বৃহস্পতিবার শুরু ৩২ টি দলের ফুটবল যুদ্ধ, তবে লড়াই শুরু হয়েছে তিন বছর আগেই! কীভাবে জেনে নিন
বৃহস্পতিবার রাশিয়া - সৌদি আরবের খেলা দিয়ে শুরু হচ্ছে ২০১৮ সালের ফিফা বিশ্বকাপ। তার ঠিক আগে জেনে নিন কিভাবে এই ৩২ টি দল বিশ্বকাপের মূলপর্বের জন্য যোগ্যতা অর্জন করে।
আর মাত্র কয়েক ঘন্টার অপেক্ষা। তারপরই রাশিয়ার মাটিতে শুরু হয়ে যাবে ফিফা বিশ্বকাপ। মস্কোর লুঝনিকি স্টেডিয়ামে আয়োজক দেশ রাশিয়ার মুখোমুখি হবে সৌদি আরব। তারপর আগামী একমাস ধরে চলবে ৩২ টি দলের জমজমাট ফুটবল যুদ্ধ।
তবে বিশ্বকাপ জেতার লড়াইটা আজ নয়, শুরু হয়েছে প্রায় তিন বছর আগে থেকে। মূল পর্বে খেলার আগে পেরোতে হয়েছে যোগ্যতা অর্জনের বাধা। ফিফার বিভিন্ন কনফেডারেশন থেকে কঠিন লড়াইয়ের পর পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষের দলগুলি সুযোগ পায় মূল পর্বে। লটারির মাধ্যমে তাদের আটটি গ্রুপে ভাগ করা হয়।

যেভাবে শুরু হয় বাছাই পর্ব
ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ামক সংস্থা ফিফার আওতায় ছয়টি মহাদেশীয় কনফেডারেশন রয়েছে - এশিয়া (এএফসি), আফ্রিকা (সিএএফ), উত্তর ও মধ্য আমেরিকা এবং ক্যারিবিয়ান (কনকাকাফ), ওশেনিয়া (ওএফসি), দক্ষিণ আমেরিকা (কনমেবোল), এবং ইউরোপ (ইউইএফএ বা উয়েফা)। এই ছয়টি রকনফেডারেশনের আওতায় আছে ২১১ টি দেশ। আয়োজক দেশ (এবার রাশিয়া) ছাড়া বাকি ৩১ টি দলকে মূল পর্বে খেলার যোগ্যতা অর্জন করতে হয়। প্রায় প্রত্যেকটি কনফেডারেশনেই 'টায়ার্ড' কাঠামোয় অর্থাৎ ফিফা ক্রমতালিকা অনুযায়ী দলগুলিকে বিভিন্ন টায়ারে ভাগ করে যোগ্যতা অর্জন পর্বের খেলা হয়। ক্রমতালিকায় নিচের দিকে থাকা দেশগুলিকেই প্রথম এই খেলাগুলিতে অংশ নিতে হয়। এই প্রক্রিয়া শুরু হয় বিশ্বকাপের মূল পর্বের প্রায় তিন বছর আগে থেকেই।

বড় দলগুলির পালা
যোগ্যতা অর্জনের খেলায় বড় দলগুলি কবে নামবে তা নির্ভর করে সংশ্লিষ্ট কনফেডারেশনের যোগ্যতা অর্জন পর্বের কাঠামো অনুযায়ী। যেমন দক্ষিণ আমেরিকা বা লাতিন আমেরিকায় কিন্তু টায়ার্ড কাঠামোয় খেলা হয় না। ফলে ব্রাজিল-আর্জেন্টিনার মতো বড় দলগুলি-সহ কনমেবোল-এর ১০ সদস্য দেশই, বাকি দেশগুলির সঙ্গে একটি করে হোম ও একটি করে অ্যাওয়ে ম্য়াচ খেলে। সব খেলা হওয়ার পর পয়েন্ট টেবিলে শীর্ষে থাকা চারটি দেশ সরাসরি বিশ্বকাপের মূলপর্বে খেলার সুযোগ পায়। আবার এশিয়ার ৪৭টি দেশকে তিনটি টায়ারে ভাগ করা হয়েছে। প্রথমেই কোনও শক্তিশালী দলের সামনে পড়ে তুলনায় দুর্বল দেশগুলি যাতে প্রতিযোগিতার বাইরে চলে না যায়, তার জন্যই এই ব্যবস্থা করা হয়েছে।

কোন কনফেডারেশন থেকে কটি দল
মোট ৩২টি দেশ বিশ্বকাপের মূলপর্বে খেলার সুযোগ পায়। কিন্তু সব কনফেডারেশন থেকে সমান সংখ্যক দল বিশ্বকাপ খেলতে পারে না। বিশ্বের কোন অংশে কতগুলি শক্তিশালী ফুটবল খেলিয়ে দেশ আছে, তারএপর নির্ভর করে একেকটি কনফেডারেশন থেকে একেক সংখ্যক দেশকে যোগ্যতা অর্জনের সুযোগ দেওয়া হয়। ইউরোপ থেকে মূল পর্বে খেলে ১৪ টি দেশ, এশিয়া, আফ্রিকা, ও লাতিন আমেরিকা থেকে যোগ হয় পাঁচটি করে দেশ। আর কনকাকাফ অঞ্চল থেকে বিশ্বকাপ খেলার সুযোগ দেওয়া হয় তিনটি দেশকে।

যেভাবে হয় গ্রুপ ভাগ
ফিফা ক্রমতালিকা অনুযায়ী পরপর চারটি পাত্রে আটটি করে দেশের নাম চিরকুটে লিখে ফেলা হয়। এরপর চারটি পাত্র থেকে লটারি পদ্ধতিতে একটি করে নাম তুলে সাজানো হয় এক একটি গ্রুপ। এভাবে মোট আটটি গ্রুপ তৈরি হয়। অর্থাত প্রতি গ্রুপে প্রত্য়েক পাত্র থেকে একটি করে দেশের নাম থাকে। তবে তার মধ্যেও একই এলাকার দুটি দল যাতে এক গ্রুপে না পড়ে সেদিকে খেয়াল রাখা হয়। লটারিতে সেরকম পরিস্থিতি হলে, ওই নামটি পাত্রে ফেলে দিয়ে নতুন নাম তোলা হয়। য়েরকম একই গ্রুপে এশিয়ার দুটি দল কখনই থাকবে না। কিন্তু ইউরোপের মোট ১৪ টি দল থাকায় এই পদ্ধতি তাদের ক্ষেত্রে খাটে না। তাই প্রত্যেক গরুপে ইউরোপের সর্বোচ্চ দুটি দল থাকতে পারে।

ভারতের কী অবস্থা
২০১৫-য় রাশিয়া বিশ্বকাপের যোগ্যতা অর্জন অভিযান শুরু করেছিল ভারত। প্রথম টায়ারে ঘরে-বাইরে মিলিয়ে নেপালকে ২-০'য় হারিয়ে পরের পর্বেও পৌঁছায়। সেখানে ভারতের গ্রুপে ছিল ইরান, ওমান, তুর্কমেনিস্তান ও গুয়াম। আটটি খেলার মধ্যে সাতটিতেই পরাজয় হয় ভারতের। পয়েন্ট তালিকায় সবার নিচে শেষ করে ভারতের ২০১৮ সালের বিশ্বকাপ খেলার স্বপ্নভঙ্গ হয়। তবে ইদানিং কালে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় ভারতের ভাল ফল ফুটবলপ্রেমীদের আশা জোগাচ্ছে।












Click it and Unblock the Notifications