Julian Alvarez: আলভারেজে আপ্লুত আর্জেন্তিনা, মেসি-ভক্তের চমকপ্রদ উত্থান সম্পর্কে জানুন বিস্তারিত
আর্জেন্তিনা রবিবার খেলতে নামবে বিশ্বকাপ ফাইনাল। ২০১৪ সালের পর ফের কাপ জয়ের কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছেন লিওনেল মেসি। সেমিফাইনালে ক্রোয়েশিয়ার বিরুদ্ধে মেসি ম্যাজিকের পাশাপাশি আর্জেন্তিনার জয়ে অবদান রেখেছেন জুলিয়ান আলভারেজ। গুরু-শিষ্যের যুগলবন্দিতে আপ্লুত ফুটবলবিশ্ব।
|
মেসির ভক্ত
জুলিয়ান আলভারেজের বয়স এখন ২২। চলতি বিশ্বকাপে তিনি চারটি গোল করে ফেলেছেন। সোনার বুটের দৌড়ে এগিয়ে থাকা ফ্রান্সের কিলিয়ান এমবাপে ও আর্জেন্তিনার অধিনায়ক লিওনেল মেসি তালিকায় এগিয়ে রয়েছেন পাঁচটি গোল করে। গতকাল আলভারেজকে ক্রোট গোলকিপার লিভাকোভিচ বাধা দেওয়ায় পেনাল্টি পেয়েছিল আর্জেন্তিনা। যা থেকে গোল করে বিশ্বকাপে আর্জেন্তিনার হয়ে সবচেয়ে বেশি গোলের রেকর্ড গড়ে ফেলেন এলএম টেন। মাঝমাঠ থেকে দৌড়ে গিয়ে এরপর প্রতিপক্ষের জালে বল জড়ান আলভারেজ। ম্যাচের তৃতীয় তথা আলভারেজের দ্বিতীয় গোলটি আবার মেসির সাজিয়ে দেওয়া। যে মেসির পাশে দাঁড়িয়ে বছর দশেক আগে ছবি তুলেছিলেন আলভারেজ, এবার আর্জেন্তিনাকে ফাইনালে নিয়ে গেলেন আইডল মেসির পাশে থেকেই।

উত্থানের পথ
আলভারেজের জন্ম কালচিন (Calchin)-এ। ছোট্ট এই শহরটি মেসির জন্মস্থান রোসারিও থেকে সাড়ে তিনশো কিলোমিটার দূরে। ছোটবেলা থেকেই ফুটবলের প্রতি টান। তাই আর্জেন্তিনার বড় জার্সি পরেই ফুটবল পায়ে নেমে পড়া। আর্জেন্তিনার ঘরোয়া ফুটবল টুর্নামেন্টে ধাপে ধাপে আলভারেজ উঠে এসেছেন নানা প্রতিবন্ধকতা জয় করেই। ১৬ বছর বয়সে রিভার প্লেটে খেলার সুযোগ পান। রিভার প্লেটের হয়ে নিজের ফুটবলের ক্রমাগত উন্নতি ঘটানোর পাশাপাশি কোপা লিবেরতাদোরেস, কোপা আর্জেন্তিনা, প্রাইমেরা ডিভিশন-সহ বিভিন্ন ট্রফি জেতার অভিজ্ঞতা লাভ করেছেন। ২০২১ সালে প্রিমেরা ডিভিশনে ৩৫ ম্যাচে ২০টি গোল করেছেন। এই পারফরম্যান্সের দৌলতে বর্ষসেরা সাউথ আমেরিকান ফুটবলার হন। সুযোগ পান কোপা আমেরিকার আর্জেন্তিনা দলে। মেসির নেতৃত্বে কোপা জয়ের পর এবার আলভারেজ নিজের সেরাটা উজাড় করে দিতে চলেছেন বিশ্বকাপ জয়ের লক্ষ্যপূরণে।
|
নজরকাড়া ফুটবল
চলতি মরশুমের আগে ১৪.১ মিলিয়ন পাউন্ড ট্রান্সফার ফি দিয়ে রিভার প্লেট থেকে আলভারেজকে নেয় ম্যানচেস্টার সিটি। ডান পা কথা বলে, আক্রমণভাগে যে কোনও জায়গায় খেলতে পারেন। ক্ষিপ্রতার নজির গতকালের ম্যাচেও দেখা গিয়েছে। দ্রুত পাস খেলা, ওয়ান টাচ ফুটবল খেলায় পারদর্শী। লাতিন আমেরিকার ফুটবলে রাফ ট্যাকল সামলে উত্থানের ফলে তাঁর ড্রিবলিং, জটলার মধ্যেও দ্রুত জায়গা খুঁজে বের করে নেওয়ার দক্ষতা তাঁর রয়েছে।
|
মুগ্ধ ফুটবলবিশ্ব
গত বছর বিশ্বকাপের যোগ্যতা অর্জন পর্বে চিলির বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অভিষেক হয় আলভারেজের। মেসির পাশে খেলার স্বপ্নপূরণ তখনই। আনহেল দি মারিয়ার পরিবর্ত হিসেবে ৬২ মিনিটের মাথায় সেই ম্যাচে নেমেছিলেন। চলতি বছরের মার্চে ইকুয়েডরের সঙ্গে ১-১ ড্র করেছিল আর্জেন্তিনা, সেই ম্যাচেই দেশের হয়ে প্রথম গোল আলভারেজের। বিশ্বকাপে প্রথম গোলটি করেন পোল্যান্ডের বিরুদ্ধে। এরপর অস্ট্রেলিয়া ম্যাচেও গোল করেন। গতকাল জোড়া গোল। বিশ্বকাপ চিনিয়ে দেয় ভবিষ্যতের তারকাদেরও। যেভাবে আলভারেজ নিজেকে মেলে ধরছেন তাতে আগামী কয়েক বছর তাঁকে ঘিরে স্বপ্ন দেখাই যায়।












Click it and Unblock the Notifications