এই কারণগুলিতে আসন্ন বিশ্বকাপে ভরসা রাখা যায় ইংল্যান্ডের উপর
বিশ্বকাপের আসরে ইংল্যান্ড বেশি সাফল্য না পেলেও, এই বারের বিশ্বকাপে ভরসা রাখা যায় ইংল্যান্ডের উপর। কারণ এক ঝাঁক তরুণ ফুটবলারকে নিয়ে তৈরি এই বারের দল।
২০১৮ ফিফা ওর্য়াল্ড কাপের অপেক্ষায় প্রহর গুণছে গোটা বিশ্ব। বিভিন্ন দেশের সমর্থকেরা তৈরি বিশ্বকাপে নিজেদের দলের হয়ে গলা ফাটাতে, রাত জেগে খেলা দেখতে। মূলত এই বিশ্বকাপের মূল আকর্ষণ হতে চলেছে ব্রাজিল, জার্মানি, স্পেন, আর্জেন্টিনা এবং ফ্রান্স। এই পাঁচ দেশের সমর্থক সংখ্যায় অনেকটাই বেশি অন্যান্য দেশের তুলনায়। তবে, এই বিশ্বকাপে বড় নাম হওয়া স্বত্ত্বেও যে দেশকে ঘিরে বিশেষ উন্মাদন চোখে পড়ছে না সমর্থকদের মধ্যে, সেই দেশের নাম ইংল্যান্ড।

প্রতি বছর ভাল দল গড়েও বিশ্বকাপে মঞ্চে মুখ থুবড়ে পড়ে ব্রিটিশ দলটি। কিন্তু বহুবার ইংলিশ সমর্থকদের হতাশ হতে হলেও, এই বারের বিশ্বকাপে কিন্তু ইংল্যান্ডের উপর ভরসা রাখতে পারেন সমর্থকেরা। এই বিশ্বকাপে অন্যদের থেকে কিছুটা এগিয়ে ইংল্যান্ড।
প্রথম, এই বার যে ইংল্যান্ড দল রাশিয়ায় খেলবে তাদের মধ্যে অধিকাংশ প্লেয়ারেরই বিশ্বকাপ অভিষেক এই প্রথম হবে। ২০১৪ বিশ্বকাপের দল থেকে মাত্র পাঁচ জনকে এই বারের দলে রেখেছেন গ্যারেথ সাউথগেট। ফলে তরু্ণ ফুটবলারদের নিয়ে তৈরি ইংল্যান্ড দল কিছু করে দেখানোর জন্য মরিয়া চেষ্টা করবে, তা নিশ্চিত। এছাড়া ব্রিচিশ ফুটবলারদের উপর চাপটাও অনেক কম থাকবে। কারণ তরুণ দল বলে সমর্থকদের প্রত্যাশার চাপ নেই ইংল্যান্ডকে ঘিরে। আর এই পরস্থিতিতেই মাথা ঠান্ডা রেখে ভাল পারফর্ম করার পক্ষে যথেষ্ট কেন-আলিদের।
দ্বিতীয়, ইংল্যান্ডের কোচ গ্যারেথ সাউথগেট বিশ্বাসী তরুণ্য, প্রতিভা এবং গতির উপর। এই বিশ্বকাপে তিনি যে দল বেছেছেন তাতে একাধিক প্লেয়ার রয়েছেন যাঁদের জাতীয় দলের জার্সিতে বেশি ম্যাচ খেলার অভিজ্ঞতা নেই। কিন্তু ক্লাব ফুটবলে পারফরম্যান্স এবং গতি নির্ভর ফুটবলের উপর ভিত্তি করেই তিনি বিশ্বকাপের জন্য দল বেছেছেন।
তৃতীয়, এই বারে ইংল্যান্ডের বিশ্বকাপ দলে যে ফুটবলাররা আছেন তাঁদের অধিকাংশই টেকনিক্যালি অনেকটা উন্নত। স্টার্লিং, আলি, ওয়াকারদের থাকার ফলে দলে মাঝমাঠটা অনেকটাই সচল থাকবে। মাঝমাঠই যে কোনও দলের চালিকাশক্তি। এছাড়া আক্রমণ ভাগে রয়েছেন হ্যারি কেনের মতো ফুটবলার। ফলে 'পিকচার পারফেক্ট' দল বলতে যা বোঝায়, সেটাই করার চেষ্টা করেছেন সাউথগেট।
চতুর্থ, যেমনটা বলা হয়েছে যে এই ইংল্যান্ড দলের আন্তর্জাতিক স্তরে অভিজ্ঞতা অনেকটাই কম। কিন্তু বয়স ভিত্তিক ইংল্যান্ড দলে এদের অধিকাংশ ফুটবলারই খেলেছে প্রচুর ম্যাচ। পাশাপাশি জাতীয় দলের জার্সিতে বেশি ম্যাচ না খেললেও ক্লাব ফুটবল খেলেন প্রতিটি ফুটবলারই চুটিয়ে। আর এই কারণেই ইংল্যান্ডের জার্সিতে সিনিয়ার দলে না খেলাটা প্রভাব খেলবে না বিশেষ বিশ্বকাপে এদের খেলায়। ফলে চাপ না নিয়ে খোলা মনেই নিজেদের সেরটা উজাড় করে দিতে পারবে এই দল।
পঞ্চম, এই দলের অধিকাংশস প্লেয়াই খেলে প্রিমিয়ার লিগের একাধিক বড় ক্লাবে। ফলে বড় ক্লাবে খেলার একটা দৃঢ় মানষিকতা আছেই প্লেয়ারগুলির মধ্যে। পাশাপাশি বড় দলের ডিএনএ ম্যাচ না হারার মানষিকতা। এটাও এই ফুটবলারদের মধ্যে বর্তমান। ফলে শেষ মিনিট পর্যন্ত তরুণ এই ইংল্যান্ড দল যে লড়াই চালাবে তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না।












Click it and Unblock the Notifications