যুবভারতীতে শেষ মুহূর্তে চূড়ান্ত নাটক, সংযুক্তি সময়ের গোলে আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে দুরন্ত জয় তুলে নিল ভারত
যুবভারতীতে শেষ মুহূর্তে চূড়ান্ত নাটক, অতিরিক্ত সময়ের গোলে আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে দুরন্ত জয় তুলে নিল ভারত
আলোক উজ্জ্বল যুব ভারতী ক্রীড়াঙ্গণে আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে নাটকীয় জয় তুলে নিল ভারত। দ্বিতীয়ার্ধের দশ মিনিটের থ্রিলারে আফগানিস্তানকে ২-১ গোলে পরাজিত করল ভারত। জয় সূচক গোলটি আসে ম্যাচের অতিরিক্ত সময়ে। গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে ভারতের হয়ে গোল দু'টি করেন সুনীল ছেত্রী এবং সাহাল আব্দুল সামাদ। শনিবারের এই ম্যাচকে ঘিরে দর্শকদের মধ্যে উন্মাদনা ছিল চোখে পড়ার মতো। প্রায় ৪০ হাজার দর্শ এ দিন স্টেডিয়াম ভরিয়েছিলেন এই ম্যাচের সাক্ষী থাকার জন্য।

ফিফা ক্রমতালিকায় ভারতের থেকে অনেকটা নীচে থাকা আফগানিস্তানকে শুরু থেকেই চেপে ধরেছিল ভারত। প্রথমার্ধে ভারতের একের পর এক আক্রমণত আশঙ্কার চোরাস্রোত সৃষ্টি করেছিল আফগানিস্তানের খেলোয়াড়দের মধ্যে। প্রথমার্ধে গোল করার মতো তিনটি সুযোগ তৈরি করলেও তা কাজে লাগাতে পারেনি ভারত। প্রতিআক্রমণে উঠে এসে একটি ক্ষেত্রে সহজ সুযোগ তৈরি করলেও আফগানিস্তান গোল করতে পারেনি ডিফেন্ডারদের দক্ষতায়। ০-০ ব্যবধানে শেষ হয় প্রথামার্ধ।
যেই আগ্রাসী মেজাজে প্রথমার্ধের খেলা শেষ করেছিল ভারত সেই আগ্রাসী মেজাজেই দ্বিতীয়ার্ধের খেলা শুরু করে ভারত। দ্বিতীয়ার্ধেও প্রতিপক্ষ আফগানিস্তানের রক্ষণে একের পর এক আক্রমণ তুলে এনেছিল ভারত। কিন্তু কোনওটি থেকেই আর গোল আসছিল না। প্রায় গোল করার মতো পজিশনে সুনীল ছেত্রীর হেড অল্পের জন্য লক্ষ্য ভ্রষ্ঠ হয়। এ দিন উল্লেখযোগ্য ভাবে প্রথম একাদশে ইগর স্টিম্যাচ রাখেননি ব্রেন্ডন ফার্নান্ডেজকে। অথচ এই ব্রেন্ডনই প্রথম ম্যাচে কম্বোডিয়ার বিরুদ্ধে দুর্দান্ত ফুটবল খেলেন।
৮৬ মিনিটে ফ্রি কিক থেকে বিশ্বমানের গোল করে ভারতকে এগিয়ে দেন দলের অধিনায়ক সুনীল ছেত্রী। কিন্তু এই গোল ধরে রাখতে পারেনি ভারত। দু'মিনিটের মধ্যেই আফগানিস্তান সমতা ফিরিয়ে আনে প্রতি আক্রমণ থেকে পাওয়া কর্নার থেকে হেড করে। দ্বিতীয়ার্ধে সংযুক্তি সময়ে যখন গোটা স্টেডিয়াম স্তব্ধ ভারত ওই গোল হজম করার পর তখন যুব ভারতীর গর্জন বের করেন সাহাল আব্দুল সামাদ। তাঁর বাঁধিয়ে রাখার গোলে ৯২ মিনিটে ম্যাচে দ্বিতীয় বারের জন্য এগিয়ে যায় ভারত। এই ম্যাচে জয়ের ফলে পরবর্তী ম্যাচে হংকং'কে হারালেই ভারত পৌঁছে যাবে এএফসি এশিয়ান কাপের মূল পর্বে। তবে, সেই ম্যাচে যদি ভারত ড্র করে বা হেরে যায় তা হলে সরাসরি এএফসি এশিয়ান কাপে পৌঁছে যাবে হংকং। ড্র করলে গোল পার্থক্যে এগিয়ে যাবে তারা। তবে, ভারত দ্বিতীয় স্থানে থাকলেও পরবর্তী রাউন্ডে যেতে পারবে। সেক্ষেত্রে সেরা পাঁচটি দ্বিতীয় স্থানে থাকা দলের মধ্যে জায়গা করে নিতে হবে ভারতকে।
এ দিন ম্যাচের পরে দুই দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি তৈরি হয়। হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়েন ভারত এবং আফগানিস্তান উভয় দলের ফুটবলাররা। দুই শিবিরের বাকিরা গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। ফ্রি কিক থেকে বিশ্বমানের গোল করা সুনীল ছেত্রী ম্যাচের সেরা নির্বাচিত হয়েছেন।












Click it and Unblock the Notifications