Jamie Maclaren: মোহনবাগান সুপার জায়ান্টে সই বিশ্বকাপারের! জেমি ম্যাকলারেন জন্মদিনেই নামবেন অনুশীলনে
Jamie Maclaren: জল্পনাই সত্যি হলো! মোহনবাগান সুপার জায়ান্টের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হলেন অস্ট্রেলিয়ান বিশ্বকাপার জেমি ম্যাকলারেন। খেলেছেন লিওনেল মেসির আর্জেন্তিনার বিরুদ্ধেও।
এ লিগে সর্বাধিক গোলদাতা তথা ৫ বারের সোনার বুটজয়ী ম্যাকলারেন ৩১ পূর্ণ করবেন ২৯ জুলাই। সেদিনই মোহনবাগান দিবস। হোসে মোলিনার দলের অনুশীলনের প্রথম দিনেই হাজির থাকবেন ম্যাকলারেন।

চার বছরের জন্য ম্যাকলারেন সবুজ মেরুনে খেলার জন্য চুক্তিবদ্ধ হলেন। মেলবোর্ন সিটির সঙ্গে চুক্তি শেষের পর থেকেই তাঁর মোহনবাগান সুপার জায়ান্টে যোগদানের সম্ভাবনা নিয়ে চর্চা চলছিল। অবশেষে ক্লাবের তরফে আজই হলো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা।
এ লিগে ১৫৪টি গোল রয়েছে ম্যাকলারেনের। গত মরশুমে মেলবোর্ন সিটির হয়ে ২৪টি গোল করেছেন, সেই ক্লাবেরও তিনিই সর্বাধিক গোলদাতা। মেলবোর্ন সিটির হয়ে পাঁচ বছরে ১৪২ ম্যাচে তিনি ১০৩টি গোল করেছেন। কাতার বিশ্বকাপে খেলেছেন। পার্থ গ্লোরি, ব্রিসবেন রোয়ার্সের মতো ক্লাবেও খেলেছেন।
দিমিত্রি পেত্রাতস, জেসন কামিন্স ও জেমি ম্যাকলারেন- একসঙ্গে তিন বিশ্বকাপার এবার নামবেন সবুজ মেরুনের হয়ে। ২৮ জুলাই অন্যান্য ফুটবলারদের সঙ্গে ম্যাকলারেন কলকাতায় আসবেন। ভারতীয় ফুটবল সম্পর্কে ভালোরকম ওয়াকিবহাল ম্যাকলারেন।
ক্লাবকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, ইয়ান হিউম আইএসএল খেলার সময় থেকেই অস্ট্রেলিয়ার চ্যানেলে তিনি ভারতের সেরা লিগের খেলা দেখতেন। বেশ কিছু বিশ্বখ্যাত তারকাকে খেলতে দেখেছেন। মোহনবাগান ক্লাবের ঐতিহ্য, ইতিহাস ও ট্রফি জেতার ইচ্ছাশক্তিই তাঁকে আকৃষ্ট করেছে।
ভারতীয় খাবার ম্যাকলারেন ও তাঁর স্ত্রী-র খুব পছন্দের। কলকাতা ডার্বিও টিভিতে দেখেছেন অজি বিশ্বকাপার। তাঁর কথায়, যেভাবে ৬০ হাজার দর্শক ডার্বি দেখতে আসেন, সেই পরিবেশ অসাধারণ। ক্লাবের সমর্থকদের কাছে ডার্বির আবেগ ও মাহাত্ম্য যে আলাদা সে সম্পর্কেও ভালোই জানেন ম্যাকলারেন।
ম্যাকলারেন বলেছেন, দিমি ও জেসনের সঙ্গে একই দলে ও প্রতিপক্ষ দলে খেলেছি। দিমি আক্রমণ তৈরিতে সিদ্ধহস্ত, সাহসী, স্ট্রাইকারদের জন্য ঠিকানা লেখা গোলের পাস বাড়ান। আমি জানি, মোহনবাগান সুপার জায়ান্টেও তাঁর কাছ থেকে গোল করার বল পাব, দিমি নিজেও গোল করবেন।
জেসন কামিংসের বাঁ পা তাঁর ডান পায়ের রেপ্লিকা বলে উল্লেখ করেছেন ম্যাকলারেন। তিনি বলেন, এডিনবার্গের হিবারনিয়ান ক্লাবে আমরা দুজনে একসঙ্গে খেলেছি। তখন থেকেই বিপক্ষের পেনাল্টি বক্সে বল নিয়ে ঢুকে পড়াটা আমাদের অভ্যাস ও পছন্দের। স্বাভাবিকভাবেই কেউ না কেউ গোল করতাম। যা ৯ নম্বররা করে থাকেন।
আক্রমণভাগে আরেক সতীর্থ গ্রেগ স্টুয়ার্টকে এসপিএল খেলার সময় থেকে চেনেন ম্যাকলারেন। গ্রেগ যে প্রতিপক্ষের ত্রাস হয়ে উঠতে পারেন তার প্রমাণ ইতিমধ্যেই মিলেছে। ম্যাকলারেন সমর্থকদের আশ্বস্ত করে বলেন, আমাদের মানিয়ে নিতে কোনও অসুবিধাই হবে না। সমর্থকদের প্রত্যাশা পূরণে আমরা বদ্ধপরিকর।
নতুন ক্লাবে মানিয়ে নিতে সপ্তাহখানেকের বেশি লাগবে না বলে দাবি ম্যাকলারেনের। তিনি বলেন, মাঠের ভিতর গতিবিধির সঙ্গে সড়গড় হলেই আমি নিজস্ব ছন্দ ফিরে পাব, লক্ষ্যে পৌঁছে যাব। এই বিশ্বাস আমার আছে। মোহনবাগান সুপার জায়ান্ট ইতিমধ্যেই নিজেদের সেরা প্রমাণ করেছে। সেই দলে খেলার সুযোগ পেয়ে আমি রোমাঞ্চিত।
তাঁর জন্মদিন মোহনবাগান দিবসেই! সে কথা মনে করিয়ে ম্যাকলারেন বলেন, যেদিন মোহনবাগান মাঠে নামব সেটা আমার কাছে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ দিন। ২৯ জুলাই ক্লাবের ইতিহাসে ঐতিহাসিক দিন। তেমনই আমার জীবনেও বিশেষ দিন। জন্মদিন ও ক্লাবের ইতিহাস তৈরির দিনে নতুন পথচলার অপেক্ষায় দিন গুনছি। প্রতিদিন পরিশ্রম করে নিজেকে তৈরি করব সেরাটা দিতে। তারপর ট্রফি জিতে সকলে মিলে আনন্দে মাতবেন, সেই দিনের অপেক্ষায় ম্যাকলারেন।












Click it and Unblock the Notifications