কাতারে ফিফা বিশ্বকাপে কীভাবে থাকছে ইতালি? ট্রফির মূল্য ও তৈরির ইতিহাস জানেন?
কাতারে ফুটবল বিশ্বকাপ শুরু ২০ নভেম্বর থেকে। একে একে পৌঁছাতে শুরু করেছে অংশগ্রহণকারী বিভিন্ন দেশ। ইতিমধ্যেই বিশ্বকাপের কাঙ্ক্ষিত ট্রফিটিও পৌঁছে গিয়েছে। ৫১ দিনের বিশ্বব্যাপী পরিক্রমায় ৩২টি দেশে ঘোরার পর। তবে এবারের বিশ্বকাপে পরিস্থিতি অন্যরকম। বিশ্বকাপের ট্রফিটি এবার যায়নি ইতালিতে।
|
ট্রফির জন্ম ইতালিতে, বিশ্বকাপে নেই সেই দেশ
ফিফা বিশ্বকাপে এবার যোগ্যতা অর্জন করতে পারেনি ইতালি। যে ৩২টি দেশ বিশ্বকাপ খেলবে সেই সমস্ত দেশেই হয়েছে ফিফা বিশ্বকাপের ওয়ার্ল্ড ট্যুর। ইতালি এবার বিশ্বকাপে না থাকলেও ইতালির একটি পরিবার প্রথা মেনেই হাজির থাকবে বিশ্বকাপের আসরে। যে পরিবার তৈরি করেছিল এই ট্রফিটি, তার সদস্যরা বিগত ৫০ বছরেরও বেশি সময় ধরে বিশ্বকাপের আসরে উপস্থিত থাকেন। এবারও তার ব্যতিক্রম হবে না। তবে থাকবে না ইতালির জাতীয় ফুটবল দল। সে কারণেই এবার অনুভূতিটাও ব্যতিক্রমী।

কাতারে বিশ্বকাপ
ইতিমধ্যেই যে স্টেডিয়ামগুলিতে বিশ্বকাপের ম্য়াচগুলি হবে তার বাইরে বসানো হয়েছে বিশ্বকাপের বিশাল বিশাল রেপ্লিকা। তবে যে ট্রফিটি নেওয়ার জন্য সব দেশ ঝাঁপিয়ে পড়তে চলেছে সেটির জন্ম কিন্তু ইতালির মিলানে। ১৯৭১ সালে মিলানের শিল্পী সিলভিও গাজানিগা বিশ্বকাপের ট্রফিটি তৈরি করেছিলেন। তার আগে ব্রাজিল তিনবার বিশ্বকাপ জেতার ফলে ট্রফিটি নিজেদের দেশে রাখার অনুমতি পেয়েছিল। বিশ্বকাপের সেই ট্রফিটির নাম ছিল জুলে রিমে ট্রফি। ফিফার তৃতীয় প্রেসিডেন্ট, যিনি বিশ্বকাপ আয়োজনের পথিকৃৎ, ট্রফিটি ছিল তাঁর নামাঙ্কিত। সেটি ১৯৩০ সাল থেকে ১৯৭০ অবধি পেয়েছিল বিশ্বচ্যাম্পিয়ন দেশগুলি। ১৯৭৪ সাল থেকে ফিফা বিশ্বকাপ ট্রফিটি দেওয়ার প্রচলন শুরু হয়। এখনও অবধি সেই ধারাই চলছে।

ট্রফির তথ্য
বর্তমানে ফিফা বিশ্বকাপের ট্রফিটির উচ্চতা ৩৬.৫ সেন্টিমিটার বা ১৪.৪ ইঞ্চি। ওজন প্রায় ৬.১৭৫ কেজি বা ১৩.৬১ পাউন্ড। এই ট্রফিতে দেখা যায় দুজন মানুষ গ্লোবকে উঁচুতে তুলে ধরে দাঁড়িয়ে রয়েছেন। ট্রফিটি তৈরি করা হয়েছে ১৮ ক্যারাট সোনা দিয়ে। ট্রফি তৈরির সময় এর মূল্য ছিল ৫০ হাজার মার্কিন ডলারের কাছাকাছি। এখন এর দর ২০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। ৭টি দেশের ভাস্করদের তৈরি করা ৫৩টি ট্রফির মধ্যে থেকে বেছে নেওয়া হয়েছিল গাজানিগার তৈরি করা ট্রফিটিকেই। ১৯৯৪ সালের বিশ্বকাপের পর ট্রফির নীচের দিকে একটি পাত লাগানো হয়, এতে লেখা থাকে চ্যাম্পিয়ন দলগুলির নাম। ট্রফিটি রাখা থাকে জুরিখে ফিফা বিশ্বকাপ মিউজিয়ামে। ওয়ার্ল্ড ট্যুরের পর সেটি নিয়ে যাওয়া হয় বিশ্বকাপ উদ্বোধন ও ফাইনালের দিন। ২০০৬ বিশ্বকাপ থেকে চালু হয়েছে ট্রফি ট্যুর।

ক্রমান্বয়ে নিয়ম বদল
আগে পরবর্তী বিশ্বকাপের সূচি চূড়ান্ত না হওয়া পর্যন্ত ট্রফিটি রাখতে পারতো বিশ্বজয়ী দেশ। তবে পরবর্তীকালে সেই নিয়ম উঠে যায়। এখন বিশ্বজয়ী দলকে গোল্ড প্লেটেড ব্রোঞ্জ রেপ্লিকা দেওয়া হয়, এটি পুরোপুরি সোনার নয়। ২০১৮ অবধি ১২টি দেশের নাম খোদাই করা রয়েছে ট্রফিতে। ২০১৪ সালে ব্রোঞ্জ রেপ্লিকার নতুন ট্রফিটি প্রথমবার দখল নেয় জার্মানি, সেবার তারা তৃতীয়বারের জন্য বিশ্বকাপ জেতে। যে সংস্থার হয়ে গাজানিগা ট্রফিটি তৈরি করেছিলেন এখনও তাদের হাতেই রয়েছে বিশ্বকাপের স্বত্ত্বাধিকার। এবার কার হাতে ট্রফি উঠবে তা জানতে অপেক্ষা করতে হবে ১৮ ডিসেম্বর পর্যন্ত।












Click it and Unblock the Notifications