন্দন জানিয়ে টুইট সচিনের
মেসিদের জয়ের পর আন্তরিক অভিনন্দন জানান সচিন তেন্ডুলকার। তিনি টুইটারে লেখেন- আর্জেন্টিনা কোপা আমেরিকা ফাইনাল জিতেছে। এটি সমস্ত আর্জেন্তাইনদের জন্য একটি ঐতিহাসিক জয় এবং মেসির দুর্দান্ত ফুটবল কেরিয়ারে এটা যেন কেকের উপর বরফের আস্তরণ।
|
নেইমারকে সান্ত্বনা দিয়ে টুইট সচিনের
সচিন এদিন নেইমারের হারেো সান্ত্বনা দেন টুইট করে। টুইটে ভারতের ক্রিকেট ঈশ্বর লেখেন-ফাইনালে হারার বেদনা আমি বুঝি। তবে এটি রাস্তায় কেবল একটি বাঁক মাত্র। এটাই রাস্তার শেষ নয়। নেইমারের কান্নার ছবি দিয়ে তিনি লেখেন, কান্নায় ভেঙে পোড়ো না, আরও শক্তিশালী ফিরে আসবে এবং দেশকে গর্বিত করবে।












Click it and Unblock the Notifications