আই লিগকে বিদায় জানিয়ে পাকাপাকি আইএসএলের পথে মেহতাব, আবেগঘন আলাপচারিতায় ওয়ান ইন্ডিয়া বাংলার মুখোমুখি
লাল হলুদের ঘরের ছেলে কিন্তু আর ঘরে থাকছেন না। আই লিগকে পিছনে ফেলে মেহতাব হোসেনের ফোকাসে এখন শুধুই আইএসএল।
মেহতাব হোসেন, কলকাতা ময়দানে ইস্টবেঙ্গলের মিড ফিল্ড জেনারেল নামেই যিনি বেশি পরিচিত। লালহলুদ জার্সি গায়ে আর মাঠে নামবেন না খবরটা অনেক দিনই জানা। কিন্তু তাও লালহলুদ ফ্যানদের এখনও যেন বিশ্বাস করতে পারছেন না। কিন্তু চাইলেই তো হয় না মেহতাব এখন নতুনভাবে নিজের কেরিয়ার নিয়ে ভাবছেন। নিজেকে নতুন করে সাজিয়ে নিতে চাইছেন অভিজ্ঞ এই ফুটবলার। ওয়ান ইন্ডিয়া বাংলাকে একান্ত সাক্ষাৎকারে নিজের পুরোন ও সামনের দিন নিয়ে খোলামেলা মিডফিল্ড জেনারেল।

ওয়ান ইন্ডিয়া বাংলা- মেহতাব নেই ইস্টবেঙ্গলে এটা কি, 'নিজে কথা দিয়েছিলাম, কথা রাখলাম'- গোছের বিষয়টিকেই প্রমাণ করলেন?
মেহতাব- ২০১৬-১৭ মরশুম শুরুর আগেই স্থির করে নিয়েছিলাম এবার ইস্টবেঙ্গলের জার্সি গায়ে আই লিগ খেতাব না জিতলে আর আই লিগে খেলব না। সকলকে জানিয়েও দিয়েছিলাম। তাই কথা রাখলাম। ইস্টবেঙ্গলের জার্সি গায়ে অনেক কিছু পেয়েছি। ২০০৭ থেকে ২০১৭ দশ বছর খেলেছি। এরপরেও আই লিগ পেলাম না। হতাশা তো একটা কাজ করবেই।
ওয়ান ইন্ডিয়া বাংলা- এবার ভাবনায় কী রয়েছে?
মেহতাব- ফুটবল থেকে সবকিছু পেয়েছি। তাই ফুটবলকেই সব দিয়ে যাব। যেখান থেকে শুরু করেছিলাম, সেখান দিয়েই এগিয়ে যাব। আসলে কোনও কিছু তো কোথাও থেকে নিয়ে যাওয়া যায় না। প্রতিদিনই শূন্য থেকেই শুরু করতে হয়। আরও একবার করব।

ওয়ান ইন্ডিয়া বাংলা- ইস্টবেঙ্গল ক্লাব নিয়ে কী বলতে চাইবেন?
মেহতাব- ইস্টবেঙ্গল ক্লাব আমার কাছে দ্বিতীয় পরিবার। আমি যা সিদ্ধান্তই নিই না কেন ক্লাব আমার পাশে রয়েছে। ক্লাবের কর্মকর্তারা সকলেই পাশে ছিলেন এবং এখনও আছেন। এই ক্লাব থেকে আমি অনেক সম্মান পেয়েছি। শুধু কর্মকর্তারাই নন, লালহলুদ সদস্য-সমর্থকদের থেকেও যে ভালবাসা পেয়েছি তা সবসময় মনে ভরে থাকবে। তবে পারফরমেন্স না থাকলে কথা শুনতেই হয়। হাতের পাঁচটা আঙুলই সমান হয় না তো পাঁচ জন মানুষ কী করে একরকম হবে। তবে কোনও গ্লানি নেই। এমনকী লালহলুদে যে সব জুনিয়র ছেলেরা এসেছে তাঁরাও সম্মান দিয়েছে।ভালাবাসার মাপটা এতটাই বেশি যে নেতিবাচক ব্যবহারগুলো সেরকম বড় আকার ধারণ করার সুযোগই পায় না।

ওয়ান ইন্ডিয়া বাংলা- লাল-হলুদের জার্সি গায়ে কোন কোচ সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত করেছিলেন?
মেহতাব- একজন ফুটবল প্লেয়ারকে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন পজিশনে খেলতে হয়। আমিও খেলেছি। কখনও উইং প্লেয়ার হিসেবে,কখনও অ্যাটাকিং হাফে কখনও আবার ডিফেন্সিভ হাফে। তবে ফিলিপ ডি রাইডার যখন দায়িত্ব নিয়েছিলেন তখন থেকে মেহতাব হোসেন আজকের মেহতাব হয়ে উঠেছে। ইস্টবেঙ্গলের জার্সি গায়ে আমাকে এই জায়গাটা এনে দেওয়ার জন্য তাঁর কৃতিত্ব কখনই অস্বীকার করতে পারব না।

ওয়ান ইন্ডিয়া বাংলা- কেরালা ব্লাস্টার্সেই কী থাকছেন?
মেহতাব- আইএসএলে কেরালা ব্লাস্টার্সের জার্সি গায়ে খেলেছি। ওঁরা যদি রিটেন করে তাহলে ওঁদের জার্সি গায়েই খেলব। আর যদি ড্রাফটিংয়ে ছেড়ে দেয় তাহলে যে ফ্রাঞ্চাইজি কিনবে তাদের হয়েই খেলব। আমার কোনও বাছাবাছি নেই। আইএসএলে খেলব সেটা স্থির করে নিয়েছি, তবে ভবিষ্যতটা এখনও পরিষ্কার নয়।

ওয়ান ইন্ডিয়া বাংলা- ট্রেভর মর্গ্যানের ছেলে -এই মন্তব্যের কী ভিত্তি রয়েছে?
মেহতাব- ট্রেভর মর্গ্যান -মেহতাব হোসেন জুটি বলব না। আমি খেলেছি, তাই কোচ খেলিয়েছন। যদি পারফর্ম না করতাম তাহলে নিশ্চয় এত সুযোগ কেউই কাউকে দেয় না। আমি পেশাদার ফুটবলার হিসেবে পারফর্ম করেছি। আর মর্গ্যান পেশাদার কোচ হিসেবে আমাকে ব্যবহার করেছেন। সম্পর্ক এটুকুই।

ওয়ান ইন্ডিয়া বাংলা- বিভিন্ন কোচের সঙ্গে মানিয়ে নিতে কোনও অসুবিধা হয়?
মেহতাব- না অসুবিধা হলে তো হবে না। পেশাদার ফুটবলার যখন হয়েছি তখন বিভিন্ন পরিস্থিতির সঙ্গে যত দ্রুত মানিয়ে নেব তত সুবিধাজনক। বিভিন্ন কোচের ট্রেনিং পদ্ধতি আলাদা। গেম প্ল্যানিংও আলাদা। সেইরকমভাবে নিজেদের মানিয়ে নিতে হয়।
ওয়ান ইন্ডিয়া- মেহতাবের জীবনে মেহতাবের স্ত্রী-র অবদান অনস্বীকার্য ,ময়দানে এটা প্রচলিত কথা, কী বলবেন?
মেহতাব- ১০০ শতাংশ। এটাতে কোনও সন্দেহ নেই।
আমার স্ত্রী আমার জীবনের সঙ্গে জড়িয়ে গিয়েছে। ফুটবলটাও ভীষণ ভাল বোঝে। মানসিক ভাবে অসম্ভব সমর্থন করে। কখনও আমাকে ভেঙে পড়তে দেয় না।

ওয়ান ইন্ডিয়া বাংলা- কলকাতার কোনও ক্লাব কি মেহতাবকে প্রস্তাব দেয় নি?
মেহতাব- আই লিগে খেলব না , কলকাতা লিগেও খেলব না। এটা নিয়ে একশো ভাগ আমি নিশ্চিত। যদি আইএসএলে খেলার সুযোগ না হয় তাহলে খেলা ছেড়ে দেব।
ওয়ান ইন্ডিয়া বাংলা- আর কতদিন খেলার ইচ্ছা রয়েছে?
মেহতাব- আমার হিসেব মত ৩ বছর এখনও পেশাদার ফুটবলটা খেলব। ফিটেনসটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তবে হ্যাঁ কলকাতা ময়দানে একটা প্রচলিত কথা ছিল বিয়ে করলে প্লেয়ার শেষ। এখন আবার সেটা বদলে গেছে। একটু বেশিদিন খেলেলেই তকমা লেগে যায় প্লেয়ারটা শেষ। তবে সেটা মাথায় রাখছি না। প্লেয়ার হিসেবে যতদিন নিজের সেরাটা দিতে পারব ততদিনই খেলব। তারপর এক বছর টানা বিশ্রাম নেব। ফের ভাবনাচিন্তা করব ফুটবলের কোচিংয়ে ঠিক করব।
ওয়ান ইন্ডিয়া বাংলা- রাজনীতিতে আসার ইচ্ছা আছে?
মেহতাব- না না একদমই না। আমাকে হয়ত রাজনৈতিক দলের সোশ্যাল ওয়েলফেয়ার অনুষ্ঠানের মঞ্চে দেখতে পারেন। কিন্তু ব্যস ওই টুকুই। রাজনীতির কোনও পতাকার তলায় এসে নির্বাচনে লড়ার কোনও ভাবনা আমার নেই।
-
আরও একটি সাপ্লিমেন্টারি ভোটার তালিকা প্রকাশ করল নির্বাচন কমিশন, আর কত নাম নিষ্পত্তি হওয়া বাকি? -
বাংলায় ভোট পরবর্তী হিংসা রুখতে অনির্দিষ্টকালের জন্য থাকবে কেন্দ্রীয় বাহিনী -
ভোটের আগেই কমিশনের কড়া নির্দেশ! অনুমতি ছাড়া জমায়েত নয়, নিয়ম ভাঙলেই গ্রেফতার, রাজ্যজুড়ে জারি কঠোর নির্দেশ -
দাগি নেতাদের নিরাপত্তা কাটছাঁট কতটা মানল পুলিশ? স্টেটাস রিপোর্ট চাইল নির্বাচন কমিশন -
যুদ্ধ পরিস্থিতির মাঝেই বড় রদবদল! মার্কিন সেনা প্রধানকে সরাল ট্রাম্প প্রশাসন, কারণ কী, জল্পনা তুঙ্গে -
আরও একটি মার্কিন F-35 যুদ্ধবিমান ধ্বংসের দাবি ইরানের, কী বলছে আমেরিকা? -
এপ্রিলে শক্তিশালী ত্রিগ্রহী যোগ, শনি-সূর্য-মঙ্গলের বিরল মিলনে কাদের থাকতে হবে সতর্ক? -
এপ্রিলেই বাড়ছে গরমের দাপট! আগামী সপ্তাহেই ৪-৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা বাড়ার আশঙ্কা, কী জানাচ্ছে হাওয়া অফিস -
পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধের প্রভাব! শিল্পে ধাক্কা, একলাফে বাড়ল ডিজেলের দাম, কত হল? জানুন -
পুর-নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় ভোটের আগে তৃণমূলের দুই হেভিওয়েট নেতাকে ইডির তলব -
পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধ! MRI Scan-এর খরচ আকাশছোঁয়া হতে পারে, বিপাকে পড়তে পারেন রোগীরা -
অমিত শাহের রাজ্যে থাকার ঘোষণায় তীব্র কটাক্ষ মমতার, বললেন, যত বেশি থাকবে, তত ভোট কমবে












Click it and Unblock the Notifications