আইএসএলে সেরা গোলকিপার হয়ে সন্তুষ্ট নন, এটিকে মোহনবাগানকে চ্যাম্পিয়ন করানোর শপথ বিশালের
আইএসএলে সেরা গোলকিপার হয়েছেন বিশাল কাইথ। তবে তিনি এই পুরস্কারের চেয়েও বেশি করে চাইছেন এটিকে মোহনবাগানকে চ্যাম্পিয়ন করাতে।
আইএসএলের দ্বিতীয় সেমিফাইনালের দ্বিতীয় লেগে সোমবার বিবেকানন্দ যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে হায়দরাবাদ এফসির মুখোমুখি হবে এটিকে মোহনবাগান। হায়দরাবাদে গিয়ে প্রথম লেগ গোলশূন্য ড্র করে ফিরেছে হুয়ান ফেরান্দোর দল। ঘরের মাঠে জয় ছাড়া কিছুই ভাবছে না সবুজ মেরুন শিবির।

গোল্ডেন গ্লাভে সন্তুষ্ট নন বিশাল
হায়দরাবাদে হাল্কা অনুশীলন করে গতকাল সন্ধ্যায় শহরে ফেরে সবুজ মেরুন। আজ ও কাল অনুশীলন করে সোমবার মরণ-বাঁচন লড়াইয়ে নামতে হবে। বাগান ফুটবলারদের বডি ল্যাঙ্গুয়েজে আত্মবিশ্বাসের ছাপ ধরা পড়ছে। এবারের আইএসএলে সেরা গোলকিপারের পুরস্কার নিশ্চিত করে ফেলেছেন এটিকে মোহনবাগানের গোলকিপার বিশাল কাইথ। তবে তাতে তিনি সন্তুষ্ট নন। এটিকে মোহনবাগানকে এবার আইএসএলে চ্যাম্পিয়ন করানোর বিষয়ে প্রত্যয়ী তিনি। সোনালি আর্মব্যান্ড পরেই হায়দরাবাদ ম্য়াচ খেলেছেন বিশাল। এবারের আইএসএলে ১১টি ম্য়াচে তিনি ক্লিটশিট বজায় রেখেছেন, অর্থাৎ কোনও গোল হজম করেননি।
এটিকে মোহনবাগানকে চ্যাম্পিয়ন করানোই লক্ষ্য
এটিকে এমবি মিডিয়া টিমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বিশাল বলেন, গোল্ডেন গ্লাভ পেয়ে ভালো লাগছে। সকলেরই স্বপ্ন থাকে এটা পাওয়ার। বিশ্বকাপ হোক বা আইএসএল কিংবা অন্য প্রতিযোগিতায় অনেককে গোল্ডেন গ্লাভ পেতে দেখেছি। জীবনে প্রথমবার এই সম্মান পেলাম, যা আরও ভালো খেলতে উদ্বুদ্ধ করবে। সেমিফাইনাল ও ফাইনালেও অপরাজেয় থাকতে চাই। কেন না, ট্রফি না পেলে গোল্ডেন গ্লাভের কোনও দাম থাকবে না। চ্যাম্পিয়ন হওয়ার লক্ষ্য নিয়েই নামব।
উন্নততর পারফরম্যান্সে প্রত্যয়ী
কাইথের দাবি, তিনি এখনও নিজের খেলায় সন্তুষ্ট নন। তিনি বলেন, অনেক গোল সেভ করেছি বলে হইচই হচ্ছে। কিন্তু গোলকিপারের কাজই হলো দুর্গ অক্ষত রাখা, আমি সেটাই করেছি। অনেকে সেরা সেভ কোনটি সেটা জানতে চাইছেন। বৃহস্পতিবার হায়দরাবাদের বিরুদ্ধে জোয়েল চিয়ানিজের যে হেডটা ডানদিকে ঝাঁপিয়ে পড়ে বাঁচিয়েছি সেটাই সেরা। আমাকে বেশ কঠিন পরিস্থিতিতে ফেলে দিয়েছিলেন হায়দরাবাদের ওই ফুটবলার। যুবভারতীতে প্লে-অফে ওডিশা এফসি ম্যাচে চোট পেয়ে মাঠ ছেড়েছিলেন। কিছুক্ষণ মাঠে পড়ে ছিলেন। অ্যাম্বুল্যান্স ঢুকেছিল। তবে উঠে দাঁড়িয়ে খেলতে চেয়েছিলেন। কিন্তু কনকাসনের আশঙ্কায় ঝুঁকি নেয়নি এটিকে মোহনবাগান।
সমর্থকদের ভালোবাসায় আপ্লুত
হিমাচল প্রদেশ থেকে উঠে আসা কাইথ বলেন, মাথায় ও কাঁধে চোট লেগেছিল। জীবনে ওরকম চোট পাইনি। পরে শুনেছি মাঠে মিনিট দুয়েক অজ্ঞান হয়ে গিয়েছিলাম। সকলে যেভাবে সাহায্যের জন্য ছুটে আসেন তাতে আপ্লুত। উঠে দাঁড়ানোর পর সমর্থকরা হাততালি দিয়ে ও স্লোগান দিয়ে আমাকে উদ্বুদ্ধ করেছিলেন, এটা কোনওদিন ভুলব না। কিছু পরীক্ষার জন্য হাসপাতালে কাটাতে হয়েছিল কিছুক্ষণ। হোটেলে ফিরে দেখি, বহু মানুষ সুস্থতা কামনা করে বার্তা দেন। এই সমর্থন ও সম্মান গোল্ডেন গ্লাভের চেয়েও বড় পাওনা। সমর্থকদের হাতে ট্রফি তুলে দিতে পারলে সবথেকে তৃপ্ত হব। সকলকে সোমবার মাঠ ভরানোর আবেদনও জানিয়েছেন কাইথ।
(ছবি- বিশাল কাইথের ফেসবুক)












Click it and Unblock the Notifications