আইএসএলে প্লে-অফকেই ফাইনাল ভাবছে এটিকে মোহনবাগান, ওডিশা এফসিকে সমীহ করলেও আত্নবিশ্বাসী প্রীতমরা
আইএসএলে প্লে-অফে শনিবার বিবেকানন্দ যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে এটিকে মোহনবাগানের প্রতিপক্ষ ওডিশা এফসি। প্রতিপক্ষকে সমীহ করলেও জেতার বিষয়ে আত্মবিশ্বাসী সবুজ-মেরুন।
আইএসএলের সেমিফাইনালে উঠতে মরণ-বাঁচন লড়াইয়ে ওডিশা এফসির মুখোমুখি হচ্ছে এটিকে মোহনবাগান। প্লে-অফের ম্যাচটি হবে শনিবার সন্ধ্যায় সল্টলেকের বিবেকানন্দ যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে। চলতি আইএসএলে প্রথম সাক্ষাতে ভুবনেশ্বরে ওডিশা এফসির সঙ্গে গোলশূন্য ড্র করেছিল এটিকে মোহনবাগান। যদিও শেষ সাক্ষাতে যুবভারতীতে ২-০ গোলে জয়লাভ করে হুয়ান ফেরান্দোর দল। তবে প্লে-অফে প্রতিপক্ষকে হাল্কাভাবে দেখছে না সবুজ মেরুন শিবির।

ওডিশাকে সমীহ করছে এটিকে মোহনবাগান
ইস্টবেঙ্গলের বিরুদ্ধে টানা ডার্বি জয়ের উচ্ছ্বাসকে মাঠের বাইরে এটিকে মোহনবাগানের ফোকাস শুধুই ওডিশা এফসি ম্যাচ। এই ম্যাচটিকে কার্যত ফাইনাল বলেই মনে করছেন সবুজ মেরুন। ডার্বিতে গোল করা স্লাভকো ডামজাবনোভিচ (Slavko Damjanovic) বলেছেন, ওডিশা শক্তিশালী দল। ওদের বিরুদ্ধে আগের ম্যাচে কিছুক্ষণ খেলেছিলাম। ব্রাজিলীয় স্ট্রাইকার দিয়েগো মরিসিও ও স্প্যানিশ মিডিও ভিক্টর রডরিগেজ মূলত আক্রমণ তৈরি করেন। প্রতি আক্রমণেও উঠে আসে ওডিশা। ফলে আমাদের সতর্ক থাকতে হবে। ঘরের মাঠে এই ম্যাচটি খেলতে চেয়েছিলাম আমরা সকলেই। সেই লক্ষ্যে সফল হয়েছি। দর্শক সমর্থন আমাদের দিকে থাকবে। সেটা কাজে লাগিয়ে জিততে হবে। ডার্বিতে সবুজ-মেরুন জার্সিতে পুরো ম্যাচ খেলেছি। তবে নিজের খেলায় এখনও সন্তুষ্ট নই। আমাদের আরও ভালো খেলতে হবে। আগামী ম্যাচে সুযোগ আরও ভালোভাবে কাজে লাগাতে চাই। এই ম্যাচ না জিততে পারলে ডার্বি জয়ের আনন্দ ফিকে হয়ে যাবে। সে কথাও মাথায় রাখছি।

হাড্ডাহাড্ডি ম্যাচের প্রতীক্ষা
হুগো বুমোসের কথায়, ডার্বিতে যে মনোভাব নিয়ে নেমেছিলাম তার চেয়েও বেশি একাগ্রতা দেখাতে হবে। ইস্টবেঙ্গলের চেয়ে শক্তিশালী দল ওডিশা এফসি। ওরাও সেমিফাইনালে যেতে মরিয়া থাকবে। হাড্ডাহাড্ডি ম্যাচ হবে, কেউ কাউকে ছেড়ে কথা বলবে না। আমরা আত্মবিশ্বাসী হলেও আত্মতুষ্ট নই। ৯০ মিনিটেই ম্যাচের ফয়সালা করে ফেলতে হবে। অতিরিক্ত সময় বা টাইব্রেকারে নিয়ে যাওয়া যাবে না। প্লে-অফ মানে ফাইনাল। এই ম্যাচেই নির্ভর করবে সেমিফাইনালে ওঠা। ওডিশা এফসি প্রতি আক্রমণে যেতে পছন্দ করে। তবে আমাদের রক্ষণভাগ ভালো খেলছে। চাপের মুখে কেরালা ব্লাস্টার্স ও ইস্টবেঙ্গল ম্যাচ জিতেছি। গোল আসছে। আমি গোল না পেলেও, নিজের খেলায় খুশি। কোচ আমাকে দিয়ে যা করাতে চাইছেন, সেটা করতে পারছি। আমাকে প্রতিপক্ষের ২-৩ জন মার্কিংয়ে যাচ্ছেন, ফলে অন্যরা জায়গা পেয়ে যাচ্ছেন সহজেই। গোলের মুখ খোলা যাচ্ছে। ডার্বিতেও সেটা হয়েছে। জেতার বিষয়ে আত্মবিশ্বাসী, কোচ যেভাবে চাইবেন, সেভাবেই খেলব।

আত্মবিশ্বাসী প্রীতম
প্রীতম কোটাল বলেন, এটা ম্যাচ লিগ ম্যাচ নয়। এই ম্যাচ হারলেই সব শেষ। ফলে ডার্বির চেয়ে আমাদের দশ শতাংশ বেশি হলেও দিতে হবে। অধিনায়ক হিসেবে ড্রেসিংরুমে এটাই সকলকে বলেছি। ডার্বি অতীত। লিগ চ্যাম্পিয়ন হতে পারিনি আমাদের কিছু ভুলে। এবার ট্রফি জয়ের সুযোগ থাকছে। ম্যাচটি ৯০ মিনিটেই শেষ করতে চাই। ডার্বিতে যেমন জেতার মনোভাব নিয়ে নেমেছিলাম, এবারও তার ব্যতিক্রম হবে না। তবে খেয়াল রাখতে হবে সামান্য ভুলেই অঘটন ঘটে যায়। সতর্ক থাকতে হবে। কোচের পরিকল্পনা অনুযায়ীই পুরো দল খেলছে। সবচেয়ে বড় কথা, চোট-সমস্যা কাটিয়ে পুরো দল পাচ্ছি। ওডিশাকে অন্য কোনও দলের সঙ্গে তুলনা করব না। তবে ওরা শক্তিশালী। ডানদিক থেকে আক্রমণ তুলে আনে। মরিসিও বিপজ্জনক প্লেয়ার। চকিতে টার্ন করে বল গোলে মারতে পারেন। এভাবে ওডিশা অনেক ম্যাচে গোল পেয়েছে। মরিসিওকে বক্সের আশেপাশে থাকতে দেওয়া যাবে না। ওডিশাকে হারানোর পর সেমিফাইনাল নিয়ে পরিকল্পনা করব। আপাতত ম্যাচ ধরে ধরে এগিয়ে যেতে চাই।

সমস্যামুক্ত বাগান
এটিকে মোহনবাগান এই ম্যাচে পাচ্ছে ব্র্যান্ডন হ্যামিলকে। কার্ড সমস্যায় তিনি ডার্বিতে খেলতে পারেননি। বিশাল কাইথ থাকবেন তিনকাঠির তলায়। প্রীতম কোটাল, শুভাশিস বোসরা সামলাবেন রক্ষণ। এবারের আইএসএলে সবচেয়ে কম গোল খাওয়ার তালিকায় দুইয়ে রয়েছে এটিকে মোহনবাগান। ১৭টি গোল হজম করেছে। ৯টি ম্যাচে মোহনবাগানের জালে বল জড়ায়নি। আশিস রাই ও হ্যামিলের উপরও থাকবে বড় দায়িত্ব। তবে গোল করার ক্ষেত্রে সবুজ মেরুনের দুর্বলতা বিভিন্ন ম্যাচে প্রকট হচ্ছে। কোনও বিশেষজ্ঞ স্ট্রাইকার নেই। মনবীর সিং, আশিক কুরুনিয়ান, লিস্টন কোলাসোরা সুনাম অনুযায়ী পারফরম্যান্স উপহার দিতে পারেননি। আশিক তবু কিছুটা ভালো। কার্ল ম্যাকহিউ, গ্ল্যান মার্টিন্স, বুমোস, মনবীরদের কাল জ্বলে ওঠার প্রত্যাশা ফুটবলপ্রেমীদের। দিমিত্রি পেত্রাতসের কাছেও গোলের প্রত্যাশা সবুজ মেরুন শিবিরের।
(ছবি- এটিকে মোহনবাগান মিডিয়া)












Click it and Unblock the Notifications