বেলজিয়াম-ফ্রান্স দ্বৈরথের মধ্যেও প্রথম সেমিফাইনালে লক্ষণীয় হবে একাধিক ব্যক্তিগত লড়াই
রাশিয়া বিশ্বকাপের প্রথম সেমিফাইনালে আজ মুখোমুখি ফ্রান্স এবং বেলজিয়াম। ফ্রান্স এবং বেলজিয়ামের মধ্যে সেমিফাইনাল হলেও এই ম্যাচে অনেকগুলি ব্যক্তিগত লড়াইও থাকবে।
রাশিয়া বিশ্বকাপের প্রথম সেমিফাইনালে আজ মুখোমুখি ফ্রান্স এবং বেলজিয়াম। চলতি বিশ্বকাপের অন্যতম ধারাবাহিক দল এই দু'টি। খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে যদি বিচার করা যায় তাহলে দেখা যাবে পারফরম্যান্স এবং ক্ষমতার বিচারে একই বিন্দুতে দাঁড়িয়ে এই দুই দল। ফলে সেমিফাইনালে দুই দলের লড়াই যে সমানে সমানে হবে, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না।
ফ্রান্স এবং বেলজিয়ামের মধ্যে সেমিফাইনাল হলেও এই ম্যাচে অনেকগুলি ব্যক্তিগত লড়াইও থাকবে। এক ঝলকে দেখি নিন নিজেদের মধ্যে শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করার লড়াই থাকবে কোন কোন তারকাদের।

কেভিন দে ব্রুইন বনাম এনগোলো কন্তে
বিশ্ব ফুটবলেরর অন্যতম সেরা দুই মিডফিল্ডারের লড়াই হতে চলেছে এই ম্যাচে। ব্রাজিলের বিরুদ্ধে কেভিনকে ফলস নাইন হিসেবে ব্যবহার করে চমক দিয়েছিলেন বেলজিয়ামের কোচ রবার্তো মার্টিনেজ। কেভিনের ডিফেন্স চেরা পাস এবং দৌড়েই শেষ হয়ে গিয়েছিল ব্রাজিল।
তবে, ফ্রান্সের বিরুদ্ধে লড়াইটা এতটাও সহজ হবে কেভিনের জন্য। কারণ তাঁকে টক্কর দিতে হবে ফ্রান্সের অন্যতম সেরা মিডফিল্ডার এনগোলো কন্তের সঙ্গে। ২৭ বছর বয়সী এই তারকা সফলভাবে আটকে দিয়েছিলেন লিওনেল মেসিকে। এই ম্যাচেও বেলজিয়ামের মাঝমাঠকে ভোঁতা করার জন্য কন্তের উপরই নির্ভর করতে হবে দেশঁকে।

রোমেলু লুকাকু বনাম রাফায়েল ভারান
এই বিশ্বকাপে অন্যতম কঠিন ডিফেন্স ফ্রান্সের। রাফায়েল ভারানের নেতৃত্বে অধিকাংশ ম্যাচে প্রতিপক্ষের সামনে প্রাচীরের মতো দাঁড়িয়ে থেকেছে ফ্রান্সের ডিফেন্স। শুধু প্রতিপক্ষের আক্রমণভাগের ফুটবলারদের শান্ত রাখাই নয়, আক্রমণে উঠে গোল করার বিষয়েও সাবলীল তিনি।
যদিও বেলজিয়ামের বিরুদ্ধে ভারানকে মুখোমুখি হতে হবে রোমেলু লুকাকুর। এখও পর্যন্ত চারটি গোল করেছেন লুকাকু। গোল্ডেন বুটের লড়াইয়েও রয়েছেন তিনি। ব্রাজিলের বিরুদ্ধে দে ব্রুইনের গোলের নেপথ্যেও ভূমিকা ছিল লুকাকুর-ই। ফলে এই ম্যাচে লুকাকুকে থামাতে কঠিন পরীক্ষা দিতে হবে রাফায়েল ভারানের ডিফেন্সকে।

ভিনসেন্ট কোম্পানি বনাম কিলিয়ান এমবাপে
দুরন্ত ফর্মে থাকা কিলিয়ান এমবাপেকে বিপজ্জ্বনক না হতে দেওয়ার দায়িত্ব এই ম্যাচে থাকবে কোম্পানির উপর। এবারের বিশ্বকাপের সেরা আবিস্কার বলে মনে করা হচ্ছে এমবাপেকে। শক্তিশালী ডিফেন্ডার হলেও মাথা কাজে লাগিয়ে ফুটবলটা খেলেন কোম্পানি। শরীরী শক্তির প্রদর্শন করে নয়, ক্লিন ট্যাকেল করেন তিনি। যদিও এমবাপের বিরুদ্ধে লড়াই কঠিন হতে চলেছে।

মারুয়ান ফেলাইনি বনাম অ্যান্তোনিও গ্রিজম্যান
জাপানের বিরুদ্ধে পরিবর্ত ফুটবলার হিসেবে নামলেও ব্রাজিলের বিরুদ্ধে শুরু থেকে ফেলাইনিকে ব্যবহার করেছিলেন মার্তিনেজ। ফেলাইনি এবং অ্যাক্সেল উইটসেলকে মিডফিল্ডে খেলিয়ে ব্রাজিলের নেইমার-কুটিনহো জুটিকে বোতলবন্দি করে ফেলেন মার্টিনেজ। এছাড়া ফেলাইনির বড় সম্পদ তাঁর উচ্চতা। প্রথম সেমিফাইনাল ম্যাচে গ্রিজম্যানকে থামানোর জন্য ফেলাইনির উপরই দায়িত্ব থাকবে অনেকটাই। এমনিতে ডিফেন্স এবং মাঝমাঠে কিছুটা ফাঁকা জায়গা তৈরি হলেই তার ব্যবহার দারুণভাবে করতে পারেন গ্রিজম্যান। যাতে এই সুযোগ গ্রিজম্যান না পায়, সেই জন্য মাঝমাঠেই বাড়তি ভূমিকা নিতে হবে ফেলাইনিকে।

এডেন হ্যাজার্ড বনাম বেঞ্জামিন পাভার্ড
ব্রাজিলের বিরুদ্ধে আসাধারণ ফুটবলের নমুনা রাখেন এডেন হ্যাজার্ড। মূলত তাঁর কারণেই ব্রাজিলের রাইট ব্যাক পাগেনার ক্ষণিকের জন্যও স্বস্তিতে থাকতে পারেননি গোটা ম্যাচে। ব্রাজিলের বিরুদ্ধে পাগেনারের সব থেকে বড় ভুল ছিল হ্যাজার্ডকে খেলার জন্য ফাঁকা জমি দেওয়া।
তবে এই ম্যাচে এডেনকে থামাকে দেশঁয়ের বড় সম্পদ হতে পারেন বেঞ্জামিন পাভার্ড। তরুণ এই ডিফেন্ডারের ট্যাকেলিং এবং পজিশানিং ক্ষমতা এতটাই ভাল যে তাঁর ভুল খুব কম ক্ষেত্রেই হয়। এই ম্যাচেও এডেনের কার্যকারীতা রুখে দিতে পাভার্ডের উপর ভরসা থাকবে ফ্রান্সের।












Click it and Unblock the Notifications