আইএসএল সেমিফাইনালের আগে হড়কাল এটিকে মোহনবাগান, বাজিমাত মুম্বইয়ের
কথায় আছে, সব ভালো যার শেষ ভালো তার। আইএসএল সেমিফাইনালের আগে লিগ পর্যায়ের শেষটা অবশ্য ভালো হলো না এটিকে মোহনবাগানের। আন্তোনিও লোপেজ হাবাসের দলকে হারিয়ে লিগ শিল্ড জিতে নিল মুম্বই সিটি এফসি। শীর্ষে থেকে লিগ শেষ করতে না পারায় এএফসি চ্যাম্পিয়ন্স লিগের গ্রুপ পর্যায়ে সরাসরি খেলার যোগ্যতা অর্জনের সুযোগও হাতছাড়া হলো সবুজ মেরুনের। এটিকে মোহনবাগানের পা হড়কানোয় যে সুযোগ আদায় করে নিল মুম্বই। সেমিফাইনালে তারা খেলবে এফসি গোয়ার বিরুদ্ধে। বাগানের প্রতিপক্ষ নর্থ ইস্ট ইউনাইটেড।

আইএসএলের গ্রুপ পর্যায়ের শেষ ম্যাচে ব্যাম্বোলিমের জিএমসি স্টেডিয়ামে এটিকে মোহনবাগান ও মুম্বই সিটি এফসি মুখোমুখি হয়েছিল। প্রথম সাক্ষাতেও মুম্বইয়ের কাছে হারতে হয়েছিল হাবাসের দলকে। প্রতিশোধের লড়াইতেও জেতা হলো না। অথচ ড্র রাখতে পারলেই লিগশীর্ষে থাকতে পারতো সবুজ মেরুন।
কার্ড সমস্যায় এই ম্যাচে শুভাশিস বোসকে পায়নি এটিকে মোহনবাগান। প্রথম একাদশে দুটি পরিবর্তন করেন কোচ আন্তেনিয়ো লোপেজ হাবাস। শুভাশিসের পরিবর্তে শুরু করেন প্রণয় হালদার। জাভিয়ার হার্নান্ডেজের জায়গায় প্রথম একাদশে সবুজ মেরুন কোচ নামান মার্সেলিনহোকে। মুম্বইয়ের প্রথম একাদশে তিনটি পরিবর্তন করেছেন কোচ সের্জিও লোবেরা। মেহতাব সিং, ভিগনেশ ও গড়ার্ডের পরিবর্তে প্রথম একাদশে তিনি রাখেন মন্দর রাও দেশাই, হার্নান সান্তানা ও প্রাঞ্জল ভূমিজকে। প্রথম থেকে দুই দলই গোলের জন্য ঝাঁপায়। ৪ মিনিটের মাথায় রয় কৃষ্ণর শট রুখে দেন মুম্বই গোলকিপার অমরিন্দর। মোর্তাদা ফল ক্লিয়ার করতে গেলে তাঁর ভুলে বল ডেভিড উইলিয়ামসের পায়ে লেগে চলে যায় কৃষ্ণর পায়ে। কৃষ্ণর জোরালো শট বাঁচান অমরিন্দর। যদিও এই ভুলের প্রায়শ্চিত্ত ফল করেন তিন মিনিট পরেই। আহমেদ জাহুর মাপা ফ্রি কিকে মাথা ছুঁইয়ে এটিকে মোহনবাগানের জালে অনবদ্যভাবে বল জড়িয়ে দেন ফল। ১৯ মিনিটে সবুজ মেরুন সমস্যায় পড়ে সন্দেশ ঝিঙ্গান চোট পেয়ে বেরিয়ে যেতেই। তাঁর পরিবর্তে নামেন প্রবীর দাস। ২২ মিনিটে মার্সেলিনহোর শট প্রতিহত হয়।
এটিকে মোহনবাগান বিপক্ষ রক্ষণে চাপ তৈরি করলেও এগিয়ে থাকা মুম্বই সিটি এফসি-ও প্রতি আক্রমণে গিয়ে সুযোগ তৈরি করতে থাকে। ৩৯ মিনিটে ওগবেচের গোলে মুম্বই ব্যবধান বাড়ায়। প্রথমার্ধে মুম্বই এগিয়ে ছিল ২-০ গোলে। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে তিরির জায়গায় সালাম রঞ্জন সিংকে নামান হাবাস। লেনি রডরিগেজের পরিবর্তে নামানো হয় এডু গার্সিয়াকে। দ্বিতীয়ার্ধেও আক্রমণাত্মক খেলতে থাকে মুম্বই। মরিয়া লড়াই চালাতে থাকে বাগানও। প্রবীর দাসের শট ক্রসবারে লেগে বেরিয়ে যায়। ডেভিড উইলিয়ামস, গার্সিয়া, রয় কৃষ্ণরা শেষ অবধি চেষ্টা করলেও বিপক্ষের গোলমুখ খুলতে পারেননি।
দুই দলের প্রথম সাক্ষাতেও ওগবেচের গোলে শেষ হাসি হেসেছিল মুম্বই। এই জয়ের ফলে এটিকে এমবি-র সঙ্গে সমান পয়েন্ট হলে তাদের। যদিও পারস্পরিক সাক্ষাতে এগিয়ে থাকার সুবাদেই লিগের শীর্ষস্থান মোক্ষম সময়ে পুনর্দখল করল মুম্বই সিটি এফসি। ম্যাচের সেরা হয়েছেন ফল।












Click it and Unblock the Notifications