ফিফা প্রেসিডেন্ট আসছেন ভারতে, কাতারের সঙ্গে মউ নিয়ে কী বলছেন কল্যাণ চৌবে?
ফিফা প্রেসিডেন্ট জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর সঙ্গে বৈঠক, কাতারের সঙ্গে মউ স্বাক্ষর। এআইএফএফ সভাপতি হওয়ার পর থেকেই নবনির্বাচিত টিম নিয়ে ঝড়ের গতিতে এগিয়ে চলেছেন কল্যাণ চৌবে। আজ আইএফএ অফিসে কল্যাণকে সংবর্ধিত করা হলো। তারই ফাঁকে সাংবাদিকদের কল্যাণ জানান, অক্টোবরের শেষেই ফিফা প্রেসিডেন্ট ভারতে আসছেন।
ভারতে আসছেন ফিফা প্রেসিডেন্ট
৩০ অক্টোবর মুম্বইয়ে অনূর্ধ্ব ১৭ মেয়েদের ফিফা বিশ্বকাপের ফাইনাল। সেই উপলক্ষে ওইদিন ভারতে আসছেন ইনফান্তিনো। তিনি শেষবার ভারতে এসেছিলেন ২০১৭ সালে অনূর্ধ্ব ১৭ বিশ্বকাপের সময়। ফাইনালে উপস্থিত ছিলেন সল্টলেকে বিবেকানন্দ যুবভারতীয় ক্রীড়াঙ্গনে। তার আগে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখিও হয়েছিলেন। ভারতীয় ফুটবলের ফিফার নির্বাসনে পড়া, আইনি জটিলতা কাটিয়ে ফেডারেশনে নির্বাচন এবং ফিফা গাইডলাইন মেনে গোটা প্রক্রিয়া চলার পর নির্বাসন ওঠার শাপমুক্তি। তারপরই ফিফা প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বৈঠক সেরে দেশে ফিরেছেন কল্যাণ।

সদর্থক বৈঠক
কল্যাণ চৌবে বলেন, প্রথমে ঠিক ছিল ফিফা প্রেসিডেন্টের সঙ্গে অল্প কিছুক্ষণ কথা হবে। আমি প্রথমেই বলি আমি ভারতীয় ফুটবলের স্বার্থ ছাড়া এখানে ব্যক্তিগত কোনও কথা বলবো না। এরপর কথা গড়াতে গড়াতে অনেক দূর চলে যায়। আমি ওঁকে বলি, আমাদের দেশের মেধা সারা পৃথিবীতে ছড়িয়েছে। হয়ত ফুটবলে আমরা কিছুটা পিছিয়ে আছি । কিন্তু কনফেডারেশন কাপ, ফুটবল বিশ্বকাপের মত টুর্নামেন্টে কেন আমাদের রেফারিরা দেখা যাবে না? অন্তত ৫ জন রেফারি তো ভারত থেকে নেওয়া যেতেই পারে। কল্যাণের দাবি, এ কথা শুনে ইনফান্তিনো সাহায্যের আশ্বাস দিয়েছেন। বলেছেন, দেখবে ভারতের রেফারিদের যেন ভুঁড়ি না থাকে। ম্যাচের আগের দিন প্লেয়াররা খাটবেন আর রেফারিরা আরাম করবেন সেটা যেন না হয়। তাঁদেরও সমান পারদর্শী হতে হবে।
কাতারের সঙ্গে মউ
নভেম্বরে কাতারে শুরু ফিফা বিশ্বকাপ। কাতারের ফুটবল সংস্থার সঙ্গে এআইএফএফ ঐতিহাসিক মউ স্বাক্ষর করতে চলেছে। কল্যাণের কথায়, ওরা প্রকৃতিকে চ্যালেঞ্জ করেছে। গরমে খেলা চলাকালীন স্টেডিয়ামের চেয়ারগুলোতে আরামে খেলা দেখার বন্দোবস্ত হয়েছে, দারুণভাবে ঠান্ডা হাওয়া বেরোচ্ছে। এই ধরনের প্রযুক্তিও আমরা ব্যবহার করব। ইন্টারন্যাশনাল ফ্রেন্ডলি আয়োজনের বিষয়েও ইতিবাচক কথাবার্তা হয়েছে।
আইএফএ-র সংবর্ধনা
এদিন আইএফএ অফিসে কল্যাণ চৌবেকে সংবর্ধনা প্রদান করা হয়। উপহারে ছিল মিষ্টির হাঁড়ি, পাঞ্জাবি, শুকনো খাবার। উপস্থিত ছিলেন চেয়ারম্যান সুব্রত দত্ত, সভাপতি অজিত বন্দোপাধ্যায়, সচিব অনির্বাণ দত্ত-সহ বাকি কর্তারা। সুব্রত দত্ত বলেন, "অতীতে কল্যাণের সঙ্গে আমার ফুটবল নিয়ে একাধিকবার আলোচনা হয়েছে। ওঁর নানা পরিকল্পনা ভীষণই ইতিবাচক। কল্যাণ খুব ঠান্ডা মাথার ছেলে। ধীর,স্থির, পরিণত। বড় গুণ হলো, সবাইকে নিয়ে কাজ করতে চায়। যোগ্য ব্যক্তির হাতেই ফেডারেশনের দায়িত্ব গিয়েছে। আমার বিশ্বাস, কল্যাণের হাত ধরেই ভারতীয় ফুটবলের অগ্রগতি ত্বরান্বিত হবে। আমি বিশ্বাস করি,কল্যাণ দক্ষ প্রশাসক হিসেবে নিজেকে প্রমাণ করবে।" সব ক্লাব যাতে ঘরোয়া টুর্নামেন্ট খেলে রাজ্য সংস্থাগুলির সঙ্গে কথা বলে তা সুনিশ্চিত করার কথাও শোনা গিয়েছে কল্য়াণের গলায়।












Click it and Unblock the Notifications