ডার্বিতে হ্যাটট্রিক করলেও উৎসবে গা ভাসাতে নারাজ কিয়ান, কিংবদন্তি বাবার ‘মন্ত্র’কে অবলম্বন করেই এগিয়ে যেতে চান
ডার্বিতে হ্যাটট্রিক করলেও উৎসবে গা ভাসাতে নারাজ কিয়ান, কিংবদন্তির বাবার ‘মন্ত্র’কে অবলম্বন করেই এগিয়ে যেতে চান
ভারতীয় ফুটবলের মেগা ম্যাচে হ্যাটট্রিক করে রাতারাতি নায়ক হয়ে গিয়েছেন কিয়ান নাসিরি। ভারতীয় ক্লাব ফুটবলের সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ কলকাতা ক্লাসিকো এক লহমায় প্রচারের আলোয় এনে দিয়েছেন জামশেদ নাসিরির সুযোগ্য পুত্রকে।

হাজার ওয়াটের আলোয় দেশের ফুটবল মহলের আলোচনার কেন্দ্র হয়ে উঠলেও তরুণ কিয়ান একেবারেই ডার্বি করা হ্যাটট্রিক নিয়ে বেশি ভাবিত নন, বরং ফোকাস ঠিক রেখে পরবর্তী ম্যাচগুলিতেও সাফল্যের ধারা বজায় রাখতে চান। ম্যাচের পরের দিন রবিবার কিয়ান বলেন, "ডার্বিতে নেমে গোল করেছি, এটা এখনও আমার কাছে স্বপ্নের মতো লাগছে। ডার্বিতে গোল করার স্বপ্ন সবার থাকে, আমারও ছিল। তা স্বত্ত্বেও বলছি, আমি মূলত উইঙ্গার ও স্ট্রাইকার, গোল করাটা আমার কাজ। সেটাই করেছি।"
তাঁর সঙ্গে বারবার তাঁর বাবা কিংবদন্তি জামশেদ নাসিরির তুলনা করা হলেও কিয়ান জানিয়েছেন, ইতিহাস নিয়ে তিনি মাথা ঘামাতে চান না। তাঁর প্রথমিক লক্ষ্য আরও বেশি সময়ে মাঠে থাকা। তাঁর কথায়, "আমাদের দল অত্যন্ত শক্তিশালী। এখানে আমার মতো জুনিয়র ফুটবলারের সুযোগ পাওয়া কঠিন। সেই জন্য আরও পরিশ্রম করে দলে জায়গা পেতে হবে। ডার্বিতে গোল করে থেমে থাকলে চলবে না। পরের ম্যাচে সুযোগ পেলেই ভাল খেলতে হবে।" নিজের তিনটি গোলের মধ্যে দ্বিতীয় গোলটিকেই সেরা বেছে নিয়েছেন এই তরুণ ফুটবলার পাশাপাশি এই সাফল্যকে উৎসর্গ করেছেন গোটা দলকে। ২১ বছর বয়সী এই ফুটবলার বলেছেন, "তিনটি গোলের মধ্যে দ্বিতীয়টাই সেরা কারণ ওই গোলেই আমরা এগিয়ে গিয়েছি। সবুজ-মেরুন জার্সিতে জুনিয়র ডার্বিতে খেলেছি, কিন্তু সিনিয়র দলে প্রথম। আমাদের ড্রেসিংরুমে সবাই আমাকে সব সময়ে নানাভাবে সাহায্য করেন, উৎসাহিত করেন। সেই জন্য আমি এই হ্যাটট্রিক উৎসর্গ করতে চাই পুরো দলকে।"
ডার্বির মতো ম্যাচে তাঁর উপর ভরসা রাখার জন্য কিয়ান ধন্যবাদ জানিয়েছেন কোচকে। একই সঙ্গে তিনি প্রাক্তন এটিকে মোহনবাগান কোচ অ্যান্তোনিও লোপেজ হাবাসের প্রতিও নিজের কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেছেন। তাঁর কথায়, "কোচের কাছে আমি কৃতজ্ঞ যে তিনি ডার্বির মতো গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে আমার উপর ভরসা রেখেছেন। সেই জন্যই আমি গোল করতে পেরেছি। আমি কৃতজ্ঞ অ্যান্তোনিও লোপেজ হাবাসের কাছেও।"
বারবারই তাঁর এই সাফল্যে উঠে আসছে জামশেদ নাসিরির প্রসঙ্গ। ভারতীয় ফুটবলে ইরানি যুগের বাদশা যদি হন মজিদ তা হলে তাঁর যোগ্য সেনাপতি ছিলেন জামশেদ। কিংবদন্তি বাবা'র সাফল্য ছুঁতে পারবেন কি না, তার উত্তর সময়ই দেবে। ম্যাচের পরে হোটেলে ফিরে বাবা-মা'য়ের সঙ্গে কোনও কথা হয়নি কিয়ানের। রবিবার তিনি পরিবারের সদস্যদের কথা বলেছেন। রাতে বাড়ির লোকজনের সঙ্গে কথা না বলতে পারার কারণ হিসেবে কিয়ান বলেন, "ডার্বিতে জিতে অনেক রাতে হোটেলে ফিরে ডিনার করে সবার মতো আমিও শুয়ে পড়েছিলাম। রবিবার মা এবং পরিবারের অন্যদের সঙ্গে কথা বলেছি। কিন্তু বাবার সঙ্গে কথা হয়নি। বাবা মাঠে গিয়েছিলেন প্র্যাকটিস করাতে। বাবার খেলা কখনও দেখিনি, শুনেছি উনিও ডার্বিতে অনেক গোল করেছেন। বাবার সঙ্গে মাঠে প্র্যাকটিস করেছি। বাবা কখনও কোনও লক্ষ্য বেঁধে দেননি। উনি শুধু বলেছেন, 'পরিশ্রমের কোনও বিকল্প নেই।' ম্যাচের আগে বা শিবিরে থাকার সময়ে বাবার সঙ্গে কখনও কথা বলি না।"
কিয়ানের আদর্শ বিশ্ব ফুটবলের সর্বকালের অন্যতম সেরা লিওনেল মেসি। সুযোগ পেলেই মেসির খেলা দেখতে বসে পড়েন।












Click it and Unblock the Notifications