বাংলার স্বপ্নভঙ্গ সজলের মিসে! ফের টাইব্রেকারে জিতে সন্তোষ ট্রফি চ্যাম্পিয়ন কেরল

বাংলাকে ফের টাইব্রেকারে হারিয়েই সন্তোষ ট্রফি জিতে নিল কেরল। নিজেদের রাজ্যে কেরল ১৯৯৩ সালের পর এই প্রথম সন্তোষ ট্রফি জয়ের স্বাদ পেল। ৭৫তম সন্তোষ ট্রফির প্রথম ৯০ মিনিটে কোনও দলই গোল করতে পারেনি। অতিরিক্ত সময়ে দিলীপ ওরাওঁয়ের গোলে এগিয়ে থেকেও শেষ লগ্নে গোল হজম করে বাংলা। পেনাল্টি শ্যুটআউটে বাংলার হয়ে দ্বিতীয় শটটি নিতে গিয়ে বল বাইরে মেরে বসেন সজল বাগ। ফলে বাকিরা গোল করলেও টাইব্রেকার ৫-৪ ব্যবধানে জিতে সপ্তমবার সন্তোষ ট্রফি জিতল কেরল।

ফের টাইব্রেকারে জিতে সন্তোষ ট্রফি চ্যাম্পিয়ন কেরল

(ছবি- এআইএফএফ)

আজকের ম্যাচের আগে পর্যন্ত বাংলা ও কেরল পরস্পরের বিরুদ্ধে ৩১টি ম্যাচ খেলেছে, যার ১৫টিতে জিতেছে বাংলা, কেরলের জয় ৮টিতে। চলতি সন্তোষ ট্রফিতে গ্রুপ পর্যায়ের খেলায় কেরল বাংলাকে ২-০ গোলে হারিয়েছিল। কর্নাটক ম্যাচের দলে আজ কোনও পরিবর্তন না করে দল নামিয়েছিলেন কেরলের কোচ বিনো জর্জ চিরামল। বাংলার প্রথম একাদশে একটিই পরিবর্তন আনেন কোচ রঞ্জন ভট্টাচার্য। পাঁচ ডিফেন্ডার রেখে তিনি দল নামান, ফলে বাসুদেব মাণ্ডির জায়গায় শুরু থেকে খেলেন নবি হুসেন খান। মণিপুরকে ৩-০ গোলে হারিয়ে ফাইনালে ওঠে বাংলা। কেরল ৭-৩ গোলে হারিয়ে কর্নাটককে হারিয়ে ফাইনালে জায়গা করে নেয়।

এদিন বাংলা প্রেসিং ফুটবল খেলে চাপেই রাখে কেরলকে। প্রথমার্ধে বাংলারই আধিপত্য বজায় ছিল। যদিও দুই দলই বেশ কিছু সুযোগ পায়, কিন্তু গোলমুখ খুলতে পারেনি। বাংলার গোলকিপার প্রিয়ন্ত সিং ও কেরলের গোলকিপার ভি মিধুন বেশ কয়েকটি দুরন্ত সেভ করে নিজেদের দলকে বিপন্মুক্ত করেন। দ্বিতীয়ার্ধে অবশ্য বেশি সুযোগ তৈরি করেছিল কেরলই। কিন্তু প্রিয়ন্ত ছিলেন অপ্রতিরোধ্য। নির্ধারিত ৯০ মিনিট গোলশূন্য থাকার পর খেলা গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে। অতিরিক্ত সময়ের ৭ মিনিট অর্থাৎ ম্যাচের ৯৭ মিনিটে বাংলাকে এগিয়ে দেন দিলীপ ওরাওঁ। সেমিফাইনালেও তিনি বাংলার তৃতীয় গোলটি করেছিলেন। ৭০ মিনিটে মহীতোষ রায়ের পরিবর্ত হিসেবে নামা সুপ্রিয় পণ্ডিতের ভাসানো ক্রসে মাথা ছুঁইয়ে তিনি বল পাঠিয়ে দেন প্রতিপক্ষের জালে, কেরলের গোলকিপারের কিছুই করার ছিল না। দিলীপকে হলুদ কার্ড দেখান রেফারি। এর মিনিট চারেক পর ফরওয়ার্ড লাইনে পরিবর্তন আনেন কোচ রঞ্জন ভট্টাচার্য। ফারদিন আলি মোল্লাকে তুলে নামান রবি দাসকে। অতিরিক্ত সময়ের প্রথমার্ধের শেষ লগ্নে লাল কার্ড দেখিয়ে ডাগআউট থেকে সুজিত সিংকে বের করে দেন রেফারি। বিরতিতে বাংলা এগিয়ে ছিল ১-০ গোলে।

১১৩ মিনিটে নবি খানকে তুলে নেন বাংলার কোচ রঞ্জন। এদিন অনবদ্য ফুটবল উপহার দেন নবি খান। এর তিন মিনিট পরেই ম্যাচে সমতা ফেরায় কেরল। অতিরিক্ত সময়ের দ্বিতীয়ার্ধে গোল শোধে মরিয়া হয়ে উঠেছিল কেরল। ১১৪ মিনিটে প্রিয়ন্ত নৌফলের গোলমুখী শট বাঁচান। কিন্তু দুই মিনিট পরেই ম্যাচ ১-১ করে ফেলে কেরল ১১৬ মিনিটের মাথায় নৌফলের ক্রস থেকে গোল করেন বিবিন অজয়ন। অতিরিক্ত সময় ১-১ থাকায় পেনাল্টি শ্যুটআউটে গড়ায় সন্তোষ ট্রফি ফাইনাল। সজল বাগের মিসই বাংলার স্বপ্নভঙ্গ করল। বাংলার হয়ে শেষ শটে গোল করেছিলেন গোলকিপার প্রিয়ন্ত সিং, যিনি এদিন অসাধারণ খেললেন। শেষ শটের সময় গোলকিপার রাজা বর্মনকে নামালেও খেতাব অধরাই থেকে গেল বাংলার।

Notifications
Settings
Clear Notifications
Notifications
Use the toggle to switch on notifications
  • Block for 8 hours
  • Block for 12 hours
  • Block for 24 hours
  • Don't block
Gender
Select your Gender
  • Male
  • Female
  • Others
Age
Select your Age Range
  • Under 18
  • 18 to 25
  • 26 to 35
  • 36 to 45
  • 45 to 55
  • 55+