কেরল ব্লাস্টার্সের মালিকানা কেন ছাড়লেন সচিন তেন্দুলকার, জানেন কি
কেরল ব্লাস্টার্স-সহ আইএসএল-এর ক্লাবগুলি প্রতি বছর গড়ে ২৫ কোটি টাকার ক্ষতি স্বীকার করেছে। সচিন মনে করেন, এটি তার জন্য একটি কার্যকর ব্যবসা নয়।
এই মরসুমের আইএসএল শুরুর মাত্র কয়েকদিন আগেই আইএসএল থেকে সরে গেলেন ক্রিকেট তারকা সচিন তেন্দুলকর। রবিবারই কেরল ব্লাস্টার্স দলের সঙ্গে যাবতীয় ব্যবসায়িক সম্পর্ক ছিন্ন করেছেন তিনি। এর ফলে আইএসএল-এর স্টার কোশেন্ট নিংসন্দেহে একধাক্কায় অনেকটাই কমে গিয়েছে।

তেলেগু ফিল্মস্টার চিরঞ্জীবি, নাগার্জুন, প্রযোজক আল্লু অরবিন্দ ও শিল্পপতি এন প্রসাদ - অর্থাত যাদের হাতে কেরল ব্লাস্টার্স দলের ৮০ শতাংশ শেয়ার ছিল, তাদের কাছেই নিজের হাতে থাকা বাকি ২০ শতাংশ শেয়ার বিক্রি করে দিয়েছেন সচিন।
২০১৪-য় কেরল ব্লাস্টার্স ফ্র্যাঞ্চাইসির জন্মের সময়ে সচিনের হাতে ছিল এর ৪০ শতাংশ শেয়ার পরে ২০১৬ সালে চিরঞ্জীবিদের হাতে সচিন তাঁর থেকে ২০ শতাংশ শেয়ার তুলে দিয়েছিলেন। তাঁর এই হঠাত সরে যাওয়ার ঘোষণায় ভারতীয় ফুটবল মহল বিস্মিত।
কিন্তু এটা কোনও ক্রিকেটারের নেওয়া হঠকারি সিদ্ধান্ত নয়। বরং দীর্ঘ ভাবনা চিন্তা করে নেওয়া ব্যবসায়িক সিদ্ধান্ত। কারণ এই ভেঞ্চারে তাঁর বিশেষ লাভের লাভ হচ্ছিল না।
জানা গিয়েছে এখনও অবধি লোকসানেই চলছে আইএসএল-এর ক্লাবগুলি। এবং কোনরকম লাভের মুখ দেখতে বা লগ্নি করা টাকাটাই তুলতে তুলতে ২০২২ সাল লেগে যাবে বলে আভাস দেওয়া হয়েছে। গত ৪ বছরে আইএসএল-এর ক্লাবগুলির মিলিত শ্রতির পরিমাণ ১০০ কোটি ছাড়িয়েছে।

২০১৭ সালে কেরল ব্লাস্টার্স ক্লাবের ক্ষতির পরিমাণ ছিল ১৫ কোটি টাকা। পাশাপাশি সচিন সম্প্রতি আরও বেশ কয়েক জায়গায় লগ্নি করেছেন। মিজলসেক্স কাউন্টি ক্লাবের সঙ্গে যৌথভাবে তিনি একটি ক্রিকেট অ্যাকাডেমি চালু করেছেন। এই অবস্থায় ব্লাস্চার্স-এর সঙ্গে তিনি আর যুক্ত থাকতে চাইছেন না।
কেরল ব্লাস্টার্স ক্লাবের মালিকানা এখনও অন্য কোনও সংস্থার হাতে তুলে দেওয়ার কোনও খবর নেই। কিন্তু মনে করা হচ্ছে সেক্ষেত্রেও সেই সংস্থা তারা একাধীক মালিকের সঙ্গে দর কষাকষির চেয়ে এক মালিকের সঙ্গেই আলোচনা চালাতে চাইবেন। তার জন্যও এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়ে থাকতে পারে।
ক্লাবের মালিকানা ছেড়ে দিলেও শচিনকে হয়ত এর পরেও ব্লাস্টার্স-এর খেলায় মাঠে দেখা যেতে পারে। তিনি মালিকের ভূমিকা থেকে আবির্ভূত হতে পারেন ব্র্যান্ড অ্যাম্বাস্যাডার হিসেবে। কারণ তাঁর তাতে লাভ বই ক্ষতি নেই। প্রচি ম্যাচে উপস্থিত থাকার জন্য সচিন নেন ১ কোটি টাকা করে। তাছাড়া তিনি তো বলেই রেখেছেন তাঁর হৃদয়ে সবসময় থেকে যাবে কেরল ব্লাস্টার্স।












Click it and Unblock the Notifications