খালিদের মুখের রাশ আলগা, ক্ষোভের পাহাড় চুড়োয় লালহলুদ সমর্থকরা, ভালো নেই ইস্টবেঙ্গল
ডার্বি-র পর মোটে ভালো নেই ইস্টবেঙ্গল, একের পর এক বিতর্ক রোজ ছুঁয়ে যাচ্ছে লালহলুদ শিবিরকে।
রোগ বড় গভীর, তারই বিভিন্ন প্রকাশ বা বরং বলা ভালো সিম্পটমস হিসেবে দেখা দিচ্ছে বিভিন্ন অশান্তি। কখনও কোচ মেজাজ হারিয়ে সীমারেখা লঙ্ঘন করছেন , কখনও আবার সমর্থকরা নিজেদের প্রাণাধিক প্রিয় ক্লাবের হারের বিচার করতে গিয়ে বিভিন্ন প্রশ্ন তুলছেন।

মঙ্গলবার দুটি অঙ্ক ছিল ইস্টবেঙ্গলের আগুনে আঁচ পাওয়ার জন্য। কোচ খালিদ জামিল আইজল কে আই লিগ চ্যাম্পিয়ন করে এলেও বুঝতে পারেননি কলকাতা ময়দানে ফুটবল কোচিং করানো একেবারে অন্য পরীক্ষা। এখানে আই লিগ জয় যতটা বড় সম্মানের তার চেয়েও বড় সম্মানের লড়াই ডার্বি জয় করা। তাই দুটো ম্যাচে হারের পরেও নিজের স্টাইলেই হাঁটছিলেন।
কিন্তু তা কেউ সহ্য করবেন কেন। মঙ্গলবার লাল হলুদ অনুশীলনের সময় খালিদ জামিলের ছবি তুলছিলেন সংবাদমাদ্যমের ক্যামেরাম্যানরা। সেই সময় খালিদ ক্যামেরাম্যানদের উদ্দেশ্যে বলেন, 'এভাবে আমার ছবি তুললে চূড়ান্ত অভিশাপ দেব।' শুধু এটুকুই নয় , ক্যামেরাম্যানদের উদ্দেশ্যে তিনি অশ্লীল ভাষা প্রয়োগ করেন। খালিদের এই দুর্ব্যবহারের কথা জানানো হয় ক্লাবের শীর্ষকর্তা দেবব্রত সরকারকে। তিনি বলেন, 'গতকালই খালিদকে এই ব্যাপারে সতর্ক করা হয়েছিল। আবার করা হবে।' পরে সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিদের কাছে ক্ষমাও চান খালিদ। খালিদ মাঠে যেমন স্ট্র্যাটেজি বানান তেমনি নাকি বিপক্ষকে বধ করার জন্য বিভিন্ন তুকতাকও করেন। সেটাই বোধহয় ব্যবহার করতে চেয়েছিলেন ময়দানি সাংবাদিকদের সঙ্গেও। এটা যে আদৌ করা যায় না মুম্বইকারের এখনও সে বোধ উদয় হয়েছে কিনা সন্দেহ।
আসলে কলকাতা ফুটবলে পারফরম্যান্সই শেষ কথা। সেখানেই যখন খামতি তখন যে তাঁর কিছুরই মুখ নেই। ডার্বি হারের পুরো দায় নিজের কাঁধে নিয়েছিলেন খালিদ জামিল। কিন্তু আদৌ কী সেটা মন থেকে মেনেছিলেন মুম্বইকার কোচ। লালহলুদ জনতা মরশুমের শুরুতে তাঁকে যেভাবে আবেগে ভরিয়ে দিয়েছিল তাতে এরকম ব্যবহার করার কথা ছিল না কিন্তু।
আজ অনুশীলন চলাকালীন লাল-হলুদ কোচকে বিক্ষোভের মুখে পড়তে হয়। ডার্বিতে জঘন্য পারফরমেন্সের জন্য খালিদের কাছে জবাবদিহি চান সমর্থকরা। শুধু কোচকে ঘিরেই বিক্ষোভ নয়, গোলকিপার লুই ব্যারেটো নামেও পোস্টার নিয়ে হাজির ছিলেন সমর্থকরা। অ্যালভিটোকে কেন ক্লাবে রাখা হয়েছে, তাও কর্তাদের কাছে জানতে চান সমর্থকরা। অনুশীলন শেষে সমর্থকদের সঙ্গে কথা বলেন লাল-হলুদ কোচ।
এদিকে এদিন অনুশীলন চলাকালীনই গ্যালারিতে একদল সমর্থক খালিদ, আলভিটো ডি'কুনহা, টিমের বিরুদ্ধে স্লোগান দিতে থাকে। ডার্বিতে কেন এমন শোচনীয় হার? সেটার জবাবদিহি চাওয়া হয়। গ্যালারিতে ছিল বিভিন্ন ফুটবলারের উদ্দেশ্যে বিভিন্ন পোস্টার। গোলকিপার লুই ব্যারেটোর নামে লেখা পোস্টারে বলা ছিল, 'ইস্টবেঙ্গল টিমে বিশ্বমানের এরকম গোলকিপার থাকার জন্য আমরা গর্বিত।' সমর্থকদের রোষের হাত থেকে বাদ যাননি অধিনায়ক অর্ণব মণ্ডল। অর্ণব ময়দানের দীর্ঘদিনের প্লেয়ার তাই জানেন যে সমর্থকরা তাঁদের সবচেয়ে বড় বিচারক। তাই দলের বিশ্রী পারফরমেন্সের দায় নিয়ে সমর্থকদের কাছে দুঃখপ্রকাশ করতে দেখা যায় অর্ণবকে।
এদিকে লালহলুদের ফুটবল সচিব রাজা গুহ ও দেবরাজ চৌধুরি হাজির থাকায় সমর্থকদের বিক্ষোভ বড় আকার ধারণ করেনি। এই দু'জন কর্তার কাছে সমর্থকরা জানতে চান, ক্লাবে আলভিটোর কাজটা কী? আলভিটোকে কেন রাখা হয়েছে? উত্তেজিত সমর্থকদের ঠান্ডা করতে রাজা গুহ তাদের বলেন, ক্লাবের ইয়ুথ ডেভলপমেন্টের সঙ্গে যুক্ত রয়েছে আলভিটো। এছাড়া, কোচ-ফুটবলার ও কোচ-কর্তাদের যোগসূত্রর কাজ করে থাকেন।'
এদিকে ইস্টবেঙ্গলও খুশি নয় খালিদ জামিলকে নিয়ে। শিশুপালের ১০০ অপরাধ অবধি ক্ষমা করেছিলেন শ্রীকৃষ্ণ, ইস্টবেঙ্গলে কত ভুল অবধি খালিদ জামিলের লাইফ লাইন তা নিয়ে কিন্তু প্রশ্ন থাকছেই।












Click it and Unblock the Notifications