আইএসএল ২০১৮: ফের একবার বাংলা বনাম গোয়া! তিক্ততা আরও বাড়বে কি
আইএসএল ২০১৮-এর এটিকে বনাম এফসি গোয়া ম্য়াচের প্রিভিউ।
আইএসএল-এর পাঁচ বছরের ইতিহাসে ইতিমধ্যেই বেশ কিছু আকর্ষণীয় প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে উঠেছে। দক্ষিণী ডার্বি অর্থাত, কেরল ব্লাস্টার্স বনাম বেঙ্গালুরু এফসি-র মধ্যে বেশ কিছু উত্তেজক ম্যাচ হয়েছে, মহারাষ্ট্র ডার্বিতেও পুনে বনাম মুম্বই ক্রমশঃ জমে উঠছে। কিন্তু এর কোনওটির সঙ্গে তুলনা হয়না এটিকে বনাম এফসি গোয়ার প্রতিদ্বন্দ্বিতার।
ভারতের ফুটবল মানচিত্রে বরাবর বাংলা ও গোয়া সবচেয়ে বড় নাম। প্রতিভাবান ফুটবলার উঠে আসা হোক কি সমর্থকদের ফুটবল উন্মাদনা, সমস্ত ক্ষেত্রেই ভারতের এই দুই ফুটবল তীর্থের প্রতিযোগিতা চলে। আইলিগে এই দ্বন্দ্ব দেখা গিয়েছে ইস্ট-মোহন বনাম সালগাওকার-ডেম্পো-চার্চিলের মধ্যে। আইএসএল-এও তার ব্যতিক্রম ঘটেনি। ২০১৪ সালে অর্থাত আইএসএল-এর দ্বিতীয় মরসুমেই তখনকার এটিকে কোচ হাবাস ঘুসি মেরেছিলেন এফসি গোয়ার মার্কি ফুটবলার পিরেসকে। সেই থেকে এই প্রতিদ্বন্দ্বিতা আরও কড়া হয়েছে।
বুধ-সন্ধ্যায় কলকাতাহর যুবভারতী স্টেডিয়ামে আরও একবার মুখোমুখি এই পুরনো প্রতিদ্বন্দ্বীরা।

এটিকে দলের খবর
শেষ ম্যাচে মুম্বইয়ের মাঠে গোলশূন্য ড্র করে, এটিকে এই মুহূর্তে ৮ ম্যাচে ১১ পয়েন্ট নিয়ে লিগ টেবিলে ষষ্ঠ স্থআনে রয়েছে। কপেলের দল আক্রমণভাগে ভয়ঙ্কর হয়ে উঠতে না পারলেও রক্ষণে ক্রমশঃ দুর্ভেদ্য হয়ে উঠছে।
শেষ দুই ম্যাচে রক্ষণে জন জনসনের সঙ্গে আন্দ্রে বাইকিকে খেলাচ্ছেন কপেল। দুজনের মধ্যে কিন্তু মাত্র দুই ম্যাচেই ভাল বোঝাপড়াগড়ে উঠেছে। ফলে কপেল ভিয়েইরাকে প্রণয় হালদারের সঙ্গে ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডে খেলানোর সুযেগ পাচ্ছএন। এদিনের ম্যাচেও এই স্ট্র্য়াটেজির পরিবর্তন হবে বলে মনে হয় না।
তবে এটিকের আসল চিন্তার জায়গা তাদের আক্রমণভাগ। আহত কালু উচের জায়গায় নেোয়া আলফারোও চোটের কবলে পড়েছেন। তাঁর বদলে অস্ট্রেলিয় স্ট্রাইকার এলাই বাবালজিকে দলে নিয়েছেন কপেল। তবে এদিনের ম্যাচে কিন্তু কপেল বিশেষ ভরসা রাখতে পারেন লাঞ্জারোতের উপর।
এই মরসুমে তাঁর উপর ভরসা রাখতে পারেননি গোয়ার কোচ লোবেরো। এই ম্য়াচে কিন্তু লোবেরোকে উল্টোদিকের ডাগআউটে দেখে জ্বলে উঠতে পারেন এটিকের মার্কি ফুটবলার। এটিকের হয়ে এখনও নিজের দক্ষতার পূর্ণ প্রকাশ ঘটেনি ব্রাজিলিয় এবারটন সান্টোসেরও।

এফসি গোয়া দলের খবর
গোয়ার ক্লাবটি এই মুহূর্তে আইএসএল-এ ৮ ম্যাচে ১৬ পয়েন্ট সংগ্রহ করেছে। একেবারে প্রথম থেকেই লিগ টেবিলের প্রথম তিন দলের মধ্যে রয়েছে তারা। তবে সম্প্রতিই বেঙ্গালুরুর বিরুদ্ধে ২-১-এ হেরে মরসুমের দ্বিতীয় পরাজয় হম করতে হয়েছে তাদের। আগের হার ছিল জামশেদপুর এফসির বিরুদ্ধে ৪-১।
দুটি পরাজয়ের ক্ষেত্রেই, এফসি গোয়াই প্রথম গোল খেয়েছিল। শুধু তাই নয়, তাদের রক্ষণভাগ এবারের লিগে মোট ১৪টি গোল হজম করেছে। যা লিগ টেবিলের তলানিতে থাকা দিল্লি ডায়নামোসের সমান। এই পরিসংখ্যানই বলে দিচ্ছে গোয়ার রক্ষণভাগে দুর্বলতা রয়েছে। কাজেই এই ম্যাচে এটিকের সামনে গোল করার ভাল সুযোগ আছে।
তবে এর পাশাপাশি গোয়া লিগের সব দলের মধ্যে সর্বোচ্চ ২২ টি গোল দিয়েছএ। যার ফলেই তারা প্রথম তিন দলের মধ্যে মিজেদের ধরে রাখতে পেরেছে। তাদের আক্রমণভাগে আছেন ভয়ঙ্কর গোল মেশিন কোরোনমিনাস। আছেন এডু বেদিয়া, বউমউসের মতো খেলোয়া়রা। কাজেই এটিকে রক্ষণকে গোটা ম্যাচেই সজাগ থাকতে হবে। মুহূর্তের মনোসংযোগের অভাবেই কিন্তু গোল তুলে নেওয়ার ক্ষমতা রয়েছে গোয়ার দলটির।

চোট আঘাত ও কার্ড সমস্যা
এটিকে - গত মরসুমের মতো এই বছরও একের পর এক চোট আঘাতে ভুগলেও এটিকে দলে এই মুহূর্তে নতুন করে কোনও চোট আঘাতের সমস্যা নেই। মাঝমাঠের ফুটবলার ইউজেনসন লিংডোও সুস্থ হয়ে গিয়েছেন। আগের দুই ম্যাচে তিনি বেঞ্চে থাকলেও তাঁণকে খেলাননি কপেল। তবে খুব তাড়াতাড়িই তাঁর সামনে সুযোগ আসতে পারে।
এফসি গোয়া - এফসি গোয়া দলে চোট আঘাতের সমস্যা না থাকলেও বেঙ্গালুরু ম্যাচে লাল কার্ড দেখায় বুধবার যুবভারতীতে খেলা হবে না মহম্মদ আলির।

সাম্প্রতিক ফর্ম ও মুখোমুখি সাক্ষাত
এটিকে - ড্র, জয়, হার, জয়, ড্র,
এফসি গোয়া - জয়, জয়, জয়, জয়, হার
এটিকে - ৪
এফসি গোয়া - ১
ড্র - ৫

দুই দলের সম্ভাব্য প্রথম এগারো
এটিকে (৪-৪-২): অরিন্দম ভট্টাচার্য (গোলরক্ষক), রিকি লাল্লাওমাওমা, আইবরলাং খোঙ্জি / অর্ণব মন্ডল, আন্দ্রে বাইকি, জন জনসন, প্রনয় হালদার, গার্সন ভিয়েইরা, কোমল থাতাল, ম্যানুয়েল লাঞ্জারোতে, এভার্টন সান্টোস, বলবন্ত সিং
এফসি গোয়া (৪-২-৩-১): মহম্মদ নওয়াজ (গোলরক্ষক), সেরিন্টন ফার্নান্ডেজ, মৌর্তাদা ফল, কার্লোস পেনা, চিংলেনসানা সিং, লেনি রড্রিগেজ, আহমেদ জাহৌহ. জ্যাকিচাঁদ সিং, ব্র্যান্ডন ফার্নান্ডেজ, এডু বেদিয়া, ফেরান কোরোমিনাস












Click it and Unblock the Notifications