বিশ্বকাপে জারি রইল এশিয়ার দলের দাপট, গ্যারেথ বেলের ওয়েলসকে ২-০ গোলে হারাল ইরান
বিশ্বকাপে জারি রইল এশিয়ার দলের দাপট, গ্যারেথ বেলের ওয়েলসকে ২-০ গোলে হারাল ইরান
বিশ্বকাপে দাপট বজায় থাকল এশিয়ার দলের। ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে প্রথম ম্যাচে হাফ ডজন গোলে বিধ্বস্ত হওয়া ইরান দুরন্ত প্রত্যাবর্তন ঘটাল ওয়েলসের বিপক্ষে। ইউরোপীয় ফুটবলের অন্যতম সেরা দেশ ওয়েলসকে ম্যাচের শেষ কোয়ার্টারের নাটকীয় ভাবে ২-০ গোলে পরাজিত করল ইরান। গ্যারেথ বেলের দলের বিরুদ্ধে ইরানের এই জয় বিশ্ দরবারে ফের এক বার প্রমাণ দিল, এশিয়া ফুটবল চোখে চোখ রেখে লড়াই করতে জানে ইউরোপের বিরুদ্ধে।

ইরানের কাছে এই ম্যাচে এক পয়েন্ট হলেও প্রয়োজন ছিল প্রতিযোগীতায় টিকে থাকার লক্ষ্যে, অন্য দিকে অপেক্ষাকৃত দুর্বল প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে ওয়েলসের কাছে জয় দরকার ছিল। প্রথম ম্যাচে আমেরিকার সঙ্গে ১-১ গোলে ড্র করলেও গ্রুপের শেষ ম্যাচ ওয়েলসকে খেলতে হবে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে। সেই ম্যাচে জেতার সম্ভবনা গ্যারেথ বেলের দলের অত্যন্ত ক্ষীণ, নূনতম ম্যাচ ড্র রাখলেও তা জয়ের সমান হবে ওয়েলসের জন্য। এই অবস্থায় ইরানের বিরুদ্ধে তিন পয়েন্ট পেলে প্রি-কোয়ার্টার ফাইনালে পৌঁছন সহজ হয়ে যেত ওয়েলসের জন্য। কিন্তু জেতার লক্ষ্যে নামা ইউরোপের দলটির খেলা পুরো ম্যাচেই নজরকাড়তে ব্যর্থ হয়।
প্রথমার্ধ হোক কিংবা দ্বিতীয়ার্ধ, দুই অর্ধেই ওয়েলসকে খুবই ফ্যাকাসে লেগেছে। গ্যারেথ বেল পুরো ৯০ মিনিট খেললেও এক বারও ওয়েলসের হয়ে তিনি ভয়ঙ্কর হয়ে উঠতে পারেননি বরং একাধিক ক্ষেত্রে ফাইনাল থার্ডে পাস দেওয়ার ক্ষেত্রে ভুল করেন এই তারকা ফুটবলার। ইউরোপীয় দলটির তুলনায় ইরানের খেলা ছিল অনেক বেশি গোছানো সঙ্গবদ্ধ এবং ফোকাসড। ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে যে প্রথম একাদশ খেলেছিল তার থেকে পাঁচটি পরিবর্তন এই ম্যাচের দলে করেন ইরানের কোচ।
ফেভারিট হিসেবে ওয়েলস শুরু করলেও পুরো ম্যাচকে নিয়ন্ত্রণ করে ইরান। প্রথমার্ধে প্রতিপক্ষের জালে বল জড়িয়ে দিয়েছিলেন আলি ঘোলিজাদে কিন্তু অফ সাইডের কারণে বাতিল হয় সেই গোল। দ্বিতীয়ার্ধে ইরান আরও বেশি অ্যাটাকিং ফুটবল খেলে। এই সময়ে তাদের দু'টি শট ফিরে আসে পোস্টে লেগে। প্রথমবার আজমউনের শট ফিরে আসে পোস্টে লেগে এবং ঘোলিজাের আরও একটি শট অল্প সময়ের ব্যবধানে পোস্টে লেগে প্রতিহত হয়।
রেগুলেশন টাইমের শেষ পাঁচ মিনিটে নাটকীয় মোর নেয় এই ম্যাচ। বক্সের বাইরে প্রতিপক্ষের ফরওয়ার্ডকে ফাউল করায় লাল কার্ড দেখেন ওয়েলসের গোলরক্ষক ওয়েন হেনেসি। প্রথমে হলুদ কার্ড দেখানো হলেও ফাউলের ধরণ ভিএআর-এ বিচার করে কার্ড পরিবর্ত করে সরাসরি লাল কার্ড তাঁকে দেখান রেফারি। বাধ্য হয় অ্যারন র্যামসেকে তুলে দ্বিতীয় গোলরক্ষককে নামানো হয়। ওয়েলস দশ জনে হয়ে যাওয়া ফলে মাঠের মধ্যে তৈরি হওয়া ফাঁকা জায়গাকে কাজে লাগাতে শুরু করে ইরান।
এর সুবাদেই অতিরিক্ত সময়ের ৮ মিনিটের মাথায় ইরানকে কাঙ্খিত গোলটি এনে দেন রোজমি চেসমি। অতিরিক্ত সময়ের শেষ মিনিটে চেসমির এই গোল ইরানের জয় নিশ্চিত করে দেয়। তবে, তখনও নাটক বাকি ছিল অতিরিক্ত সময়ের মধ্যেই সময় নষ্ট হওয়ায় রেফারি আরও কিছু মিনিট ম্যাচ খেলান। অতিরিক্ত সময়ের ১০ মিনিটে ওয়েলস ডিফেন্সকে বিধ্বস্ত করে ম্যাচের দ্বিতীয় গোলটি তুলে নেয় ইরান। গোলটি করেন রাইটব্যাক রামিন রেজাইয়ান।
এই জয়ের ফলে প্রি-কোয়ার্টার ফাইনালে যাওয়ার দিকে ইরান অনেকটাই এগিয়ে গেল। শেষ ম্যাচে তারা আমেরকিরা বিরুদ্ধে ড্র রাখতে পারলেও পরবর্তী রাউন্ডে পৌঁছে যাবে এশিয়ার সেরা দল।












Click it and Unblock the Notifications