আইএসএলে ডার্বি জেতার বিষয়ে আত্মবিশ্বাসী এটিকে মোহনবাগান, তবে হাল্কাভাবে নিচ্ছে না ইস্টবেঙ্গলকে
শনিবার আইএসএলে বিবেকানন্দ যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে মুখোমুখি এটিকে মোহনবাগান ও ইস্টবেঙ্গল। লাল হলুদকে সমীহ করেই তিন পয়েন্টের জন্য ঝাঁপাতে মরিয়া সবুজ মেরুন শিবির।
কলকাতা ডার্বি বিগত বেশ কয়েকটি ম্যাচ ধরেই একপেশে হয়ে দাঁড়িয়েছে। একের পর এক জয় ছিনিয়ে নিচ্ছে এটিকে মোহনবাগান। শনিবার চলতি আইএসএলের ফিরতি ডার্বি। ইতিমধ্যেই এটিকে মোহনবাগান পৌঁছে গিয়েছে আইএসএলের প্লে-অফে। ইস্টবেঙ্গলের শেষ ম্যাচ হতে চলেছে ডার্বি। লাল হলুদের কাছে এই ডার্বি যেমন সম্মান পুনরুদ্ধারের, তেমনই সবুজ মেরুন জিতলে তৃতীয় স্থানে থেকে লিগ পর্ব শেষ করবে।

আত্মতুষ্টি নেই বাগান শিবিরে
টানা সাতটি ডার্বি জয়ের পরেও আত্মতুষ্টি নেই এটিকে মোহনবাগান শিবিরে। যদি সবুজ মেরুন তিন নম্বরে থাকে, তবে ঘরের মাঠে প্লে-অফ নক আউট খেলার সুযোগ থাকবে। কার্ড সমস্যায় নেই ব্র্যান্ডন হ্যামিল। সেট পিস, পজেশনাল ফুটবল, গোলমুখ খোলার পন্থা বের করা থেকে মাঝমাঠের সঙ্গে রক্ষণের তালমিল বাড়ানোয় জোর দেওয়া হচ্ছে অনুশীলনে। দিমিত্রি পেত্রাতোসের কথায়, ডার্বি যেখানেই হোক না কেন, সব সময়ই তা মর্যাদার ম্যাচ। অস্ট্রেলিয়াতেও ডার্বি খেলেছি। সেই মানসিকতা নিয়েই এখানে খেলতে নামি। ইস্টবেঙ্গল প্লে-অফের লড়াই থেকে ছিটকে গিয়েছে বলে তাদের ডার্বিতে মোটিভেশনের অভাব হবে বলে বিশ্বাস করি না। প্লে-অফের আগে আমাদের শেষ ম্যাচ, তার উপর তিন নম্বর স্থান পাকা করে ফেলতে হবে। সমর্থকদের খুশি করাটাও আমাদের দায়িত্ব।

লাল হলুদকে সমীহ
ইস্টবেঙ্গলকে সমীহ করে পেত্রাতোস বলেন, ওরা যথেষ্ট শক্তিশালী দল। আক্রমণভাগ, উইং প্লে বেশ ভালো। লিগ শিল্ড চ্যাম্পিয়ন মুম্বই সিটি এফসিকে হারিয়ে এসে আমাদের বিরুদ্ধে খেলতে নামছে। ওদের খাটো করে দেখার কোনও কারণ নেই। তবে আমি নিজেদের খেলা নিয়েই ভাবছি। আমি গোল পেলাম, কি পেলাম না বড় কথা নয়। ম্যাচ জেতাটাই বড় কথা। আমরা আইএসএলের সব দলকে হারানোর ক্ষমতা রাখি। শুধু নিজেদের খেলাটা খেলতে হবে।

ক্লেইটনকে চ্যালেঞ্জ
স্লাভকো ডেমানোভিক বলেন, ইস্টবেঙ্গলের আক্রমণভাগ বেশ শক্তিশালী। ক্লেইটন সিলভা ভালো স্ট্রাইকার। সুযোগসন্ধানী, গোলটা চেনেন। আমি অন্য ক্লাবে থাকাকালীন ক্লেইটনের বিরুদ্ধে খেলেছি। তাঁর খেলার ধরন জানি। আমাকে ক্লেইটন পরাস্ত করতে পারেননি। তাঁকে গোল করতে না দেওয়ার শপথ নিয়েই নামব। হ্যামিলের পরিবর্তে আমাকে কোচ হয়তো নামাবেন। পুরো না খেললেও কয়েকটা ম্যাচে খেলেছি। সেরাটা দেওয়ারই চেষ্টা করব। সার্বিয়ান ডার্বিতে খেলার অভিজ্ঞতা থাকলেও প্রথমবার কলকাতা ডার্বিতে নামতে তিনি মুখিয়ে। ইউটিউবে দেখেছেন কলকাতা ডার্বির মুড।

ডার্বি জয়ের ধারা অব্যাহত রাখতে চায় বাগান
শুভাশিস বসু বলেছেন, আজ পর্যন্ত কোনও ডার্বিতে হারিনি। সেই রেকর্ড অক্ষত রেখে এবারও জিতব। জিততেই হবে। তিন নম্বরে থাকা সুনিশ্চিত করে প্লে-অফে কে পড়বে তা পরে দেখব। প্লে-অফের দৌড়ে না থাকলেও ইস্টবেঙ্গল ভালো খেলছে। আগের ম্যাচেই হারিয়েছে মুম্বই সিটি এফসিকে। হারানোর কিছু না থাকায় তারা সর্বশক্তি নিয়ে ঝাঁপাবে। ডার্বি জিতলেই ওরা সব কিছু ভুলে যায়। বাংলার ছেলেদের কাছে ডার্বির মাহাত্ম্য আলাদা। তবে ড্রেসিংরুমে দেখি ভিনরাজ্যের বা বিদেশি ফুটবলাররাও ডার্বিকে মর্যাদার ম্যাচ হিসেবে দেখেন। কেরল ম্যাচে আমরা দেখিয়েছি কীভাবে পিছিয়ে পড়েও জিততে হয়। আমাদের কোনও চাপ নেই। ডার্বি খেলছি অনেকদিন ধরে। কেউই ফেভারিট নয়। অনেক সময় সেরাটা খেলেও হেরে যেতে হয়। খাতায় কলমের হিসেব এখানে মেলে নাষ ডার্বিকে সকলেই গুরুত্ব দিচ্ছেন। নতুন যোগ দেওয়া দু-তিনজন বাদে সকলেরই ডার্বি খেলার অভিজ্ঞতা ও জিতে ফেরার অভ্যাস রয়েছে।












Click it and Unblock the Notifications