Exclusive: ছেলের সাফল্যে পুরনো স্মৃতি মনে পড়ছে জামশেদ নাসিরির, জানিয়ে দিলেন ছেলেকে নিয়ে কী তাঁর পরিকল্পনা

ছেলের সাফল্যে পুরনো স্মৃতি মনে পড়ছে জামশেদ, জানিয়ে দিলেন ছেলের কেরিয়ার নিয়ে কী তার পরিকল্পনা

ডার্বির পর থেকে লাগাতার ব্যস্ত থেকেছে তাঁর ফোন, ছেলে কিয়ান নাসিরি সাফল্য মনে করিয়ে দিচ্ছিল তাঁর ফেলা আসা সোনালি দিনগুলি। সেই সময়ে মুঠোফোন ছিল না, ছিল না ফেসবুক বা হোয়্যাটসঅ্যাপ কিন্তু জামশিদ নাসিরি'র একটি সাক্ষাৎকার পাওয়ার জন্য ক্লাব তাঁবুর বাইরে বা মেসের ঘরের বাইরে সাংবাদিকদের ভীড় লেগে থাকত সব সময়ে।

ইস্টবেঙ্গল-মহমেডানের জার্সিতে ভারতীয় ক্লাব ফুটবলের ইতিহাসে সোনালি অধ্যায়ের সাক্ষী থেকেছেন জামশেদ। প্রায় ৩৪ বছর পর ফের জামশেদ নাসিরিকে ঘিরে সাংবাদিকদের হুড়োহুড়ি, না এবার তাঁর কোনও কীর্তিমানের জন্য নয়, বাবা'র পদাঙ্ক অনুসরণ করে আইএসএল-এর ডার্বিতে ছেলে কিয়ান নাসিরির হ্যাটট্রিক কলকাতায় পুরনো দিনে ফিরিয়ে নিয়ে গিয়েছে বাবাকে।

ওয়ানইন্ডিয়া বাংলাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জামশেদ বলেন, "আমাদের সময় অন্য রমক ছিল, এত ফোনের চল ছিল না। কিয়ানদের সময় আলাদা, প্রযুক্তি অনেক বেড়ে গিয়েছে। ভাল লাগছে ও ফোকাস ধরে রেখেছে। ডার্বির মতো গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে নিজেদের অবদান রেখে।"

কিয়ানকে ঘিরে হাজারের ওয়াটের আলোর রোশনাই চারদিকে, তবুও জামশেদ খুশি ছেলের একাগ্রতা দেখে। তিনি বলেন, "নিজের কাজে কিয়ান প্রচণ্ড মনযোগী, মাঠের বাইরে এবং মাঠের ভিতরে শৃঙ্খলাপরায়ণ। নিজের খেলার দিকেই ফোকাস রাখে ছোট থেকে। শুধু বড় মঞ্চেই নয়, যে কোনও ম্যাচে পারফর্ম করে যেতে হবে।"

একজন ফুটবলার এবং ভারতীয় ফুটবলের উন্নতির জন্য শুধু আইএসএল-ই যথেষ্ট নয়, তা ফের এ দিন মনে করিয়ে দিয়েছেন আটের দশকে মাঠ কাঁপানো এই ফরওয়ার্ড। এই প্রতিবেদককে তিনি বলেন, "শুধু আইএসএল দিয়ে ভারতীয় ফুটবলের উন্নতি সম্ভব নয়। আমাদের সময়ে কত টুর্নামেন্ট হত। ফুপটবলাররা একটা টুর্নামেন্ট শেষ করে আরেকটার জন্য প্রস্তুতি নিত। এখন সেই সব টুর্নামেন্ট বন্ধ হয়ে গিয়েছে। আমরা বছরে ন-দশটা করে টুর্নামেন্ট খেলতাম। ১৯৮৩ এবং ১৯৮৪ সালে আমরা মহমেডানের হয়ে সব মিলিয়ে ন'টা টুর্নামেন্ট জিতেছিলাম। ১৯৮৫ সালে বরদলউ ছাড়া সব ট্রফি জিতেছিলাম। পর তিন বছর ফেডারেশন কাপ চ্যাম্পিয়ন হয়েছিলাম, তিনটে ফাইনালেই গোল ছিল। শুধু আইএসএল-এই দেশের ফুটবলে এবং ফুটবলারদের উন্নতি করাতে পারবে না। আমরা বলি কিন্তু কেউ কানই দেয় না!"

ডার্বির পরে এখনও ছেলের সঙ্গে কথা হয়নি জানিয়েছেন নাসিরি। এমনিতে শিবিরে থাকলে খুব একটা কথা হয় না বাপ-ছেলের। ভারতীয় ক্লাব ফুটবলের অন্যতম কিংবদন্তির কথায়, "ডার্বির পর ওর সঙ্গে কোনও কথা হয়নি, আমি কখনও ফোন করি না বা ওর ফোনে আশা করি না। কারণ শিবিরে ও নিজের খেলা নিয়ে ফোকাসড থাকে। প্রয়োজন হলে আমায় ফোন করে।"

জামশেদের লক্ষ্য কিয়ানকে আরও তৈরি করা যাতে ভারতীয় দলের জার্সি গায়ে চাপিয়ে মাঠে নামতে পারে ছেলে। এর পরের পরিকল্পনাও সেরে রেখেছেন তারকা বাবা। তাঁর কথায়, "যাতে ভারতীয় দলের হয়ে খেলতে পারে তার জন্য তৈরি হচ্ছে ও। আগে দেশের হয়ে মাঠে নামুক। আমার লক্ষ্য দেশের হয়ে প্রতিনিধিত্ব করার পর এশিয়ার কোনও ক্লাবে এবং পরবর্তীতে ইউরোপের কোনও ক্লাবে যাতে ও জায়গা অর্জন করতে পারে সেই মতো ওকে তৈরি করা। সেই লক্ষ্য রেখেই আমি ওকে তৈরি করছি।"

ফুটবল পাগল কিয়ান ফাঁকা সময়ে পেলে বিশ্ব ফুটবলের তারকাদের খেলা দেখেন, তাদের টেকনিক এবং খেলার ধরণ ফলো করেন। মেসির ভক্ত কিয়ানের লক্ষ্য থাকে যেই রকম ভাবে সম্ভব সেরা টেকনিকের উপর দখল নেওয়া, জানিয়েছেন তাঁর গর্বিত বাবা জামশেদ নাসিরি।

Notifications
Settings
Clear Notifications
Notifications
Use the toggle to switch on notifications
  • Block for 8 hours
  • Block for 12 hours
  • Block for 24 hours
  • Don't block
Gender
Select your Gender
  • Male
  • Female
  • Others
Age
Select your Age Range
  • Under 18
  • 18 to 25
  • 26 to 35
  • 36 to 45
  • 45 to 55
  • 55+