'খারাপ লেগেছে, দুঃখ পেয়েছি, কিন্তু অসভ্যতা করতে চাইনি' দিল্লি থেকে ওয়ান ইন্ডিয়া বাংলাকে বললেন ভাস্কর
দুঃখ চেপে বসেছে মনে। তবু সবকিছু ভুলে ফুটবলের সেবাতেই নিজেকে নিয়োজিত রাখতে চান ভাস্কর গঙ্গোপাধ্যায়। এক্সক্লুসিভ সাক্ষাৎকার প্রতিক্রিয়া দিলেন ওয়ান ইন্ডিয়া বাংলাকে।
দিল্লির জহরলাল নেহরু স্টেডিয়াম জুড়ে তখন গমগম করছে আওয়াজ। সম্বর্ধনা মঞ্চে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী একে একে দেশের বরেণ্য ফুটবলার এবং ফুটবল কোচেদের হাতে তুলে দিচ্ছেন স্মারক সম্মান। সবার প্রথমে প্রধানমন্ত্রীর হাতে পি কে বন্দোপাধ্যায়কে সম্মান জানিয়ে শুরু হয়েছিল অনুষ্ঠান। ঘোষক জানালেন এবার সম্মানিত করা হবে দেশের সর্বকালের অন্যতম সেরা গোলরক্ষক ভাস্কর গঙ্গোপাধ্যায়কে। কলকাতায় বসে টিভি সেটে চোখ সাটিয়ে থাকা বাঙালির মাথায় আচমকাই ব্রজপাতের মতো অবস্থা। কারণ, যে লোকটি ভাস্কর গঙ্গোপাধ্যায় বলে প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে স্মারক এবং শাল নিচ্ছেন তাঁর চেহারার সঙ্গে কোনওভাবেই বাঙালির প্রিয় গোলরক্ষক ভাস্কর গঙ্গোপাধ্যায়ের মিল নেই। অনেকে যাঁরা দীর্ঘদিন ভাস্কর গঙ্গোপাধ্যায়ের চেহারা দর্শন করেননি তাঁরা ভাবছেন তাহলে কি চেহারার মেকওভার ঘটেছে!
কী ভাবে ভাস্কর গঙ্গোপাধ্যায়ের সম্মান অন্য একজনের হাতে গেল তা নিয়েই এরপর থেকে বিতর্কের ঝড় বইতে শুরু করে। জানা যায় ভাস্কর গঙ্গোপাধ্যায়ের নামে যে ব্যক্তি নরেন্দ্র মোদীর হাত থেকে সম্মান নিয়েছেন তিনি মগন সিংহ রিজভি। ইনিও ফুটবলার। রাজস্থান থেকে সিনিয়র জাতীয় দলকে প্রতিনিধিত্বও করেছেন। ১৯৭৩ সালে অর্জুন পুরস্কারও পেয়েছেন। কিন্তু,তিনি কীভাবে ভাস্করের গঙ্গোপাধ্যায়ের নামে থাকা সম্মান ছোঁ মেরে তুলে নিলেন? প্রশ্নের শেষ নেই।

ওয়ান ইন্ডিয়া বাংলা তাই সরাসরি দিল্লিতে যোগাযোগ করেছিল ভাস্কর গঙ্গোপাধ্যায়ের সঙ্গে। সেই কথোপকথনে ভাস্কর যা বললেন--
ওয়ান ইন্ডিয়া বাংলা-- দেশের ফুটবল ইতিহাসে ভাস্কর গঙ্গোপাধ্যায়ের গোলরক্ষা করা একটা কাহিনির মতো। দুঃখ হয়নি এমন ঘটনায়?
ভাস্কর-- খারাপ তো লেগেছেই, দুঃখ হয়েছে। এটা তো স্বাভাবিক। কিন্তু, হইচই করে বা পরিস্থিতিকে অশান্ত করতে চাইনি। যদি এটা করতাম তাহলে এটা অসভ্যতা হয়ে যেত। মানুষ হিসাবে এটা অশোভন। আর যেখানে বিশ্বকাপের মতো মঞ্চ। বিশ্ব ভারতকে দেখছে সেখানে আমার কোনও হইচই খুব একটা ভাল বিজ্ঞাপন হত না।
ওয়ান ইন্ডিয়া বাংলা- ঠিক কী হয়েছিল সম্মান প্রদানের অনুষ্ঠানে?
ভাস্কর-- আমি এবং বদ্রু বন্দোপাধ্যায় অপেক্ষা করছিলাম। দু'জনেই পাশাপাশি দাঁড়িয়েছিলাম। মগন সিং রিজভি আমাদের পিছনেই ছিল। দেখলাম আমার নাম ডাকতেই ধাক্কা মেরে মঞ্চে উঠে গেলেন মগন। প্রথমে একটু থতমত খেয়েছিলাম। অবাকও হয়েছিলাম। কিন্তু, মুহূর্তে বুঝতে পারি বিষয়টা কী হয়েছে। যাঁরা আমাকে দীর্ঘদিন ধরে চেনেন, জানেন তাঁদের মধ্যে অনেকেই সেখানে ছিলেন। তাঁরাও হতবাক। কিন্তু, আমি এই নিয়ে চিৎকার-চেঁচামেচি করতে চাইনি। আমি এবং বদ্রু বন্দোপাধ্যায় গল্পই করছিলাম।
ওয়ান ইন্ডিয়া বাংলা-- পরে আয়োজকরা আপনাকে 'সরি' বলেছিল?
ভাস্কর-- হ্যাঁ, ওই 'সরি' বলেছে। কিন্তু, তা দিয়ে আর কী হবে? গোটা দেশের সামনে সম্মান হাতে তুলে নেওয়ার যে আনন্দ সেটা তো অধরাই থেকে গেল।
ওয়ান ইন্ডিয়া বাংলা-- পরে কি মগন সিং রিজভির নাম ঘোষণা করা হয়েছিল?
ভাস্কর-- যত দূর খেয়াল পড়ছে মগন সিং রিজভির নাম সম্মান প্রাপক হিসাবে ঘোষণা করা হয়নি। তবে, তিনি তালিকায় ছিলেন কি না তা জানি না।

ওয়ান ইন্ডিয়া বাংলা -- মগন সিং রিজভি নিজে এসে পরে কথা বলেছিলেন?
ভাস্কর-- না তিনি তেমন কিছু করেননি।
ওয়ান ইন্ডিয়া বাংলা-- তাহলে আপনার হাতে পরে কীভাবে সম্মান তুলে দেওয়া হল?
ভাস্কর-- পরে আয়োজকরাই প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আমাকে এবং বদ্রু বন্দোপাধ্যায়কে দেখা করিয়ে দেয়। প্রধানমন্ত্রী তখন বেরিয়ে যাচ্ছিলেন। তাঁর সঙ্গে বেশকিছুক্ষণ কথাও হয় এবং তিনি আমাকে এবং বদ্রু বন্দোপাধ্যায়কে স্মারক এবং শাল প্রদান করেন। কিন্তু, এসবই তো ব্য়াকস্টেজে। সকলের সামনে কিছু হয়নি।
ওয়ান ইন্ডিয়া বাংলা-- ফুটবলার হিসাবে দেশকে গর্বিত করেছেন এবং এখনও ফুটবলের উন্নতিতে নিঃস্বার্থভাবে কাজ করে চলেছেন। আক্ষেপ হচ্ছে না বিশ্বকাপের মঞ্চে দাঁড়ানোর সুযোগ পেয়েও তা হাতছাড়া হয়ে গেল ?
ভাস্কর-- সেটা তো স্বাভাবিক। বিশ্বকাপের মতো মঞ্চে সমগ্র দেশবাসীর সামনে দাঁড়িয়ে এমনভাবে সম্মান পাওয়াটা সত্য়িকারে সৌভাগ্যের। এ দুঃখ তো থেকে যাবেই। সবই হল, কিন্তু দেশবাসীর সামনে দাঁড়িয়ে সম্মানটা তো হাতে ধরতে পারলাম না। এই দুঃখ ভুলব কি করে!
ময়দানে বরাবরই ভদ্র এবং সুশীল মানুষ হিসাবেই পরিচিত ভাস্কর গঙ্গোপাধ্যায়। সন্দেহ নেই সেই ভদ্রতার গণ্ডীতেই আটকে তিনি ফের একবার প্রমাণ করলেন তাঁর দেশপ্রেম। দেশের সম্মানকে উঁচুতে তুলে ধরতে একটা সময় যেভাবে গ্লাভস হাতে গোলপোস্টের নিচে দাঁড়াতেন, শুক্রবারও দিল্লির জহরলাল নেহরু স্টেডিয়ামে ফের একবার যেন মুহূর্তের রিফ্লেক্সে দুর্দান্ত সেভ করলেন ভাস্কর। বিশ্বকাপের মঞ্চে তিনি উঠতে পারেননি ঠিকই কিন্তু তাঁর দুর্দান্ত সেভের জন্য বিশ্বমঞ্চের আসরে মান রক্ষা হল ভারতের। এটাই তো বরাবরই করে এসেছেন ভাস্কর। নিজের সম্মান পাওয়ার মঞ্চকে জলাঞ্জলি দিয়ে অনুর্ধ্ব-১৭ বিশ্বকাপে এআইএফএফ-কে এক বিতর্ক থেকে বাঁচালেন তিনি। প্রকৃত দেশপ্রেমিক এই গোলরক্ষককে তাই আজ দেশবাসীর স্যালুট জানানোই উচিত।
-
মমতার হেলিকপ্টারের সামনে উড়ল রহস্যময় ড্রোন, মালদহে উত্তেজনা -
শুভেন্দু অধিকারীর মনোনয়ন ঘিরে অশান্তির ঘটনায় ৩৮ জনকে তলব পুলিশের -
ভোটারদের সুবিধার্থে রাজ্যজুড়ে ৪,৬৬০টি নতুন বুথ তৈরির সিদ্ধান্ত নির্বাচন কমিশনের -
ভবানীপুরে অশান্তির জেরে চার পুলিশ আধিকারিককে সাসপেন্ড নির্বাচন কমিশনের -
'বাংলাকে বৃদ্ধাশ্রম বানাতে দেব না', বাংলার ক্রীড়া পরিকাঠামো নিয়ে প্রশ্ন তুলে উন্নয়নের ডাক লিয়েন্ডার পেজের -
খড়্গপুর সদরের প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন জমা দিলীপ ঘোষের, সঙ্গী শুভেন্দু অধিকারী -
ইরান যুদ্ধের মাঝেই মাথায় হাত শাহবাজ শরিফের, এপ্রিলেই আমিরশাহীকে ৩৫০ কোটি ডলার ঋণ শোধ দিচ্ছে পাকিস্তান -
জ্বালানি সংকট! বাংলাদেশে অফিস ও দোকানের সময় কমানোর পাশাপাশি বিয়ের আলোকসজ্জাতেও বিধিনিষেধ -
বামফ্রন্টের ইস্তেহার প্রকাশ! বিনামূল্যে বিদ্যুৎ, প্রতি পরিবারে স্থায়ী চাকরি সহ একাধিক প্রতিশ্রুতির ঘোষণা বিমান বসুর -
অসম বিধানসভা নির্বাচন ২০২৬: এনডিএ-র বিরাট জয়ের ইঙ্গিত নতুন জনমত সমীক্ষায় -
পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ! পানিহাটির সেক্টর অফিসার অতনু চক্রবর্তীকে সাসপেন্ড করল নির্বাচন কমিশন -
ডেথ ওভারে অনবদ্য বোলিং করে গুজরাতের বিরুদ্ধে জয় পেল রাজস্থান, টেবল শীর্ষে পরাগ বাহিনী











Click it and Unblock the Notifications